আপনার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ইনফোসেক

0

আপনি কি নিরাপদ? হ্যাঁ অথবা না। সোজা উত্তর পাওয়া মুশকিল। কারণ একটা কঠিন ধাঁধার মধ্যে আমরা আছি। উলরিক বেকের রিস্ক সোসাইটি। যেখানে সব অদৃশ্য সুতো দিয়ে বাঁধা। বিপদ দরজায়। আপনি তার উপস্থিতি টের পাচ্ছেন অথচ সব বিপদকে এক সঙ্গে দেখতে পাচ্ছেন না। আপনি অসতর্ক হলেই ওগুলো হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়বে আপনার ড্রয়িং রুমে, আপনার কাজের জায়গায়। আপনার কাজের ফাইল ঘেঁটে দেখবে ওই তছরুপকারী। আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস, আপনার ইমেইল পাসওয়ার্ড, সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের পাসওয়ার্ড, আপনার জন্ম সাল তারিখ, মা-বাবা-স্ত্রী-পুত্র-কন্যার সমস্ত গোপনীয়তা জরিপ করে নিয়ে যাবে ওরা। প্রয়োজনীয় তথ্য, দেরাজের চাবি হাতে পেলেই কেল্লাফতে। আপনি তখন কী করবেন! চিৎকার করবেন! আটকানোর চেষ্টা করবেন! আপনার অসতর্কতার জন্যে হাত কামড়াবেন!

আপনার সামান্য তথ্য তছরুপ করে কার কী লাভ সেটা ভাবছেন কী! জানবেন ওই সামান্য তথ্যের যে কী অসামান্য ভূমিকা তা আপনি টের না পেলেও হ্যাকাররা ঠিক জানে। আপনার আমার বিন্দু বিন্দুতেই ওদের সিন্ধু গর্জায়।

তাই দরকার ওদের রুখে দেওয়া। সচেতনতাই পারে আপনাকে নিরাপদ রাখতে। এই মোদ্দা কথাটা বোঝাতেই কিছুদিন আগে ইনফোসেক একটি রাউন্ড টেবিলের আয়োজন করেছিল। মূলত এই আলোচনা সভা ছিল বিভিন্ন সংস্থার প্রযুক্তি বিভাগের কর্তাব্যক্তিদের জন্যে। কিন্তু দেখা গেল ওয়েবেলের অডিটোরিয়াম উপচে যাচ্ছে শ্রোতায়। বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রী, স্টার্টআপ উদ্যোগপতি, এমনকি গৃহবধূরাও এসেছিলেন মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে। নিরাপদ নন ওরা। বিধাননগর পুলিশের কর্তা সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ বিদিত মণ্ডল বলছিলেন একের পর ঘটনা। যা টনক নড়িয়ে দেবে। যেমন ধরুন এক ভদ্রলোক কীভাবে ব্যাঙ্কের পাঠানো ওটিপি ম্যাসেজ শেয়ার করে কীভাবে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন। কিভাবে দুর্বৃত্তরা ডুপ্লিকেট সিম কার্ড তৈরি করে সাধারণ মানুষের সর্বনাশ করছে। অনলাইন লটারিতে টাকা পেয়েছেন এই লোভ দেখিয়ে কীভাবে ছাপোষা ভদ্রলোককে লুঠ করা হচ্ছে সেই সব অদ্ভুত গায়ে কাঁটা দেওয়া গল্প শোনালেন পুলিশ কর্তা। ব়্যানসমঅয়্যারের অত্যাচারের ব্যাখ্যাও পাওয়া গেল। বিভিন্ন সংস্থার প্রযুক্তি কর্তারাও জানালেন নিত্য নতুন হানার কথা এবং মোকাবিলার নানান ব্যবস্থার খুঁটিনাটি। জানা গেল পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের প্রথম সাইবার হেল্পলাইন চালু হতে চলে খুব শিগগিরই। এবং এই কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে ইনফোসেক। আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান এবং প্রাইমইনফোসার্ভের কর্ণধার সুশোভন মুখার্জি বললেন, শুধু কলকাতা নয়, বাংলাদেশেও ওরা কাজ করছেন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিশাল ব্যাঙ্ক তছরুপের ঘটনার পর সেদেশের সাইবার সিকিউরিটি এবং ডেটা সিকিউরিটির ওপর ওদের সংস্থা সচেতনতা বৃদ্ধিতে উঠে পড়ে লেগেছে। ৩ নভেম্বর কলকাতার পার্ক হোটেলে হবে ইনফোসেকের সম্মেলন। সেখানেও আসছেন দেশের তাবড় সিকিউরিটি এক্সপার্ট। এরকম বড় ইভেন্ট দেশের অন্য শহরে না হয়ে কলকাতায় হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করতে সুশোভনবাবুর সাফ কথা, কলকাতাই বা নয় কেন। ঢাকা, লন্ডনেও এই সংস্থা সম্মেলন করেছে ইতিমধ্যেই। ইনফরমেশন সিকিউরিটি নিয়ে যে গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে তার মুখপত্র ইনফোকোয়েস্ট-এর প্রকাশ হয় ওই রাউন্ড টেবিলে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুল অব এথিকাল হ্যাকিংয়ের কর্ণধার সন্দীপ সেনগুপ্ত, ছিলেন ইনফোকোয়েস্টের প্রধান সম্পাদক প্রীতম ভট্টাচার্য, এছাড়া ন্যাসকম ইস্টের আঞ্চলিক প্রধান নিরুপম চৌধুরী, প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্সের একজিকিউটিভ ডিরেক্টর দীপঙ্কর চক্রবর্তী, বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট কৌশিক ভট্টাচার্য প্রমুখ বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য রাখেন। প্রতিভিতির সরিত বোস, সিইএসসির সুমিত পোদ্দার, আইটিসির পার্থ সেনগুপ্ত প্রমুখও আলোচনায় অংশগ্রহন করেন।