অনেক কিছুই বদলে দেবে Bot Stores

0

ছিল শর্ট মেসেজ সার্ভিস। খেয়ালি চাহিদায় সেখানে জুড়ল ছবি। তাতেও মন ভরে না। চ্যাট করার সুযোগ এল। ফটো, ভিডিও শেয়ার করার ব্যবস্থাও হল। তবু আরও, আরও চাই। শুধু টেক্সট, ছবিতেই খুশি নয়, জেন ওয়াই। তারা ফ্রি কলিংয়ে থেমে থাকতে চায় না, তাদের দরকার ফ্রিতে কনফারেন্স। মোবাইলের কন্ট্যাক্ট নাম না থাকলেও মেসেজিং অ্যাপে একটা ছোঁয়ায় যেন তার নাম পাওয়া যায়। বদলে যাওয়া চাহিদা বুঝিয়ে দিচ্ছে তথাকথিত মেসেজিং অ্যাপস নিয়ে আগ্রহের দিন কিন্তু ফুরিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় অ্যাপ স্টোরসের জায়গায় উঠে আসছে বট স্টোরস।

মোবাইল এক লহমায় দুনিয়াকে বদলে দিয়েছে। যেখানে ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের মধ্যে যোগাযোগকারী হিসাবে ভূমিকা নিচ্ছে মোবাইল অ্যাপসগুলি। বহু নতুন সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠিত সংস্থা মোবাইল অ্যাপকে আরও ভাল, আধুনিকভাবে সাজাচ্ছে। কিছু সংস্থা আবার তাদের ব্যবসা মোবাইল অ্যাপ নির্ভরই তৈরি করেছে। টিমচ্যাটও তাই। মেসেজিং সংস্থা। তাদের নিজস্ব মোবা‌ইল অ্যাপ এবং মেসেজিং-এর মাধ্যমে ইতিমধ্য়েই নজর কেড়েছে। সংস্থার ভিপি কুনাল পাটকে মনে করেন মেসেজিং সার্ভিস গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগরক্ষাকারী হিসাবে কাজ করে। কুণাল বলেন, বাজার সেদিকেই এগোচ্ছে। টেকস্পার্কস এর মঞ্চে কুণাল চেনালেন বুট স্টোরের ক্যারিশমা।

অ্যাপস স্টোরে মেসেজিং অ্যাপসেরই দাপট

গুগল প্লে স্টোরে অ্যানড্রয়েড এবং আইওএসের মধ্যে মেসেজিং অ্যাপেরই রমরমা। প্লে স্টোরে দশটা অ্যাপের মধ্যে অন্তত ছটি মেসেজিং অ্যাপ ‌কিংবা মেসেজিং সংক্রান্ত কিছু ব্যাপার সেখানে রয়েছে। মেসেজিং অ্যাপস নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে প্রবণতা উর্ধ্বমুখী। এর পিছনে যোগাযোগের তাগিদ যেমন কাজ করছে তেমনি আরও আধুনিকভঙ্গিতে আরও সাশ্রয়ী মাধ্যম খোঁজার তাগিদ। প্রেক্ষাপট বদলাচ্ছে। কম্পিউটার থেকে পিসি সেখান থেকে ল্যাপটপ, এখন স্মার্টফোন। গ্রাহকদের পছন্দও পাল্টে যাচ্ছে দ্রুত। আগে ছিল হাইটেক ব্যবহারকারী। তারপর টেক স্যাভি। এখন আম জনতাও দারুণ উৎসাহী। ফলে অ্যাপ মর্কেটকেও সব ধরণের গ্রাহকের মন জুগিয়ে চলতে হয়।

পরিস্থিতি বদলাচ্ছে

অ্যাপে ঢোকার পর সেখানে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সংস্থাগুলি তার চেষ্টা করে চলেছে। এই সব করতে গিয়ে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। যা রীতিমতো মাথাব্যাথার। অ্যাপ ওভারলোড হয়ে গেলেই মুশকিল। দেখা গিয়েছে নিয়মিত ব্যবহার না করলে মোবাইল ব্যবকারীরা তাদের ফোনে অ্যাপস নামান না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অধিকাংশ জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপসগুলি বৈচিত্র্য এনেছে। গ্রাহকদের এই চাহিদা মেটাতে তারা অনেক কিছু করছে। ক্যাকাওটক, উইচ্যাট এমনই কিছু মেসেজিং অ্যাপের উদাহরণ। এই অ্যাপসগুলি শুধু মেসেজিং পরিষেবার মতো প্রাথমিক জায়গায় আটকে থাকেনি। এই সমস্ত অ্যাপ থেকে লেনদেন, ব্যবসা, গাড়ি বুকিং-এর মতো কাজ করা যায়।

বট স্টোরস কি নতুন অ্যাপ স্টোর ?

টিমচ্যাট বিশ্বাস করে যে বট স্টোরস-ই হচ্ছে ভবিষ্যৎ। যেখানে স্মার্ট ফোনে ডাউনলোড এবং অ্যাপ নামানোর ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের আর মাথা ঘামাতে হবে না। ‘World News bot’, ‘Weather bot’, ‘EMI calculator bot’-এর মতো অ্যাপ্লিকেশন গ্রাহকদের হামেশাই প্রয়োজন। সেগুলি যাতে অন্য পদ্ধতিতে দেওয়ার ব্যবস্থা হয় তার চেষ্টা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এখন প্রায় দুহাজারটি সংস্থা টিমচ্যাট ব্যবহার করছে। এই সংস্থা মনে করে স্মার্ট মেসেজিং কিছু দিনের মধ্যেই সাধারণ মেসেজিং-এর জায়গা নিয়ে নেবে। কারণ এর সুবিধাই একে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। ব্যবহারকারীরা আরও যাতে নির্ঝঞ্ঝাটভাবে মেসেজিং পরিষেবা পান তার চেষ্টা চলছে। এই সংস্থার হেড অফিস সিলিকন ভ্যালিতে। ওয়েবারুর শাখা টেমচ্যাট। তাদেরই আরেটি অ্যাপস গাপশাপ-এসএমএস, ভয়েস, তথ্য লেনদেনের জন্য ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়। 

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্যাকাওটক দেখিয়ে দিয়েছে অ্যাপসের দুনিয়ায় নতুন কিছু না আনতে পারলে মুশকিল। হরেক পরিষেবা দিয়ে চিনে‌ও ব্যবসায় সবার আগে উইচ্যাট। অ্যাপসের বহুমুখী পরিষেবা যে রাখতেই হবে তার কাজ শুরু করে দিয়েছে টিমচ্যাট। খেয়াল রাখবেন দেশের বাজারও কিন্তু হু হু করে সেদিকেই এগোচ্ছে।