একটি পাসেই সবধরণের ফিটনেস অ্যাকটিভিটি, বাজারে আনল হবিক্স

0

আধুনিক শহুরে জীবনে ক্রমেই গুরুত্ব বাড়ছে শরীরচর্চা কেন্দ্র বা জিমের, পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে উঠছে ফিটনেস সেন্টার। তবে অনেক ক্ষেত্রেই থাকেনা উপযুক্ত ট্রেনার বা সঠিক পরিকাঠামো, আবার একটি সেন্টারে সবরকমের সুযোগ পাওয়াও বেশ দুষ্কর। তাই বাৎসরিক গ্রাহকপদ গ্রহণের পর কয়েক মাসেই উৎসাহ হারান অধিকাংশ গ্রাহক।

খানিকটা এইরকমই সমস্যায় পড়েছিলেন হায়দ্রাবাদের রজত জৈন, জানালেন “যে জিমটির বাৎসরিক গ্রাহকপদ নিয়েছিলাম সেখানে আমার অভিজ্ঞতা মোটেই ভাল ছিলনা। সারা বছরে সব মিলিয়ে দু’মাসও গেছি কি না সন্দেহ। প্রথম কয়েক সপ্তাহের পর থেকেই ট্রেনাররা চাইছিল আমি তাঁদের ব্যক্তিগত ট্রেনার হিসেবে নিয়োগ করি, তা না করায় ব্যবহার খারাপ হতে শুরু করেছিল। তারপর থেকে তাঁদের আর পাত্তাই পাওয়া যেত না, আমিও তাই উৎসাহ হারাচ্ছিলাম”। তাই বাৎসরিক গ্রাহকপদের মেয়াদ ফুরোতেই কোন্দাপুর এলাকাতে নতুন জিম খুঁজছিলেন রজত। সেইমতোই জাস্ট ডায়ালে ফর্ম পূরণ করে পাঠিয়েছিলেন। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ফোন আসে হবিক্সের কর্ণধার যতীন বনসলের কাছ থেকে। যতীন, মাসিক ফিটনেস পাস সম্পর্কে জানান রজতকে, বলেন এই পাস নিয়ে সারা শহরের ১২০টি শরীরচর্চা কেন্দ্রে নিজের সুযোগ সুবিধা মতো যেতে পারবেন গ্রাহক। মুহূর্তেই রাজি হয়ে যান রজত।

“২০০০ টাকারও কমে আমি এতকিছু সুবিধা পাচ্ছি, জুম্বা বা সাঁতার যেগুলো আমি কোনওদিনও করিনি সেগুলোও আমি চেষ্টা করে দেখতে পারি, এর থেকে ভাল আর কী হতে পারে!” বললেন রজত।

শুরুর ভাবনা

বছর দুয়েক আগে রজতের মতো একই সমস্যায় পড়েছিলেন যতীন নিজে। বুঝছিলেন প্রচুর টাকা দিয়ে কোনও জিমের বাৎসরিক সদস্যপদ নেওয়ার কোনও মানেই হয়না। কারণ তিনি তার উপযুক্ত ব্যবহার করতে পারবেন না।

“ইউএস-এর ক্লাসপাসের বিষয় আগেই শুনেছিলাম, কিন্তু ওদের নানা নিয়ম রয়েছে, যেমন একটি ট্রেনিং সেন্টারে নির্দিষ্ট সংখ্যক বারই যাওয়া যাবে, ইত্যাদি, কিন্তু ভারতের ফিটনেস সমস্যার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকরী হবে না, তাই হবিক্সের ক্ষেত্রে সেরকম কোনও বিধিনিষেধ না রাখার সিদ্ধান্ত নিই আমরা,” জানালের যতীন।

যতীনের পড়াশোনা আইআইটি-দিল্লিতে, তাঁর বন্ধু অভিষেক ভাটিয়া পাশ করেছেন এনআইটি, কুরুক্ষেত্র থেকে। জুন, 2014 পর্যন্ত দুজনেই হবিক্সের কাজ করতেন আংশিক সময়। কিন্তু বুঝতে পারছিলেন পুরো সময়টাই হবিক্সে না দিলে ব্যবসাকে সঠিকভাবে শুরু করা সম্ভব নয়।

নিজেদের উদ্যোগের ভবিষ্যত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে গিয়ে যতীনরা দেখেন ভারতে যাঁরা জিমে বাৎসরিক গ্রাহক হন তার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নিয়মিত ক্লাস করেন। আর এই জন্যই যে জিমে ১০০০ জন মানুষের জায়গা রয়েছে তারা ৪০০০ গ্রাহক সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। এই পরিসংখ্যান আত্মবিশ্বাস যোগায় যতীনদের।

“একজন গ্রাহক রোজ একই জিনিস করতে করতে উৎসাহ হারান, জিমে যাওয়া একঘেয়ে হয়ে ওঠে। আর এটাই আমরা বদলাতে চেয়েছিলাম। আমরা চাইছিলাম গ্রাহক প্রতিদিন যাতে নতুন কিছু করার সুযোগ পায়। বিষয়টি যাতে তাঁর কাছে আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে,” বললেন যতীন.

যতীন ও অভিষেক দু’জনই চাকরি ছেড়ে জুন মাসের ১৯ তারিখে হবিক্সের আনুষ্ঠানিক লঞ্চ করেন।

হবিক্সের বিশেষত্ব

হবিক্স ক্রেডিট ভিত্তিক মাসিক পাস। একটি পাসের দাম ১৯৯৯ টাকা, যাতে রয়েছে ৩০টি ক্রেডিট। এই ক্রেডিটের সাহায্যে হায়দ্রাবাদ শহরের ১২০টি কেন্দ্রের ৩০০টি অ্যাকটিভিটি থেকে বেছে নেওয়া যাবে নিজের পছন্দের অ্যাক্টিভিটি।

“বেশিরভাগ সাধারণ জিমের অ্যাকটিভিটির জন্য প্রয়োজন একটি ক্রেডিট কিন্তু বিশেষ ফিটনেস স্টুডিও যেমন যে সমস্ত স্টুডিওতে টলিউডের অভিনেতারা আসেন সেখানে তিনটি ক্রেডিট প্রয়োজন। ক্রেডিটকে নিজের সুবিধা মতো যেভাবে খুশি ব্যবহার করা যেতে পারে,” জানালেন যতীন।

ক্রেডিট পাওয়ার পর গ্রাহক অনলাইনে নিজের পছন্দ মতো ক্লাস বুক করতে পারেন। বুকিং হয়ে গেলে গ্রাহকের যোগাযোগ ইত্যাদির বিবরণ মেসেজ করা হয় ক্লাসের ইন্স্ট্রাক্টরকে। ক্লাস শুরুর পাঁচমিনিট আগে পর্যন্ত বুকিং-এর সুযোগ রয়েছে। যোগ, জিম, সাঁতার, নাচ, বক্সিং সবকিছুর ক্লাসই বুক করা যায় এই পাস দিয়ে। একদিনে পাসও বিক্রি করে হবিক্স।

বাজার ও প্রতিযোগী

২০১৫ তে ভারতের ফিটনেস বাজার ১০০ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছবে এবং তা প্রতিবছর ২০-২৫ শতাংশ CAGR হারে বাড়ছে। এই বাজারের বেশিরভাগটাই অসংগঠিত এবং নিয়মিত গ্রাহক সংখ্যা কম। ফিটনেসপাপা, জিমার, জিমপিক ইত্যাদি বেশ কয়েকটি স্টার্টআপ ব্যবসা শুরু করেছে। এরা কেউই প্রতি মাসে, প্রতি স্টুডিওতে তিন থেকে চারবারের বেশি গ্রাহক পাঠাতে পারে না।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা

প্রথম একমাসে হবিক্সের মাধ্যমে ৭০০রও বেশি ক্লাস বুক হয়েছে। “ভবিষ্যত সম্পর্কে আমরা খুবই আশাবাদী, হায়দ্রাবাদে আমরা আমাদের নেটওয়ার্ক আরও বাড়াচ্ছি এবং পরবর্তী কয়েকমাসে অন্যান্য মেট্রোগুলোতেও কাজ শুরু করব।চালু করা হবে লাইফস্টাইল মেম্বারশিপ কার্ড, যার সাহায্যে রান্না, ফোটোগ্রাফি বা নাচ যেকোনও ক্লাসই বুক করা যাবে,” জানালেন যতীন।