নদিয়ার অনিল দাসের বাজনা বাজে প্যারিসে, রোমে

0

স্বপ্ন সব মানুষই দেখে। তবে সেই স্বপ্ন তাদেরই পূরণ হয় যারা ইচ্ছাশক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারে। যেমন পেরেছিলেন নদিয়ার অরনঘাটার অনিল দাস। পৈত্রিক বাদ্যযন্ত্র তৈরির ব্যবসাকে দেশ বিদেশে প্রসার ঘটাতে চেয়েছিলেন ছোট বয়সেই। আর তা করেও দেখিয়েছেন। আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালির বাজারে ব্যপক চাহিদা অনিল বাবুর বাদ্যযন্ত্রের। বিশেষত লোকসঙ্গীতের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় দেশ ইতালিতে প্রচুর চাহিদা অনিল বাবুর দোতারা, একতারা, দুক্কি, আনন্দ লহরির।

বাবা গঙ্গাচরন দাসের কাছ থেকে বাদ্যযন্ত্র তৈরির হাতেখড়ি। সেই সময় নদিয়া সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ঢাকের চাহিদা ছিল প্রচুর। বিশেষত পুজোর আগে কয়েক হাজার অর্ডার আসতো । তার সঙ্গে নাল, ডুগি –তবলাও বিক্রি হতো। তবে এই ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেলেন গঙ্গাচরন বাবুর ছেলে অনিল দাস। নিজেই কাঠ দিয়ে বাদ্যযন্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া শিখে নিলেন। নিজস্ব ৩ কাঠা জায়গায় তৈরি করলেন কারখানা। সেখানেই নিজের হাতে তৈরি করেন কাঠের তৈরি সমস্ত বাদ্যযন্ত্র। এরফলে অন্যদের থেকে তুলনামূলক কম দামে বাদ্যযন্ত্র সরবরাহ করতে পারেন।

অনিল বাবুর বাদ্যযন্ত্র আস্তে আস্তে জেলা ছাড়িয়ে কলকাতার মার্কেটেও জায়গা করে নিয়েছে। শুধু তাই নয় পার্শ্ববর্তী কয়েকটি রাজ্যেও তার বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপক চাহিদা। আবার ছোট বেলার স্বপ্ন পূরণের লক্ষে পা ফেললেন অনিল বাবু। আন্তর্জাতিক মার্কেটে তার বাদ্যযন্ত্র বিক্রির জন্য ভাই সুশীল দাসকে নিয়ে তৈরি করলেন একটি প্রতিষ্ঠান। নাম দিলেন G.D.& SONS SHOP । প্রথমে যারা এক্সপার্ট ইম্পোর্ট ব্যবসা করেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। এদের হাত ধরেই বিদেশের বাজারে যেতে লাগলো অনিল বাবুর হাতের তৈরি কাঠের বাদ্যযন্ত্র। কিন্তু ২০০১ সালে লক্ষ্মী তার ঘরে এসে ধরা দিল। লোকসঙ্গীত অন্যতম পীঠস্থান ইতালি। আর এখানেই তার কারখানায় তৈরি অন্যতম লোকসঙ্গীত বাদ্যযন্ত্রগুলির চাহিদা বাড়তে থাকে । এখন প্রচুর পরিমাণে দোতারা, একতারা, দুক্কি, আনন্দ লহরি ইতালিতে চলে যাচ্ছে।

বেশ কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে দিন রাত এক করে অনিল বাবু বাদ্যযন্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত। বিভিন্ন ডিষ্টিবিউটাররা অনিল বাবুর G.D.& SONS SHOP থেকে বাদ্যযন্ত্র কিনে ব্যবসা করছেন। যে স্বপ্ন অনিল বাবু দেখেছিলেন তা আজ অনেকটাই সফল। আগামী দিনে ভাবনা রয়েছে নিজস্ব ওয়েবসাইড খুলে ব্যবসা আরও প্রসার ঘটাতে। এর পাশাপাশি অনলাইনে অর্ডার নেওয়াও চালু করবেন বলে ঠিক করেছেন।