দারিদ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে চ্যাম্পিয়ন ডুয়ার্সের সুব্রতী

0

সুব্রতী বরাইক। ডুয়ার্সের ক্যারাটে-কন্যা। এটুকু বলে অবশ্য সুব্রতীকে চেনা যাবে না। পাওয়া যাবে না সুব্রতীর ভেতরকার অদম্য জেদ আর অধ্যবসায়ের খোঁজ। অভাবের সঙ্গে নিত্য লড়াই। দুবেলা দুমুঠো খাওয়া জোটাতেই হিমশিম। পড়াশোনা সেখানে বিলাসিতা। বেশিদূর এগোয়ওনি তাই। কিন্তু ক্যারাটেতে ছেদ পড়তে দেয়নি সুব্রতী। প্রবল ইচ্ছেশক্তি আর অধ্যবসায় ডুয়ার্স-কন্যাকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে। আজ জাতীয়স্তরে চ্যাম্পিয়ন সুব্রতী।

অভাব। অপুষ্টি। অশিক্ষা। গালিচাসবুজ দৃশ্যপথে স্বপ্নের ল্যান্ডস্কেপে ওত পেতে থাকে অন্ধকার। দূরের শহর থেকে কত লোক আসে। ক্যামেরায় ছবি তোলে, ফেসবুকে সেই ছবির লাইক, শেয়ার, কত কমেন্ট...কে জানে এখানেই লুকিয়ে দারিদ্রের হামুখ রোজনামচা। আর এখানেই অন্য এক লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হয় সবার অলক্ষ্যে। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় কেউ। সুব্রতীর মতো হাতে গোনা কয়েকজন।

সুব্রতী বরাইকের বাস ডুয়ার্সের মধু চাবাগানের শ্রমিক বসতিতে। বন্ধ এই বাগানে অভাবের উৎরাই পথ ধরে সুব্রতীর চড়াই যুদ্ধের শুরু। প্রায় রোজগারহীন বাবা। কোনও রকমে পেট চলে। পড়াশোনাটা চালিয়ে যাওয়া আর হয়নি। মাধ্যমিকেই ইতি টানতে হয়। কিন্তু ক্যারাটে রয়ে গিয়েছে। ক্যারাটেকে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে নিজেকে ভাসিয়ে রেখেছিল সুব্রতী। সেই বিদ্যা ফেরায়নি ডুয়ার্স-কন্যাকে। অঞ্চল থেকে জেলা, জেলা থেকে রাজ্য। আর এখন জাতীয় স্তরেও চ্যাম্পিয়ন ডুয়ার্সের এই ভূমিকন্যা।

লড়াইটা কঠিন ছিল।হালছাড়েনি সুব্রতী। হাল ছাড়েনি তার পরিবারও। সেই বিশ্বাসের যোগ্য সম্মান দিয়েছে বাড়ির মেয়ে। জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে জানিয়ে দিয়েছে এভাবেও পারা যায়। খুশি বাবা, গর্বিত বোন, আত্মীয়, বন্ধু-পড়শিরা। মেয়ের সাফল্যের কথা ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন না সুব্রতীর বুড়ো বাবা। তবু বুক চিতিয়ে বলেন, ‘মেয়ের লড়াই আমার মনেও সাহস জুগিয়েছে। ওর সাফল্যে আমি খুশি’।

অভাব এসেছে। স্বপ্ন মরেনি। যুদ্ধটা তাই জারি থেকেছে। সবুজমোড়া এই বাগিচাবাহারে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার দেখতে পায় না বাইরের লোক। সুব্রতীরা চেনে তাকে। তাই লড়াইটাও জানে। লড়াই করতে করতেই এগোতে থাকে জীবনের অচেনা পথ ধরে।