হার্ভার হাত ধরে বদলে যাবে গ্রামীন ভারত

0

আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেন অজয় চতুর্বেদী। আমার আপনার মতই একটি সাধারণ যুবক অজয়। কিন্তু তাঁর স্বপ্নই তাঁকে আর পাচজনের থেকে আলাদা করে দিয়েছে। ২০১৩ য় ইকোনমিক ফোরাম তাকে সেরা বিজনেস লিডারের সম্মান দিয়েছে। অজয় জানালেন তাঁর সংস্থা হার্ভার সাফল্যের কথা।

অজয় চতুর্বেদী
অজয় চতুর্বেদী

মাইক্রোফাইনান্স সবসময়ই পরিকল্পনার একটা অংশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে শিল্পের অবস্থা অনুযায়ী, অজয় এবং তাঁর টিম তাদের হার্ভা এমপ্লয়ি লোন প্রোগ্রাম এখন পিছনে রেখেছে। হার্ভা সুরক্ষা এখন হার্ভা সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত। এটি আসলে একটি প্রায়-সেভিংস প্রোডাক্ট যা বাজাজ অ্যালিয়াঞ্জের সঙ্গে যৌথ ভাবে গ্রামের মানুষকে মাইক্রো-ইন্সিওরেন্স দেবে। তাঁর সংস্থার বর্তমান অবস্থা বোঝানোর জন্য অজয় বললেন, ‘‘বর্তমানে, হার্ভা ২০টি হার্ভা ডিজিটাল হাট চালায় যার মধ্যে ৫টি হার্ভার নিজের এবং বাকিগুলি ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে। এগুলি ভারতের ১৪টি রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে।" প্রায় ৭০ শতাংশ মহিলাকে কাজ দিয়েছে তাঁর সংস্থা।

প্রতিটি এক্সপিওতে আশপাশের আরও ৩-৪টি গ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। প্রায় ১০০০ বাড়িকে সাহায্য করছে। এবং কর্মচারীরা প্রায় ১,৫০০ টাকা থেকে ১৪,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে। অবশ্য এগুলো নির্ভর করে তারা অন্যান্য প্রজেক্টে যেমন- ফার্মিং, ছাত্র সাহায্য, ইন্সিওরেন্স বিক্রি ইত্যাদি কেমন ভাবে কতটা করতে পারছে তার উপর।

আরও দ্রুত বিস্তারের জন্য হার্ভা পার্টনার মডেল নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করেছে। অন্যদের সঙ্গে তাদের পার্থক্য হল, এখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে টাকা দিতে হয় না। পরবর্তী কালে তিনি এই অর্গানাইজেশনকে সারা ভারতে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চান এবং একইভাবে অন্যান্য দেশেও এই মডেলে নিজেদের শাখা বিস্তার করতে চান।

হার্ভার এক্সপিওগুলি এবং অন্যান্য শাখা তৈরি করার সময় খারাপ পরিচালনা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অজযবাৱুর মূল চ্যালেঞ্জ। মাথা ঠাণ্ডা রেখে সেই বাধা পেরিয়েছেন তিনি। সঙ্গে আরও একটা বিশেষ সমস্যা ছিল, মানুষদের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটানো এবং তাঁদেরকে এগিয়ে আসতে উৎসাহ দেওয়া। অন্যান্য গ্রামীণ বিপিওগুলো থেকে হার্ভা এক্সপিওগুলো একমাত্র একদিক থেকেই আলাদা, যে হার্ভার ভুলই খুবই কম। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অজয় বলেন, ‘‘এই বিশ্বাসযোগ্যতা আসে সুবর্ণ সুযোগ গুলি থেকে, যেগুলি হার্ভা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে। আমাদের মাইক্রো ইন্সিওরেন্সের পরিকল্পনার জন্যে আমরা ৭টি প্রিমিয়াম দিয়ে থাকি । আমাদের ফোকাস সবসময়ই থাকে ইকো সিস্টেমে মূল্যবোধ তৈরি করা।’’

অজয়ের কাজ সারা পৃথিবীতে পরিচিতি ও প্রশংসা লাভ করেছে। ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামও তাঁকে বিশেষ ইয়ং গ্লোবাল লিডারের সম্মান দিয়েছে। সম্প্রতি আমস্টারডাম স্কুল অব ক্রিয়েটিভ লিডারশিপ থেকে তাঁকে দুনিয়ার ৫০ জনের মধ্যে একজন অন্যতম ক্রিয়েটিভ লিডার বলে চিহ্নিত করেছে। অজয় বলছেন যেটা ফেসৱুক করেছে একশ কোটি মানুষের সঙ্গে, সেটাই গ্রামীণ ভারতে করতে চান তিনি।