KFC থেকে কি আপনি Free KFO ড্রোন পেয়েছেন?

0

চিকেন উইংয়ের সঙ্গে ড্রোন ফ্রি! চিকেন হজম হয়ে যাবে, কিন্তু অফার এমন হজম হতে একটু ধাক্কা তো লাগবেই। আর এমন কাণ্ডটা ঘটিয়ে ফেলেছে KFC। ভারতের বাজারে আর পাঁচটা প্রতিদ্বন্দ্বীকে দশ গোল দিয়ে মিডিয়ার নজর কেড়ে নিয়েছে কে এফ সি। রীতিমত একটা বাক্স চিকেন উইং কিনলে পাওয়া যাচ্ছিল একটা আস্ত ড্রোনের বাক্স। জন সংযোগ আর মার্কেটিং স্টান্ট দুইয়ে মিলে কেন্টাকি ফ্রাই চিকেনকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। শুধু ভারতেই নির্দিষ্ট এডিশনের উইং কিনলে ড্রোন দেওয়ার অফার দেওয়া হয়। প্রজাতন্ত্র দিবস আর তার আগের দিন এই দুটো দিনই কেএফসির নির্বাচিত কিছু দোকানে পাওয়া গিয়েছে ড্রোন ওয়ালা বাক্স উইংয়ের সঙ্গে। তারপর তৈরি করে নিয়ে ওড়ানোও গেছে সেই সব ড্রোন।

টেস্টি চিকেন বিক্রি করেই নয় ক্রেতা টানতে এই ছলা কলারও যে অনেক মূল্য সেটা বুঝিয়ে দিল এই মার্কিন সংস্থা। যেমন বেশ কিছুদিন ধরেই ম্যাক ডোনাল্ডসে খাবারের পাশাপাশি খেলনাও কিনতে পাওয়া যায়। বাচ্চারা ভিড় করে শুধু ম্যাক ডির টেস্টি বার্গার আর ফ্রাইয়ের লোভে নয়, ওই খেলনাই তাদের মূল আকর্ষণ। 

সেরকমভাবেই বাজারে বিক্রি হয় শিশুদের পছন্দের কিন্ডার জয়। সেখানেও খেলনা থাকে। যদি কখনও বিজ্ঞাপন দেখেন এই সব সংস্থার দেখবেন কিন্ডার জয়ের খাদ্যগুণ আলোচ্য নয় সেখানে। বিজ্ঞাপিত হয় ওই খেলনার নানান কারসাজি। এ অতি পুরনো মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি। সংস্থাগুলির বক্তব্য খাবার নয় আনন্দটাই হাতে করে নিয়ে যায় শিশুরা। আর কে এফসির ড্রোন শুধু আনন্দ নয় বিস্ময়ও উপহার দিল। সংস্থার বক্তব্য শুধু খাবারে মন নয় প্রযুক্তির সঙ্গে সখ্যতা থাকবে না এমন দাসখত তো দেয়নি কেউ। KFC এবার তৈরি করে ফেলল তাদের নিজস্ব ড্রোন KFO। ২০১৭ ছিল ভারচুয়াল রিয়েলিটির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বছর। ২০১৮ য় প্রযুক্তির বিশ্বে একেবারে সামনের সারিতে চলে এসেছে ড্রোন। KFO সেই জায়গাটা ধরতে চাইছে।

KFO হল DIY ড্রোন যেটি ফাস্ট ফুড চেন KFC চিকেন উইংসের এর একটি নির্দিষ্ট অর্ডারের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। একটি সপ্তাহে মাত্র কয়েক দিনের জন্য ভারতের নির্দিষ্ট কটি জায়গায় এই ফাস্ট ফুড ড্রোন পাওয়া গেছে। KFO যারা পাননি তাদের মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু যারা পেয়েছেন তারা আসলে লটারি পেয়েছেন। যিনি ড্রোন পেয়েছেন KFC দিয়েছে দেদার খাবার তাঁর জন্য। লিমিটেড এডিশনের এই KFC স্মোকি উইং অর্ডার করার পর যে বক্সটি এসেছে তাতে পেট-পুরে খাওয়ার মত যথেষ্টই উইং ছিল। খাবার শেষ হলে বক্সের ভেতরের দিকে ড্রোন তৈরির সব যন্ত্রাংশ রাখা ছিল। এ যেন আবিষ্কারের আনন্দ। একটা ড্রোন বেস, প্রপেলার, মোটর, অনবোর্ড কম্পিউটার এবং ব্র্যান্ডেড গিয়ার। ‘উই ব্রিং ইট, ইউ উইং ইট’ UAV সহজে তৈরি করা যায়। পরীক্ষাগুলি ঠিক ঠিক পেরোতে পারলে ড্রোন ওড়ানো কোনও ব্যাপারই নয়। অ্যাপল অথবা অ্যানড্রয়েড যেকোনও ফোনের মাধ্যমে ড্রোন নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি অ্যাপ দিয়ে KFO চালানো যায়। ড্রোন চালাতে কোনও সাহায্যের প্রয়োজন হলে নির্দেশিকার পিডিএফ ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে এমনই ব্যবস্থা ছিল।

দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, পুনে, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, গুরগাঁও, চণ্ডীগড়, কোচি এবং বেঙ্গালুরুর তিনটি দোকানে ছিল এই অফার। নির্দিষ্ট সময়ে। তাইবলে সবাই পাননি। যারা পেয়েছেন তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় জমিয়ে দিয়েছেন তাদের ড্রোন ওড়ানোর অভিজ্ঞতা। ইতিমধ্যে ‘মোস্ট ফ্লাই মিল এভার’ ইন্টারনেটে সাড়া ফেলে দিয়েছে। KFC র জনসংযোগ সংস্থাকে বিশ্বের শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। আপনি কী ভাবছেন এই নিয়ে ? ড্রোন পাওয়ার সুযোগ কেউ পেলেন কি আপনাদের মধ্যে কেউ?

ভাবছেন তো আগে কেন জানতে পারলেন না! একটু খেয়াল রাখলে ঠিকই জেনে যেতেন। আর কেএফসির ভক্তদের দাবি এতো শুধু ট্রেলার ছিল, আসল ফিল্ম দেখানো হবে পরে। দিন আসছে যখন কে এফ ও পাওয়া যাবে সব কটি কেএফসির আউট লেট থেকে। সস্তায় আপনিও ওড়াবেন ড্রোন। চিকেন উইংয়ের সঙ্গে।