TVC-তে ব্র্যান্ডের চাহিদা মেটাচ্ছে সিলভারপুশ

0

ধরা যাক বাজারে নতুন কোনও গায়ে মাখার সাবান আসতে চলেছে। উৎপাদক সংস্থা চায় সেই সাবান সমাজের সব শ্রেণির কাছেই জনপ্রিয় হোক। জনপ্রিয়তা পেতে গেলে সবার আগে জনসাধারণের কাছে পৌঁছন দরকার। এখন জনসাধারণের কাছে প্রোডাক্টের গুনাগুণ তুলে ধরার প্রধান উপায় মার্কেটিং ক্যাম্পেন। সেই কাজে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার টেলিভিশন কমার্শিয়াল (TVC). টিভিতে চলা বিজ্ঞাপন গ্রাহককে কতটা প্রভাবিত করছে বা আদৌ করছে কিনা, সেটা জানা খুবই জরুরি। সেই কাজটাই করে গুরগাঁওয়ের সংস্থা সিলভারপুশ (SilverPush). উপভোক্তাদের সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস, আয়, রুচি, ভৌগোলিক অবস্থান ইত্যাদির মধ্যে অনেক ফারাক থাকে। সেইসব তথ্য বিশ্লেষণ করে TVC-র প্রভাব বিশ্লেষণ করে সিলভারপুশ। ফলে বিজ্ঞাপনদাতার কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

কথা হচ্ছিল সিলভারপুশের কো-ফাউন্ডার তথা সিইও হীতেশ চাওলার সঙ্গে। তিনি বললেন,"কোনও TVC সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সাড়া ফেলবে কিনা তা আমাদের মাধ্যমে বুঝে নিতে পারে ব্র্যান্ডগুলি। একটা সেলস সাইকেল বা বিক্রয়পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত আমাদের ক্লায়েন্টরা অপেক্ষা করতে রাজি নন। বিপণন, প্রচার কতটা কাজে এল তা তারা সঙ্গে সঙ্গে জানতে চান। এই জানানোটাই আমাদের কাজ।" অফলাইন এবং অনলাইন বিজ্ঞাপনের মধ্যে যে ফারাক সেটাও কাটানোর চেষ্টা করে সিলভারপুশ। সেইসঙ্গে বোঝার চেষ্টা করা হয় গ্রাহক ঠিক কী চাইছেন, কেন চাইছেন।


SilverPush-র শুরুর দিনগুলো

মসৃণ শুরু বলতে যা বোঝায় সিলভারপুশের ক্ষে্ত্রে তা হয়নি। টাকাপয়সার যোগান নিজেদেরই করতে হয় বলে জানালেন হীতেশ। কপাল খুলল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ স্টার্টআপের তালিকায় জায়গা পেল সিলভারপুশ। এরপর আগ্রহ দেখাতে শুরু করলেন লগ্নিকারীরা। মিলল ৮ কোটি টাকারও বেশি 'প্রি-সিরিজ এ' ফান্ডিং। লগ্নি এল জাপানের একটি ফান্ড, M&S Partners, IDG Ventures ও 500 Startups থেকে। বাকিটা পরিশ্রম আর উদ্ভাবন। আর ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

টিভিসি থেকে প্রতিদান বৃদ্ধি কীভাবে?

যে কোনও লগ্নির পিছনেই থাকে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (RoI)-র বিষয়টি। অর্থাৎ কত দিয়ে কতটা পেলাম। টিভিসি চলার নির্দিষ্ট সময়কালীন সোশ্যাল ও সার্চ কনভারসেশনসের সংখ্যার ভিত্তিতে RoI নির্ধারণ করা হয়। যদিও বিজ্ঞাপনদাতারা মিডিয়া প্ল্যানিং করে থাকেন মূলত রিচ (বিস্তার) ও টার্গেট অডিয়েন্সের (সম্ভাব্য গ্রাহক) দিকে লক্ষ্য রেখেই। সিলভারপুশ এরসঙ্গে জুড়ে দিয়েছে অনলাইন ট্রাফিক (যার মধ্যে রয়েছে ট্যুইট, ইন্সটল, ওয়েব ট্রাফিক), বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থার প্রতিদ্বন্দ্বীদের টিভি স্ট্র্যাটেজি, টিভি ও ডিজিট্যাল মিডিয়ায় কমপ্যারিসনের মতো বিষয়। সব ধরনের টিভিসি ডেটা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সিলভারপুশ। এরপর তা ডিজিট্যাল মিডিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলছে তা নির্ধারণ করা হয়। বিজ্ঞাপন এমনভাবে সিনক্রোনাইজড করা হয় যাতে টিভি ও মোবাইলে একই সময়ে তা দেখান যায়। ফলে বিজ্ঞাপনদাতার কাছে পুরো ছবিটাই স্পষ্ট হয়ে উঠে।

সিলভারপুশের লক্ষ্য

ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস (FMCG), ক্লাসিফায়েড ও ই-কমার্স সেক্টরে ভারতে এখন দেড়শোর বেশি ক্লায়েন্ট রয়েছে সিলভারপুশের। ক্লায়েন্টের মধ্যে রয়েছে Google, Nestle. ভারতের বাজার ছাড়িয়ে এবার বিশ্বজুড়েও ব্যবসার সম্প্রসারণ করতে চায় সিলভারপুশ। টিভিসি স্লট কেনার জন্য Build programmatic TV for India গড়ে তুলেছে সংস্থা।

বাজারে প্রতিযোগিতা ও সম্ভাবনা

কয়েকজন বাজার বিশেষজ্ঞের অভিমত, বর্তমানে ভারতে TVC-র বাজার খুব কম করে হলেও ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি টাকার। যা ২০১৯ সাল নাগাদ ছাড়িয়ে যেতে পারে ৯০০ বিলিয়ন বা ৯০ হাজার কোটি টাকার গণ্ডী। আর বিশ্বজুড়ে TVC-র বাজার ১৭৫ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা)। ২০১৯ সালে কয়েকগুণ বেড়ে তা দাঁড়াবে ২ হাজার বিলিয়ন ডলার বা এক কোটি কুড়ি লক্ষ কোটি টাকা। ভারতে এই মুহূর্তে সরাসরি কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই সিলভারপুশের। তবে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় একই ধরনের কাজ করে থাকে এমন কয়েকটি সংস্থাও রয়েছে, যেমন TAM, BARC. ওইসব সংস্থা TVC-র রিচ (বিস্তার) ও টার্গেট অডিয়েন্সের (সম্ভাব্য গ্রাহক)হিসাবনিকাশ করে থাকে। যদিও সেটা একেবারেই আলাদা বিষয়। আর আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় সিলভারপুশকে লড়াই করতে হয় ispot.tv (যা সম্প্রতি ১১ মিলিয়ন ডলার লগ্নি হিসাবে পেয়েছে)ও wywy-র সঙ্গে।

লেখা - অপরাজিতা চৌধুরী