কৃষ্ণনগর চায় সরপুরিয়া, সরভাজার GI স্ট্যাটাস

0

নদিয়া এলে কৃষ্ণনগরের মিষ্টি চেখে দেখেননি এমন লোক পাওয়া মুশকিল। বিশেষ করে সরপুরিয়া, সরভাজা তো মাস্ট। এই মিষ্টি জুটিকে কেন্দ্র করে কত রসালো গল্প উঠে এসেছে কবি-সাহিত্যিকদের কলমে। খাদ্যরসিকদের আহা, উহু,দূরে থেকে স্বাদ মিস করার আকুতি-আরও কত কী। কৃষ্ণনগর মানে সরভাজা, সরপুরিয়ার এক শোভন-স্বাদের গল্প। এই মিষ্টিযুগলের ইতিহাস ৫০০ বছরের পুরনো। এখনও যার সেই আবেদন অম্লান। গর্বের সেই সরভাজা, সরপুরিয়াকে আর মামুলি করে রাখলে চলবে না। কৃষ্ণনগর মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতি সরকারি স্বীকৃতি চায়। এই মিষ্টিগুলিকে জিআই তালিকাভুক্ত করতে কুটির শিল্প ভবনে আবেদনও জমা দিয়েছেন তাঁরা।

‘কত ঐতিহ্য বয়ে চলেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের এই সরভাজা, সরপুরিয়া। জেলার গর্ব ঐতিহ্যের এই স্বাদ-আয়োজন এবার স্বীকৃতি পাক সরকারের। এই আবেদন জানিয়ে রাজ্যের কুটির শিল্প দফতরের দ্বারস্থ হয়েছে কৃষ্ণনগর মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতি’, জানালেন জেলার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি তাপস দাস।

শ্যপাঁ, দার্জিলিং যদি সেই এলাকার নামে পরিচিত হতে পারে তবে সরপুরিয়া সরভাজায় আপত্তি কোথায়!

দুধের পুরু সর তাঁর সঙ্গে ছানা, চিনির মিশেল। স্বাদ বাড়াতে সঙ্গতে হাজির পেস্তা, বাদাম, এলাচ। সব ঠিকঠাক ভাবে মিশিয়ে, সঠিক মাপে কেটে তারপর ঘিয়ে ভেজে নিলেই তৈরি জিভে জল আনা সরভাজা , সরপুরিয়া। সেই স্বাদের আহ্লাদ উপভোগ করতে সব সময় নদিয়ার কৃষ্ণনগরের বিভন্ন মিষ্টির দোকানে উপচে পড়ে ক্রেতাদের ভিড়। ঐতিহ্যের মিষ্টি ঘিরে রমরমা ব্যবসা। এই শহরের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন মিষ্টির দোকান। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হল অধর চন্দ্র দাসের মিষ্টির দোকান । ‘দাদু, বাবা-কাকাদের আমল থেকে ১১৬ বছরের পুরনো ব্যবসা আমাদের। একই মান ধরে রেখেছি। সেদিন যেমন স্বাদ ছিল আজও তেমন। মিষ্টির দাম ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে রেখেই মিষ্টির গুনমান বজায় রেখেছি’, সগর্বে বলেন বর্তমান কর্ণধার গৌতম দাস।

এমন হাজারো ইতিহাসের সাক্ষী অনেক শতাব্দী প্রাচীন মিষ্টির দোকান গোটা জেলাজুড়ে ছড়িয়ে। ইতিহাস আছে । বর্তমানও বহাল । ৫ শতক পেরিয়েও সরভাজা,সরপুরিয়ার অমোঘ টানে জিভে জল আসা অনিবার্য । রসিকজনের ভালবাসা পেয়েছে । এবার চাই সরকারি স্বীকৃতি । দাবি বলতে এটুকুই । সরকারের ঘরে আবেদন জমা পড়েছে। এখন শুধু সিদ্ধান্তের অপেক্ষা । সিলমোহর পড়েগেলে ইতিহাসের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে নদিয়ার এই সরভাজা-সরপুরিয়া জুটি।