উৎসার কন্টিনেন্টাল 'ক্লোকরুমে' জীভে শান দিন

0

বেকড ভেটকি ইন লেমন ক্রিম সস, গ্রিলড চিকেন ইন প্যাপরিকা সস, চকোলেট পুডিং ডেজার্ট, উৎসবের এই মরশুমে জিভে জল আনা এমনই সব খাবার গ্রাহকদের টেনে আনছে উৎসার রেস্তরাঁয়। ক্লোকরুম। পি৪৫৯বি হেমন্ত মুখার্জি সরণির এই কন্টিনেন্টাল রেস্তরাঁকে এক ঝলকে কাফেই মনে হয়। কারণ ক্লোকরুমের কর্ণধার উৎসা দাস অন্দরসজ্জায় সেই ক্যাজুয়াল লুক-ই দিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল, “ক্লোকরুম নামেই যেন গ্রাহকদের মনে বিলাসী সোফা সেট আর মোলায়েম কুশনের অনুভূতি জেগে ওঠে। নামটির অবতারণাও অনেকটা সেই কারণেই।” বলছিলেন উৎসা।

বছর বাইশের এই সদ্য তরুণীর কথায়, “কোনও রেলস্টেশনে যেমন মালপত্র রাখার জন্য ক্লোকরুম থাকে যাতে যাত্রীরা নিশ্চিন্তে সেখানে লাগেজ রেখে সাইটসিংয়ে যেতে পারেন। কিংবা যাত্রাপথের ক্লান্তি শেষে কিছুক্ষণের জন্য বোঝা নামিয়ে আরাম করতে পারেন। তেমনই ‘রোডসাইড ক্লোকরুম’ দেওয়া ছিল আমার উদ্দেশ্য। এখানে বাড়তি পাওনা হিসেবে রয়েছে জিভে জল আনা সব রেসিপিও।”

কিন্তু এত ছোট বয়সে ব্যবসায় নামার ঝুঁকি নিতে আপত্তি করেনি পরিবার? উৎসা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন, “আমার পরিবার খুবই উদারমনস্ক। কোনওদিনই চাকরি করার ইচ্ছা ছিল না। বরাবরই ব্যবসায় নামতে চেয়েছিলাম। পরিবারও আপত্তি করেনি। ”

সিমবায়োসিস পুনেতে ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনার সময়েই উৎসা বুঝেছিলেন এখনও সেভাবে ফ্যাশনদুরস্ত হয়নি দেশ। তাই এই পেশায় ট্রেন্ডসেটার হতে গেলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। আর তাতে সফল হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। কিন্তু রেস্তরাঁ? খাবারের চাহিদা বা জোগান উত্তরোত্তর বাড়ছেই। বিশেষ করে ভোজনরসিক বাঙালি নতুন নতুন রেস্তরাঁ পরখ করে দেখতে অদ্ভুত রোমাঞ্চ অনুভব করেন। শহরবাসীর সেই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়ে রেস্তরাঁ খোলার সিদ্ধান্ত নেন উৎসা।

যেমন ভাবা তেমনই কাজ। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে ও মায়ের অর্থ সাহায্যে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ১২ মে পুরোদস্তুর ব্যবসায় নেমে পড়লেন তিনি। সম্বল ছিল নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস আর প্রখ্যাত শেফ নবীন পাইয়ের পথনির্দেশ। কিচেন সেট আপ গড়তে নবীনই সাহায্য করেছিলেন আনকোড়া অন্ত্রেপ্রেনিওরকে।

ক্লোকরুমের ইউএসপি

উৎসার কথায়, “শহরে কন্টিনেন্টাল রেস্তরাঁর অভাব নেই তাই প্রথম থেকেই ক্লোকরুমের ইউএসপি নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। পরে ঠিক করলাম অ্যাম্বিয়েন্সই হবে এর ইউএসপি।” আর হলও তাই। জানলার ধারে বসে, সোফায় এলিয়ে কন্টিনেন্টাল খাবার উপভোগ করতেই মানুষ বারবার ছুটে আসেন ক্লোকরুমে। ছশো টাকায় দুজনের জন্য পানীয়, এক প্লেট স্টার্টার, একটি মেন কোর্স আর ডেজার্ট হয়ে ‌যায় অনায়াসে। তাই উইকেন্ডে বা উৎসবের মরশুমে এই রেস্তরাঁই ঠিকানা হয় খাদ্যরসিকদের।

ব্যবসায় বছর গড়ায়নি। এরমধ্যেই ভেঞ্চার যে সফল তা বুঝে গিয়েছেন তিনি। এরপর আরও একটি রেস্তরাঁ খোলার স্বপ্ন দেখেন উৎসা। স্টার্টআপদের তাঁর পরামর্শ, ভাল শেফ রেখে সুস্বাদু প্ল্যাটার সাজিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট নয়, গোটা প্রক্রিয়াকে আরও আকসর্ষণীয় করে তোলাই চ্যালেঞ্জ শুরুয়াতিদের কাছে। কারণ মেনু কার্ডের পাশাপাশি ইন্টিরয়র, অ্যাম্বিয়েন্স এবং পরিচিত রেসিপিতেও আজকাল অভিনবত্ব চান খাদ্যরসিকরা।