পর্যটকদের নতুন দিশা দিচ্ছে দ্যা হোটেল এক্সপ্লোরার

0

দ্যা হোটেল এক্সপ্লোরার। এমন একটি ওয়েবসাইট যা দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা হোটেলগুলোকে একদম নতুন করে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরে। হোটেলের একদম মৌলিক কিছু বৈশিষ্ট্য প‌র্টকদের সামনে তুলে ধরাই এই ওয়েবের ইউএসপি। বিশাখার ভাষায় যাকে বলে হিডেন জেমস বা লুকোনো মণিমুক্তা। প‌র্যটকরা বেড়াতে এসে সবসময়েই কিছু নতুন চান। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পদ্ধতি মেনে হোটেলে ঘর না নিয়ে ভিলায় থাকা বা নিভৃতে বাড়িতে থাকার মত কোনও অভিজ্ঞতা। অথবা জঙ্গলের মধ্যে কোনও বাংলোয় ছুটি কাটানো। অথবা ধরুন গা ছমছমে ইতিহাসে ঘেরা কোনও কেল্লা। যা আসলে একটা হোটেল। কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নেই। এমনই কিছু বুটিক ভাবনায় তৈরি হোটেলের হাল হদিস দেয় দ্যা হোটেল এক্সপ্লোরার। চেনা হোটেলকে নতুন করে চেনার মজাই যে আলাদা।

হোটেলের হদিস দিলেও সেখানে বুকিংয়ের ব্যবস্থা অবশ্য দ্যা হোটেল এক্সপ্লোরারের কাজের মধ্যে পড়েনা। দ্যা হোটেল এক্সপ্লোরারের প্রতিষ্ঠাতা বিশাখা তালরেজা এজন্য কয়েকটি হোটেল বুকিং এজেন্সির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন। সূত্র তাঁর ওয়েব হলেও ইচ্ছুক পর্যটকদের ঘরের বন্দোবস্ত করে দেয় এসব বুকিং সংস্থাই। দ্যা হোটেল এক্সপ্লোরার কাজ করে থার্ড পার্টি হিসাবে।

কিন্তু কোথা থেকে জন্ম নিল এমন আজব ভাবনা। সে ইতিহাসটা বেশ মজার। দিল্লির শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্স থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হওয়ার পর ২০০৬ সালে বিশাখা একজন বিজনেস জার্নালিস্ট হিসাবে যোগ দেন ইকোনমিক টাইমসে। ২০১৩ সাল প‌র্যন্ত ইকোনমিক টাইমস, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে চুটিয়ে বিজনেস বিটে কাজ করেন তিনি। এই সময়ে রাহুল পণ্ডিত, বিক্রম ওবেরয়, দীপ কালরা, শরৎ ধাল, পাটু কেশওয়ানির মত ট্রাভেল ও হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রির মাইলস্টোনদের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। এঁদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কথা বলতে বলতে একসময়ে নিজেকে ব্যবসায়ী হিসাবে গেড় তোলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন বিশাখা। ২০১৩-এ চাকরি ছেড়ে হাত দেন দ্যা হোটেল এক্সপ্লোরার গড়ার কাজে। এমন একটি ওয়েবসাইট যা প‌র্যটকদের একটি হোটেলকে নতুন করে আবিষ্কারের রাস্তা খুলে দেবে। যেখানে থাকবে অনেকগুলি সংরক্ষিত পর্যালোচনা, হোটেলের সাম্প্রতিক প্রবণতা ও প‌র্যটকদের জন্য সাশ্রয়ী চুক্তির খবরাখবর। যা শুধু তথ্যদায়কই নয়, আনন্দদায়কও।

নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে কাজ করার সময় বিশাখার সঙ্গে পরিচয় হয় সাংবাদিক প্রভু চাওলার। ওই বয়সেও প্রভু চাওলার মধ্যে উদ্দেশ্য সাধনের উপায় হিসাবে নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগান, বিভিন্ন বিষয়কে সকলের সামনে আনতে সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করার ইচ্ছা বিশাখাকে উজ্জীবিত করে। ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে বিশাখার কাছে তাঁর বাবা ছিলেন আদর্শ। তাঁর মতে, বাবাকে একার জোড়ে একটা ব্যবসাকে দাঁড় করাতে দেখেছেন তিনি। যা কোথাও তাঁকে নতুন ব্যবসা করার প্রেরণা যুগিয়েছিল। বিশাখা জানতেন তিনি চিরকাল সাংবাদিকতা করবেন না। তাই ব্যবসা মন একটা ছিলই। সেটাই পূর্ণ রূপ পায় দ্যা হোটেল এক্সপ্লোরারের হাত ধরে। ২০১৪ সালে বিশাখা চালু করেন তাঁর নতুন ওয়েবসাইট দ্যা হোটেল এক্সপ্লোরার ডট কম।

হাউজিং ডট কমের মালিক রাহুল যাদবের কাহিনি বিশাখার কাছে ছিল ব্যবসার জগতে পা রাখার আগে একটা কেস স্টাডি। কীভাবে একজন ব্যবসাকে বিশাল জায়গায় পৌঁছে দিয়েও আবার তা নিজে হাতে ধ্বংস করে দিয়েছেন তার জলজ্যান্ত উদাহরণ রাহুল। এই উত্থান পতন তাঁকে ব্যবসায় সফল হওয়ার মন্ত্র শিখিয়েছে বলে ইবশ্বাস করেন বিশাখা। তবে মহিলা উদ্যোগীদের নিয়ে এখনও মানুষের অহেতুক উৎসাহ বিশাখাকে মাঝে মধ্যেই উত্তপ্ত করে। মহিলা ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত বিষয় জানতেও মানুষের মধ্যে উৎসাহের অন্ত নেই বলে দাবি করেন তিনি। ওই মহিলা বিবাহিত কিনা, তাঁর স্বামী কী করেন, বাড়িতে কে কে আছেন, একজন মহিলা যদি ব্যবসায় ব্যস্ত থাকেন তবে তাঁর সংসার চলে কীভাবে, এমন প্রশ্নগুলো নিয়ে কা‌র্যত তিতিবিরক্ত বিশাখা। পুরুষরা ব্যবসা করতে এলে তাঁদের নিয়ে কেউ ভাবে না, কিন্তু যখনই একজন মহিলা ব্যবসার জগতে পা রাখার চেষ্টা করেন তখনই সকলে তাঁকে কৌতুহলী নজরে দেখা শুরু করেন বলে দাবি করেছেন বিশাখা।

বিশাখার এই লড়াইয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রেরণা তাঁর স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ি। তাঁর মতে, এঁদের সাহায্য না পেলে ব্যবসার জগতে পা রাখা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিলনা। তাঁকে নিজের একটা স্বাধীন পরিচয় তৈরি করতে উৎসাহ যুগিয়েছেন তাঁর স্বামী। এটা তাঁর কাছে বড় পাওনা বলেই মনে করেন বিশাখা।