দুই বন্ধুর যুগলবন্দি, পাঁচ বছরে পাঁচটি রেস্তোরাঁর মালিক

0

সুস্বাদু খাবার আর বেভারেজ। রসনার সুগন্ধকে সাথী করে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন ওরা দু'জন। সন্দীপ নায়েক ও থাসভিন মুকাতিরা। ২০১০ সালে গড়ে তোলেন Holy Cow Hospitality. মাত্র পাঁচ বছরেই এর আওতায় তিন-তিনটি ব্র্যান্ড। PlanB, Mother Cluckers Bar ও One Night in Bangkok. আকর্ষণীয় এইসব নামেই বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইতে রয়েছে পাঁচটি রেস্তোরাঁ। রসিকজনরা এর সন্ধান জানেন। নিয়মিত হাজিরও হন। এর টানই যে আলাদা।

একটু ফ্ল্যাশব্যাকে চোখ রাখা যাক। একটা সময় কয়েকটি চাইনিজ রেস্তোরাঁর ফ্রাঞ্চাইজি নিয়েছিলেন সন্দীপ। প্রায় একই সময়ে একটি মার্কিন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ তৈরির সংস্থায় কাজ করতেন থাসভিন। ফ্রাঞ্চাইজি বিজনেস ভালো। কিন্তু দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে তা কখনই লাভজনক নয়। একটা সময় এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছন সন্দীপ। তখন থেকেই নিজের হাতে কিছু গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখা শুরু। এমন সংস্থা খুলতে হবে যেখানে তিনি নিজেই আইডিয়া, রান্না, থিম সবকিছুর দায়িত্ব নিতে পারবেন।


ডিঙা ভাসল জলে

২০১০ সালে বেঙ্গালুরুর Castle Street-এ দেখা মিলল একটি নতুন রেস্তোরাঁর। PlanB. ১২০০ স্কোয়ার ফুটের এক ঝাঁ চকচকে আরামদায়ক পাব। একসঙ্গে ৫৮ জন বসে খেতে পারবেন।আমেরিকান স্টাইলের এই পাবে খাদ্যরসিকদের পাতে পড়ল চিকেন উইঙ্গস, স্মোকড রিবস, স্টিকস। ইন্টেরিয়রস ইট বেরনো গুদামঘরের মতো। বলা বাহুল্য ভালো সাড়া পেলেন সন্দীপ ও থাসভিন। প্রথম উদ্যোগ সফল হতেই ২০১২ সালে বেঙ্গালুরুরই রিচমন্ড টাউনে দেখা মিলল দ্বিতীয় প্ল্যান বি'র। সন্দীপ বললেন,"প্ল্যান বি খাওয়াতে জানে। প্লেটভর্তি এতটাই খাবার সার্ভ করা হয় যে দ্বিতীয়বার চাইতে হয় না। ককটেলের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। যত খুশি খাও। আমাদের পাবের এমনই সুখ্যাতি রয়েছে। আর খাবারদাবারের ক্ষেত্রে মাংস ও চিজেই জোর দেওয়া হয়।"

প্ল্যান বি

সেটা ২০১৩। PlanB যাত্রা শুরু হওয়ার পরেই বেঙ্গালুরুর ইন্দিরানগরে দেখা দিল Mother Cluckers.এক ঘরোয়া বার। ২০১৫ সালে প্ল্যান বি'র আর একটি শাখা খোলা হয়েছে চেন্নাইয়ে। আর অগাস্টে বেঙ্গালুরুতেই খোলা হয়েছে একটি ফ্যামিলি রেস্তোরাঁ। নাম One Night in Bangkok. নামেই স্পষ্ট এখানে ঠিক কী পাওয়া যায়। হ্যাঁ, বিভিন্ন ধরনের থাই ফুড। ব্যাংককে এমন রেস্তোরাঁর খুবই চল রয়েছে। সেই ভাবণা থেকেই ওয়ান নাইট ইন ব্যাংকক।


থাসভিন বললেন," আমরা এতটা ছড়িয়ে পড়তে পারব শুরুতে ভাবতেই পারিনি। কোনও একটা জায়গা থেকে ভালো খাবারদাবার ও বিয়ারের রেস্তোরাঁ চালাব। শুরুতে এটুকুই ছিল ভাবনা। এরপর স্বতন্ত্র লিকার বার আর রেস্তোরাঁ খুলতে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। এরপর কতকিছুই হয়ে গেল। তবে এগুলো বজায় রাখাটাও একটা ব্যাপার।" থাসভিন অবশ্য একথাও জানালেন, রেস্তোরাঁ ব্যবসায় নামার প্রথম ছ'মাস তাঁরা বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারেননি। নানারকম বাধা-বিপত্তি। তবে একটা সুবিধা ছিল। ব্যবসা শুরু করতে নিজেরাই ৮০ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। কোনও স্টার্টআপের জন্য যা অবশ্যই বিরাট একটা লগ্নি। সন্দীপের সংযোজন, gastropub বা dive ব্যাপারটাও বেঙ্গালুরুবাসীর কাছে নতুন।


সংখ্যা বাড়াও, ব্যবসা বাড়াও

শুরুটা হয়েছিল বেঙ্গালুরুতে একটি আউটলেটের মাধ্যমে। পাঁচ বছরে Holy Cow Hospitality-র ছাতার তলায় এখন পাঁচটি আউটলেট। চারটি বেঙ্গালুরুতে, একটি চেন্নাইয়ে। ব্যবসায়িক বৃদ্ধির হার ৪০০ শতাংশ। বর্তমানে এই সংস্থায় কর্মীর সংখ্যা দুশোরও বেশি। এর মধ্যে স্থায়ী-অস্থায়ী দু'ধরনের কর্মীই রয়েছেন। সন্দীপ বললেন, 'আমরা ফ্রাঞ্চাইজি মডেল অনুসরণ করি না। আমরাই আমাদের আউটলেটের মালিক। নিজেদের পয়সায় শুরু করেছি, নিজেরাই চালাই।' মা লক্ষ্মীর কৃপা যে মিলছে তা বলাই বাহুল্য। গত আর্থিক বছরে ১০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে হোলি কাউ। চলতি বছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হায়দরাবাদ, মুম্বই-সহ টায়ার ওয়ান শহরগুলিতে আরও পাঁচটি শাখা খোলাই এখন পরবর্তী লক্ষ্য সন্দীপ-থাসভিনের।

( লেখা - অপরাজিতা চৌধুরী)