শান্তিনিকেতনের দীপা এখন টেকনোক্র্য়াট

দীপা ইংরেজি সাহিত্য়ের ছাত্রী। ইংরেজিতে চোস্ত। পাশাপাশি তুখোড় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজেও। এরকম আজব মিলের একটা রহস্য আছে। শুনুন সেই মজার গল্প।

0

কালিকটের মেয়ে দীপা পত্তঙ্গড়ি। পড়াশুনোয় মোটামুটি ভালই ছিলেন। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে খুব একটা ভালো ফল হয়নি। বাবা মা জোর করে মেয়েকে নিয়ে যান এক জ্যোতিষের কাছে। জ্যোতিষ বাবাজি বাতলে দেন দীপার নাকি কম্পিউটার ছা়ড়া গতি নেই। কিন্তু মেয়ের জিদ। পড়বেন ইংরেজি সাহিত্য। পড়লেনও তাই। ভর্তি হলেন শান্তিনিকেতনে। কিন্তু বিএ পাস করে বেরিয়ে দেখলেন, এ বড়ো কঠিন ঠাঁই। চাকরির বাজারে মন্দা। বন্ধুরা কম্পিউটার শিখছে। একরকম হুজুকে পড়েই জিএনআইআইটির কোর্সে ভর্তি হন দীপা। সেই শুরু। সেটা ছিল ২০০০ সাল। লোকে বলবে জ্যোতিষের কথাই তাহলে ঠিক হল। কিন্তু দীপা দেখিয়ে দিলেন তাঁর উদ্যোম সাহস আর ধৈর্যের নমুনা। এখন সে এক সফল ইন্সট্রাকশনাল ডিজাইনার।

তিন বছরের জিএনআইআইটি কোর্স চলাকালিন দীপার বন্ধুরা বলতেন ওকে নাকি ল্যাব থেকে বেরই করা যেত না। প্রোগ্রামিংয়ের ভাষার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন দীপা। কোর্স থেকে বেরিয়েই কালিকটে এনআইআইটি-র প্রশিক্ষক হয়ে গেলেন তিনি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরের উড়ান ব্যাঙ্গালুরু। দীপার জীবনে বিগ ব্রেক। ইন্সট্রাকশনাল ডিজাইন ফ্যাকাল্টি হিসাবে চাকরি পেলেন ওরাকেলে। তথ্য প্রযুক্তিতে এন্টারপ্রাইজ এবং অ্যাপ্লিকিশন লেভেল সলিউশনের প্রতি আকর্ষণের সঙ্গে দীপার মেধার মিশেল তাঁকে পৌঁছে দিল ভিএমওয়্যার, ক্লাউড-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির জগতে। পরবর্তীকালে কনসালটেন্ট কোর্সওয়্যার ডেভলপার হয়ে ইউক্যালিপটাস সিস্টেমে যোগ দেন। পরে সে কাজ ছেড়েও দেন। এখন সে এক স্বাধীন দক্ষ প্রশিক্ষক।


দীপা নানান পদ্ধতিতে কোর্স ডিজাইন করেন। আরও একটা জিনিসকে খুবই গুরুত্ব দেন দীপা। কোনও কাজ নিখুত না হওয়া পর্যন্ত শক্ত চোয়ালে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোম যা ওঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আর এই শক্তি দীপা পেয়েছেন ওঁর বাবার কাছ থেকে।

ছোটো থেকেই আধুনিক শিক্ষায় বড় হয়ে উঠেছেন দীপা। কম বয়স থেকেই সাহসী ও স্বনির্ভর হতে শিখেছেন। বাবা টিস্কোয় কাজ করতেন তাই বড় হয়েছেন জামসেদপুরে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল সেখানে সাবাই ওদের দক্ষিণ ভারতীয় বলতেন। আবার যখন গেছেন কেরলে সেখানে সবাই ওঁদের উত্তর ভারতীয় হিসাবে দেখত। তাতে কী, দীপা এমন এক আধুনিক ভারতীয় যে বাধা বিপত্তি টপকে আজও এগিয়ে চলেছেন। স্বাধীন ভাবে। আর ওর চলার পথে সবথেকে স্মরণীয় মানুষটি ওর সত ও পরিশ্রমী বাবা।

তিনি সততার মূল্যবোধের কথাই শিখিয়েছেন দীপাকে। দীপা জানেন, সত থাকলে মাথা যেমন উঁচু থাকে তেমনই আঘাতও পেতে হয়। কিন্তু শেষদিন পর্যন্ত আপনার কাছে সবাই আসবে পরামর্শ নিতে। হয়তো আর পাঁচজনের মতো দীপা ইঁদুরদৌড়ে নেই। জীবনে যে কয়েকজন তাঁর উপর প্রভাব ফেলেছেন সেই তালিকার শীর্ষে আছেন জে আর ডি টাটা, তাঁর বাবা, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং লেখিকা শেরিল স্যান্ডবার্গ।

জামসেদপুরে বড় হয়েছেন তাই জে আর ডি টাটার প্রচ্ছন্ন প্রভাব না হয় অনস্বীকার্য। কিন্তু জেফ বেজোসকে সম্মান করেন কারণ জেফই ক্লাউড প্রযুক্তি এনে গোটা দুনিয়ার ছোট বড় অসংখ্য সংস্থার খরচ একধাক্কায় কমিয়ে দিয়েছেন।

বিশ্বাস, প্রযুক্তিপ্রেমের সঙ্গে সাহিত্যের সেতু তাঁর প্রিয় লেখিকা শেরিল কারণ শেরিলের লেখায় ও প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা খুঁজে পায়।