এসো হে বৈশাখ এসো এসো....

0

ভোটপুজো চলছে ভারতের বাংলায়। আর বাংলাদেশে আলকায়দার চোখরাঙানিও চলছে পুরোদমে। বাতাসে আগুন ঝরছে। জল গরম। সূর্যকে দেখে মনে হচ্ছে রেকলেস রাউডি রাস্‌কেল। দেখতে দেখতে চৈত্রও খতম। বৈশাখ এল বলে।

পয়লা বৈশাখ এমন একটা দিন সে সব বে়ড়া ভেঙে দেয়। ভাঙা ভাঙা দ্বীপগুলো জুড়ে দেয় একটা আনন্দের সেতু দিয়ে। তুমি যেখানেই থাকো। বস্টনে, বার্লিনে, বগুড়া, বাঁকুড়া কিংবা বাগুইআটিতে। বৈশাখের এই দিনটি তোমাদের কাছে যেমন মোচ্ছবের আমার কাছেও তেমনি মজার। পয়লা বৈশাখের মজাটাই এই, দলাদলি, বিভেদ আর মতানৈক্যের বাংলার ব্যথায় প্রলেপ দিয়ে দেয়। তাই বাংলাদেশে এটি জাতীয় ছুটির দিন। রাস্তায় প্রভাতফেরি বেরয়। রবীন্দ্রনাথের গানে গানে বন্ধন টুটে যায়। রমনা ময়দানে সকাল থেকেই সুরে সুরে ফুরফুরে বাংলাদেশ।

ছোটবেলা থেকে দেখেছি এই দিনে নিমপাতা আর হলুদ ধোয়া জলে চান সেরে ঠাকুর ঘরে প্রণাম করতেন মা। আমরাও তাই। বাবা বলতেন এসবের মানে আছে। শরীরের রোগবালাই দূর হয়। এসব আমার সংস্কৃতিতে ঢুকে গেছে। এ আমার নিজস্ব নববর্ষের সংস্কার। নতুন জামা পরে সে এক খোস মেজাজের দিন। বাড়িতে গান হত। সারাদিন উৎসব। আমার খুব ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে। বাড়িতে ভর্তি লোক আসত। কাকা কাকী পিসে পিসি সবাই মিলে হুল্লোড়ের দিন হত পয়লা বৈশাখ। আজকাল কেউ আসে না। সবাই ব্যস্ত। ছোটবেলায় ব্যবসায়ীদের হালখাতা দেখতে যেতাম সন্ধেবেলা। লক্ষ্মী গণেশ পুজো। বাঙালি ব্যবসায়ীদের ফিনান্সিয়াল নিউ ইয়ার বলে কথা। গঙ্গার ঘাটে থিকথিকে ভিড়। আরেকটা জিনিস এদিন কেনা হত। পঞ্জিকা। চৈত্রমাসে কিনতে নেই। তাই বৈশাখের প্রথম দিন বাজার থেকে ফেরার পথে বাবা রাণী কালারের মলাট দেওয়া বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা কিনে আনতেন। বেণীমাধব শীল, ঠিক তালমিছরির দুলাল চন্দ্র ভড়ের মতোই একটা ব্র্যান্ড। যেমন মনে পড়ছে ঢোল কোম্পানির দাঁতের মলম। রাঙাজবা আলতা সিঁদুর। হাতুড়ি মার্কা ফিনাইল এক্স। বনস্পতি ডালডা। শনিবারের বারবেলা। এসব দিয়েই আমাদের শৈশব আঁকা ছিল। অনেকগুলো ব্র্যান্ড এখন বাজার থেকে মুছে গেছে। কিন্তু নববর্ষের ব্র্যান্ডভ্যালু এখনও দারুণ। তাই কলকাতার এই ঝলসানো গরমেও আমার চাই সরষে ইলিশ মিষ্টি দইয়ের ফাটাফাটি মেনু। তোমরা যারা বসে আছো দূরে। নিউইয়র্কে, নিউজার্সিতে, ব্রিকলেনে, বার্সেলোনায়, ওমানে, আবুধাবিতে ওখানে পেট পুজোর কী প্রস্তুতি? সেখানে ইলিশ পাওয়া যায় কিনা জানি না... গরম ভাতে ঘি দিয়ে আলু পোস্ত কি পাওয়া যায়? তুমিও কি আজ একটু রোম্যান্টিক হবে! ধুতি পরতে পারো? তোমার নারীটি কি শাড়ি টিপে টিপিকাল বাঙালি সাজবেন আজ! For a change!

[Friendship with #DailyMirage]