বাংলার <পতাকা> একটি প্রোগ্রামিংয়ের ভাষা

1

একটা সময় ছিল নদীমাতৃক বাংলায় সব বালকই প্রেমে পড়ার আগে পরে কবিতা লিখত। অঙ্ক খাতার পিছন পাতায় লতায় পাতায় গাছের আড়াল করা চকচকে নাকছাবির বনলতা সেনের প্রতিবিম্ব আঁকত। সৃজনশীল এই জাতির প্রায় সব বালিকাই বইয়ের ভাঁজে প্রেমাস্পদের নাম লিখে হৃদয়ের চিহ্ন এঁকে অর্জুনের লক্ষ্যভেদী তীর দিয়ে এঁকে রাখত গোপন কথাটি। কেউ কেউ ঠোঁটের লিপস্টিকের ছাপ তুলে রাখত সাদা পাতায়। বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে কোনও কোনও শীতের দুপুরে ঝরঝর করে দুচোখে বান ডাকত আবেগের। কবিতা উপন্যাস নাট্য-চিত্রে বিশ্বের দরবারে বারংবার কুর্নিশ আদায় করা এই মধুর ভাষায় কেউ কখনও কি ভেবেছিল প্রোগ্রামিংও করা যাবে!

বাংলাদেশের এক যুবক সেই কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন। ইকরাম হোসেইন। প্রোগ্রামিং শেখানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করেছেন এই কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ। নাম পতাকা। ইকরাম পেশায় সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। কাজ করেন টেলেনর হেলথ সংস্থায়। বলছিলেন তিনি যখন প্রোগ্রামিং শিখছিলেন Daffodil International University (DIU)-তে সেই সময় বিস্তর অসুবিধে হত। প্রথমত হত ভাষার সমস্যা। কোডিংয়ের জন্যে যেমন যুক্তির ক্রম সাজানো প্রয়োজন হয় তেমনি জানতে হয় ইংরেজিটাও। সেই থেকেই ভাবতেন শিক্ষার্থীদের জন্যে মাতৃভাষায় প্রোগ্রামিং করতে পারাটা সম্ভব হওয়া উচিত। কারণ শুধু ইংরেজি বুঝতে না পাড়ার জন্যে প্রোগ্রামিংয়ে ভয় পান অনেক ছাত্রই। তাদের জন্যেই তৈরি করা হয়েছে। বাংলায় এটিই প্রথম সফল প্রয়াস।

ইংরেজি যাদের মাতৃভাষা নয় সেরকম বেশ কয়েকটি দেশেই নিজস্ব প্রোগ্রামিং ভাষা রয়েছে। যেমন— ফ্রান্স, চীন এবং জাপানে আছে নিজস্ব প্রোগ্রামিং ভাষা। এবার বাংলাতেও লেখা যাবে প্রোগ্রাম। ইকরামের ছোট্ট টিমে রয়েছেন তাঁর দুই সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু, ওসমান গনি নাহিদ এবং রাকিব হাসান অমিয়।

ভাষাটিকে নিয়ে আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। এখনও পর্যন্ত নিখুঁত এই পতাকা ভাষায় আপনি আস্ত প্রোগ্রাম লিখে ফেলতে পারবেন। ওদের ওয়েবসাইটে গেলে দেখতে পাবেন গেম ডেভেলপ করার অবকাশও আছে বাংলা এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের মারফত। আর পতাকার হাত ধরে বাংলাদেশে রীতিমত জলভাত হয়ে যাবে প্রোগ্রামিং। ফলে সেদিন দূরে নয় বাংলা ভাষাতেই শুধু প্রোগ্রামিং করবে বাংলাদেশ।

Related Stories