উদ্যোগের দুনিয়ায় নতুন নতুন কাহিনি লিখছেন শ্রীনিবাস

0

শিশু বয়স থেকেই ছিল নানা কৌতুহল। প্রতিটি জিনিস সম্পর্কে খুঁটিয়ে জানার আগ্রহ ছিল আর সব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজতেন বাবার কাছে। মেঘের এমন রং কেন? এই আকারই বা মেঘ কোথায় পেল? মানুষের শরীর হঠাৎ গরম হয়ে যায় কেন? বাচ্চাদের কেন জ্বর আসে? এরকম শয় শয় প্রশ্নে নাজেহাল হতে হতো বাবাকে। কৌতুহল মেটাতে ঘড়ি খুলে ফেলে দেখত ঘড়ির ভিতরে কী যন্ত্র রয়েছে যাতে ঘড়ি চলে, ক্যালকুলেটর কী ভাবে সবসময় সঠিক উত্তর দেয় সেটা জানতে কত ক্যালকুলেটর খুলে ফেলেছে ছেলেটা তার ইয়ত্তা নেই। এভাবেই একে একে বাড়ির প্রায় অধিকাংশ জিনিসই খুলে ফেলেছিল। পৃথিবীর সব কিছু নিয়েই তার প্রশ্ন ছিল, আর উত্তরের জন্য একমাত্র আন্সার মেশিন বাবা। বাবা ছিলেন ইউকে-এর বিখ্যাত ডাক্তার, তিনি কখনওই ছেলেকে নিরাশ করতেন না। সাধ্য মত বুঝিয়ে দিতেন ছেলেকে। এভাবেই বড় হতে হতে সে একটা জিনিস শিখে গিয়েছিল, সঠিক লোককে সঠিক জিনিস জিজ্ঞাসা করলে উত্তর পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে এটাই হয়ে ওঠে তাঁর সাফল্যের মন্ত্র। তাঁর সেই সাফল্য আজ এমন জায়গায় পৌঁছিয়েছে যে সারা বিশ্বের উদ্যোগপতি ও উদ্যমী তরুণদের স্বপ্ন সফল করতে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছেন তিনি।

যাঁর কথা আমরা বলছি তাঁর নাম শ্রীনিবাস কোল্লিপারা। হায়দ্রাবাদে উদ্যোগপতিদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে স্থাপিত টি-হাবের সিইও এই শ্রীনিবাস। টি-হাব প্রতিষ্ঠায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে শ্রীনিবাসের।

ছোট থেকে শেখা গুরু মন্ত্রের শিক্ষাতেই শ্রীনিবাস আজ তরুণ উদ্যোগপতিদের নির্ভরযোগ্য পরামর্শদাতা। ইওরস্টোরিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে শ্রীনিবাস বললেন, ছোটবেলার সেই প্রশ্ন করার শিক্ষাকেই কাজে লাগান তিনি। উদ্যোগপতিদের নানা প্রশ্ন করতে করতেই বুঝে নেন তাঁদের ক্ষমতা, শক্তি ও দুর্বলতা আর তার থেকেই বলে দেন সঠিক ব্যবসার মডেল। সঠিক প্রশ্ন করাটাই জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

শ্রীনিবাস বললেন, “আমি উদ্যোগপতি ও স্টার্টআপদের সমস্যার সমাধান বলি না, বরঞ্চ প্রশ্নের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান পেতে সাহায্য করি। শ্রীনিবাস মনে করেন ভারতে উদ্যোগপতিদের শক্তি অনেক ও দুনিয়া বদলে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শ্রীনিবাসের মতে, কোন দেশ যদি অগ্রগতি ঘটাতে চায় তাহলে তাকে একাধিক উন্নয়নের একাধিক কেন্দ্র খুলতে হবে। সেই জন্যই বেঙ্গালুরুর পাশাপাশি হায়দ্রাবাদকেও স্টার্টআপের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। যেভাবে টি-হাব তৈরি হয়েছে, যেভাবে তা কাজ শুরু করেছে তাতে মনে করা হচ্ছে শ্রীনিবাস সঠিক পথেই হাঁটছেন।

৫ নভেম্বর, ২০১৫ তে শুরু হয় টি-হাব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রতন টাটা, তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল নরসিমহন ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী তারক রামা রাও। তেলেঙ্গানা সরকার, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি (হায়দরাবাদ), ইন্ডিয়ান স্কুল অফ বিজনেস ও নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ এই টি-হাব। হায়দ্রাবাদে স্টার্টআপের অনুকুল পরিবেশ তৈরি করাই লক্ষ্য টি-হাবের। আইআইআইটি (এইচ)-এর এলাকায় তৈরি টি-হাবের আয়তন সত্তর হাজার বর্গ ফুট। উদ্যোগপতিদের কাজ করার জন্য টি-হাবে অত্যাধুনিক ও বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। অনেক স্টার্টআপই টি-হাব থেকেই নিজেদের কাজ করে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল টি-হাবে ইনকিউবেটর ও অ্যাক্সেলেটর্সদের জন্য আলাদা জায়গা দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপরা যাতে প্রয়োজন মতো ভেঞ্চার-ক্যাপিটালিস্ট ও অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দেখা করতে পারে তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এখানে। টি-হাব উদ্যোগীদের জন্য ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠেছে।

সিইও শ্রীনিবাসের সম্পূর্ণ ভরসা রয়েছে যে টি-হাব থেকে সাফল্যের বহু কাহিনী লেখা হবে ও সেই কাহিনী নিয়ে বিশ্বের কোনায় কোনায় আলোচনা হবে।

একটি প্রশ্নের উত্তরে শ্রীনিবাস বলেন, “টি-হাব স্থাপনের উদ্যেশ্য বেঙ্গালুরু ও হায়দ্রাবাদের মধ্যে লড়াই বাধানো নয়। একটি শহরের সঙ্গে আরেকটি শহরের লড়াইয়ের কথা ওঠাই ঠিক নয়। দেশের উন্নতির জন্য প্রয়োজন একটি শহর অন্য শহরের সঙ্গে সহযোগিতা। আর ভারতে উন্নয়নের একাধিক কেন্দ্র রয়েছে। শহরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকা ভাল কিন্তু লড়াইয়ের কথা ঠিক নয়”।

স্টার্টআপদের নতুন কেন্দ্রের জন্য হায়দ্রাবাদকেই বেছে নিলেন কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে খানিক আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন তিনি, নিজের জীবনের কিছু স্মৃতির কথা বললেন। জানালেন, হায়দ্রাবাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই গভীর। তার অনেক বন্ধুই হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা। হায়দ্রাবাদের বহু প্রভাবশালী পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে তাঁর। এই জন্যই ওনার মনে হয় হায়দ্রাবাদেই সহজে কাজটা করতে পারবেন। রাজনৈতিক নেতা বা সরকারি আধিকারিক, এখানে সব সাহায্যই পাওয়া যাবে। শ্রীনিবাসের মতে হায়দ্রাবাদ জীব-বিজ্ঞান, ঔষধি-বিজ্ঞান ও চিকিত্সা-বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে যুক্ত স্টার্টআপরা যদি টি-হাবের সঙ্গে কাজ করে তাহলে তাদের যথেষ্ট সুবিধা হবে ও গবেষণার কাজেও সাহায্য হবে। ইউএস ও ইউকে-তে কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শ্রীনিবাস বললেন, “অনেক দেশই সিলিকন ভ্যালির অন্ধ অনুকরণ করেছে, এবং সেজন্যই তারা প্রচুর চেষ্টা স্বত্ত্বেও নিজেদের সিলিকন ভ্যালি বানাতে পারেনি। অনেক দেশই নিজেদের প্রয়োজন বুঝে কাজ করেনি। স্থানীয় সমস্যার দিকে নজর দেয়নি। নিজেদের দেশের লোকের সমস্যা বোঝেনি। তারা এটা বুঝতে পারেনি, তাদের জন্য কোনটা ঠিক, কোনটা নয়”।

শ্রীনিবাস বলেন, “হায়দ্রাবাদে এমন কাজই হবে, যা এখানকার জন্য সঠিক ও মানুষের জন্য উপযুক্ত হবে”। হায়দ্রাবাদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রীনিবাস বলেন, “৩-৪ বছর আগে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। সবাই বেঙ্গালুরুর কথা বলত। রাজনৈতিক নেতা, আধিকারিক বা সাংবাদিক বেশিরভাগ মানুষের স্টার্টআপ সম্পর্কেই কোন ধারণা ছিল না। সব উদ্যোগপতিরা বেঙ্গালুরু চলে যেত। কিন্তু আমি আমার কিছু সঙ্গীকে নিয়ে হায়দ্রাবাদে পরিস্থিতি বদলাতে সচেষ্ট হই। ধীরে ধীরে অবস্থা বদলাতে থাকে। এই চেষ্টাকে সফল করতে আইআইআইটি-হায়দ্রাবাদ খুব বড় ভূমিকা রেখেছে”।

তেলেঙ্গানা রাজ্য তৈরির সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত অবস্থার পরিবর্তন হয়। নতুন সরকারের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী কে তারক রামা রাওয়ের উদ্যোগ ও পরিশ্রমে একটি উন্নতমানের নীতি তৈরি হয়েছে। এই নীতির ফলেই টি-হাবের জন্ম হয়েছে। শুধু আইটিই নয় সরকার সামগ্রিকভাবে স্টার্টআপকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই সাহায্য করেছে। সাধারণভাবে এটাই দেখা যায় যে সরকার যত কম হস্তক্ষেপ করে ততই উন্নতি হয়, বিশেষত আইটি ও উদ্যোগের বিষয়। কিন্তু তেলেঙ্গানাতে বিষয়টা আলাদা। এখানে আইটি মন্ত্রী তারক রামা রাওয়ের সুচিন্তিত পদক্ষেপের ফলে স্টার্টআপদের অনেক সাহায্য হয়েছে। একটা প্রশ্ন উঠে আসে, কর্পোরেট ও সুদের কারবার ছেড়ে তিনি স্টার্টআপদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে উত্সাহী কেন? এর উত্তরে শ্রীনিবাস জানান, ওনার রক্তেই উদ্যোগ রয়েছে।

শ্রীনিবাস জানালেন, তাঁর দাদু ড.সি.এল রায়ুডু তাঁকে খুবই অনুপ্রাণিত করেছে। ড. সি.এল রায়ুডু নিজের সময় একজন বড় বামপন্থী নেতা ছিলেন। অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী বিজয়ওয়াড়া ও তত্সংলগ্ন গন্নওয়ারামের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁরা। সমাজের উন্নতি সাধনে নানা কাজ করেছেন তিনি। অনেক স্কুল খুলেছেন। এই সবই করেছে নিঃস্বার্থ ভাবে। কখনই ধন-সম্পত্তির বিষয়ে ভাবেননি। সমাজের জন্য কী করতে পারেন, সমাজের ভাল করার জন্য বদল আনতে কী করতে পারেন, কীভাবে সমাজে নিজের ছাপ রেখে যেতে পারেন এই সবই ছিল তাঁর ভাবনা ও সেই মতোই কাজও করেছেন।

শ্রীনিবাস বললেন, “আমার দাদু আমার ওপর গভীর প্রভাব রেখে গেছেন। তিনি সমাজ সেবা করেছেন। সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন টাকা পয়সার পিছনে কখনও ছোটেননি। সরকারের দেওয়া পুরস্কার নেননি”। 

তিনি আরও বলেন, “আমিও সমাজে ভাল কিছু দিতে চাই। সমাজ ও পৃথিবীকে নিজের ভাল কাজ দিয়ে প্রভাবিত করতে চাই। আমার জীবনের লক্ষ্য সমাজকে এমন কিছু দেওয়া যাতে সমাজের ভাল হয়”।

নৈতিকতা ও সিদ্ধান্তের ব্যাপারেও খুবই স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে তাঁর। এই বিষয়ে তাঁর মামা ড. বসন্ত কুমারের অনেক প্রভাব রয়েছে। বসন্ত কুমার অন্ধ্রপ্রদেশের কংগ্রেসের বড় নেতা ও পূর্ববর্তী মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডির সহপাঠী ও বন্ধু ছিলেন। রাজশেখর রেড্ডি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বসন্ত কুমারকে বহুবার কংগ্রেসে যোগ দিতে অনুরোধ করেন। এমন কি এটাও বলেন যে কংগ্রেসে যোগ দিলে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে। বসন্ত কুমার অন্য দলের সদস্য ছিলেন এবং কোনোওভাবেই লোভের সামনে আত্মসমর্পণ করেননি। শ্রীনিবাসের ছোটবেলা কেটেছে ইউকে তে। বাবা ছিলেন নাম করা ডাক্তার, যে পরবর্তী কালে ব্যবসায়ী হন। একসময়ে বাবার ব্যবসায় অনেকটাই সময় দেন শ্রীনিবাস।

কৈশোরেই কলেজে পড়ার জন্য শ্রীনিবাসকে বিজয়ওয়াড়াতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ইউকে তে বড় হওয়া শ্রীনিবাসের কাছে বিজয়ওয়াড়া ছিল এক অদ্ভুত শহর। দুদেশের সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, খাওয়াদাওয়া, জলবায়ু সবেতেই ছিল অনেক পার্থক্য। এখানে মানিয়ে নিতেও অনেকটাই সময় লাগে তাঁর। কিন্তু ভারতে এসে অনেক কিছু শেখেন তিনি। এদেশের সংস্কৃতি, শক্তি ও সমস্যাগুলিকে জানার সুযোগ মেলে। দাদু ও মামার সঙ্গে থেকে সমাজকে চিনতে শেখেন। কলেজের পড়া শেষ করে ওমেগা ইম্মিউনাটক কোম্পনি খোলেন শ্রীনিবাস। এই কোম্পানি ইউকে থেকে ডায়াগনিস্টিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করত। কয়েক বছর পর শ্রীনিবাসের এই কোম্পানিকে একটি বড় ওষুধ কোম্পানি অধিগ্রহণ করে। এরপর শ্রীনিবাস বিভিন্ন বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিতে নানা বড় বড় পদে কাজ করেন। শ্রীনিবাস ট্রান্সজিন বায়োটেক লিমিটেড, কম্পুলর্নটেক প্রাইভেট লিমিটেড, কেএকআই কর্পোরেশন, পীপলস্ সফ্টের মতো বিখ্যাত সংস্থায়ে উচ্চ পদে কাজ করেন।

কিন্তু ২০০৭ সালে শ্রীনিবাস ঠিক করেন তিনি নিজের মত কাজ করবেন ও স্টার্টআপের দুনিয়ায় নিজের পুরো সময় দেবেন। এরপরই স্টার্টআপ মেন্টর হিসেবে সারা পৃথিবীতে নাম করেন শ্রীনিবাস। আজ স্টার্টআপের দুনিয়ায়ে একটি বড় নাম শ্রীনিবাস। তিনি বলেন, টি-হাবের প্রতিষ্ঠাই তাঁর জীবনের সবথেকে বড় সাফল্য। এটাই তাঁকে জীবনের সবথেকে বেশি আনন্দ দিয়েছে। আবেগপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী স্বরে তিনি বললেন, “যখন পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে টি-হাব স্টার্টআপের সবথেকে উন্নত কেন্দ্র বলে পরিগণিত হবে আর টি-হাবে তৈরি সাফল্যের গল্প সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে তখনই আমার সপ্ন পূরণ হবে। তখনই আমি বলতে পারব আমি যা করতে চেয়েছিলাম তা করতে পেরেছি”।

এই অন্তরঙ্গ আলাপচারিতার সময়ে শ্রীনিবাস তাঁর জীবনের বিভিন্ন কঠিন সময়ের কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি আমার জীবনে নানা ওঠাপড়া দেখেছি। প্রত্যেকবারই নতুন কিছু শিখেছি। সবথেকে কঠিন সময় ছিল যখন আমার বাবার কোম্পানির প্রচুর ক্ষতি হয়। একপ্রকার দেউলিয়াই হয়ে গিয়েছিল। পাওনাদাররা আমাদের পিছনে পড়ে গিয়েছিল। খুব খারাপ সময় ছিল। আমার সবথেকে খারাপ লেগেছিল যে আমার বন্ধু বলে যাদের জানতাম তারা হঠাতই সঙ্গ ছেড়ে দেয়। খারাপ দিনে তারা সঙ্গে ছিল না। যারা আনন্দের দিনে আমার সঙ্গে পার্টি করত তারাই কঠিন দিনে অচেনা হয়ে যায়। কিন্তু কিছু মানুষ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। জানিনা কোথা থেকে আসেন তাঁরা। তাঁরা বলেন, আপনার ভাল কাজ করেছেন, আমরা সেই কাজে অনুপ্রাণিত, তাই আজ খারাপ দিনে আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাঁদের কথা শুনে খুবই আনন্দ পাই, বুঝতে পারি ভাল কাজের পরিনাম ভালই হয়। এই কঠিন সময়ই আমি বুঝেছি জীবনে ভাল লোক খোঁজা জরুরি, তার থেকেই বেশি জরুরি ভাল লোকেদের সাধ্য মতো সাহায্য করা। কারণ ভাল লোকই ভাল কাজ করে ও সব সময়ে কাজে আসে”।

উদ্যোগের দুনিয়ায় নতুন নতুন কাহিনী লেখা শ্রীনিবাস বললেন, “কর্পোরেট দুনিয়ার চাকচিক্য ছেড়ে স্টার্টআপের দুনিয়ায় আসার তিনটি কারণ রয়েছে, এক, পৃথিবীর মানুষের জন্য এমন কাজ করা যা সকলের জীবনে গভীর ছাপ রাখে, দুই-এমন কাজ করা যা নিজেকে আনন্দ দেয় ও যেটা করতে নিজের ভাল লাগে। তিন-নিজের পরিবারের সমাজ সেবার যে ধারাবাহিকতা তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।


[শ্রীনিবাসের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইওরস্টোরি ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং এডিটর অরবিন্দ যাদব, অনুবাদ করেছেন সানন্দা দাশগুপ্ত]

Related Stories