যে খবরটা মিডিয়ার কড়া নজরেও মিস হয়ে গেল

0

চলতি বছরের ২৯ আগস্ট রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২০১৫-২০১৬ সালের যে রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে সংবাদ মাধ্যমে সেটি নিয়ে তেমন কিছুই লেখালেখি হয়নি। এমনকি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা নিয়ে যে সাংবাদিকরা খবরাখবর করেন এই রিপোর্টটি তাঁদেরও নজর এড়িয়ে গিয়েছে। ফলে এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাধারণ মানুষের গোচরে আসেনি।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্রকাশিত ওই রিপোর্টের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট সেকসনের এক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতো সংস্থাকে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে কাজ করতে হয়। নতুন ব্যাঙ্ক নোট চালু হওয়ার ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত হবে। নোট নকল বা জালিয়াতিও রোখা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে যা কিছু প্রয়োজনীয়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। নতুন নোট আনার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০১৫-২০১৬ আর্থিক বছরে ব্যাঙ্ক নোট ও খুচরো পয়সার চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে বলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া নকল টাকার রমরমা রুখতে ৫০০ ও ১০০০ টাকা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ দিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গত আগস্ট মাসে তাদের বার্ষিক যে রিপোর্টটি প্রকাশ করেছিল, তাতে কিন্তু বাজারে চালু ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটগুলি ফেরত নেওয়ার পরে নির্দিষ্টভাবে কী লাভ হবে, সে বিষয়ে কিছুই পরিষ্কার করে বলা হয়নি। এদিকে ব্যাপারটা সংবাদ মাধ্যমেরও নজর এড়িয়ে গিয়েছে। ফলত ব্যাপারটি নিয়ে খবরাখবর হয়ইনি।

কিছু প্রসঙ্গ এখন গরম আলোচনার বিষয়। যেমন ধরুন, দায়িত্বে থাকা আরবিআই-এর কোনও কর্মচারীর কাছে আপনি যা জানতে চাইছেন সেবিষয়ে ঠিকঠাক কোনও উত্তর পাবেন না। ওঁরা সোজাসুজি উত্তর না দিয়ে যা জানাবেন - তাও ঘুরিয়ে জানাবেন। অবশ্য তার মানে এটা নয় যে, আরবিআই-এর কর্মীদের সহযোগী মানসিকতার অভাব। আদতে সর্বক্ষণ ওঁদের ভয়, হয়তো তাঁদের মন্তব্য বিকৃত করা হবে। অথবা, সাংবাদিকরা ওঁদেরকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করবেন।

আসলে সাংবাদিকদের কাছে রিপোর্টটা মিস হয়ে যাওয়ার আর একটি কারণ একঘেয়েমির কারণবশত রিপোর্টটি না পড়া। প্রধানমন্ত্রী ৫০০, ১০০০-এর নোট বাতিলের ঘোষণা করার আগে আরবিআই-এর রিপোর্টটি নিয়ে কেউ মাথাই ঘামাননি। এখন দেখা যাচ্ছে, বড় খবরটা মিস হয়ে গিয়েছে।

আরবিআই-এর ওই রিপোর্টে কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট সেকসনে নতুন নোটের প্রসঙ্গটিরও উল্লেখ ছিল। তবে সেই সময় মিডিয়া রিপোর্টটি পড়তে একেবারে আগ্রহ দেখায়নি।

কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট সেকসনে এও উল্লেখ করা হয়েছে, মোট যে পরিমাণ ব্যাঙ্ক নোট সার্কুলেশন হয়েছে তার ভিতর ৫০০ ও ১০০০ নোটের পরিমাণ ৮৬.১ শতাংশ। আর ১০ টাকা ও ৫০ টাকার পরিমাণ ৫৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, জাল নোট প্রসঙ্গে আরবিআই-এর ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছিল, চলতি বছরে মোট ৬ লক্ষ ৩২ হাজার ৯২৬টি ভুয়ো ব্যাঙ্ক নোট সনাক্ত করা গিয়েছে। এর ভিতর ৯৫ শতাংশই সনাক্ত করেছে দেশের বিভিন্ন কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক। বেশির ভাগই ১০০ ও ১০০০ টাকার নোট। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছেন, এ সবের পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে উগ্রবাদীদের।

সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কগুলি সারা বিশ্ব জুড়ে নোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে মিলিতভাবে লড়ছে। নোট জালিয়াতি প্রতিরোধে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে ২০১৫ সালে ভারতও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে নড়চড়ে বসে।

এরপর ২০১৫-২০১৬ আর্থিক বছরে নিরাপদ টাকা বাজারে এসেছে। বিষয়টি এখন ভারত সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। নতুনভাবে নকশা করা নোট ছাড়া হচ্ছে বাজারে।