জামাই এবার চমকে যাবে, DelyBazar থেকে আনুন সবজি-মাছ 

0

কথায় আছে বাবু চলে বাজার তো কুত্তা ভোঁকে হাজার... সে এক সময় ছিল। বাজারের থলে হাতে রোজ সকালে আলু-পটল-পেঁয়াজ নিয়ে, ইলিশ-কাতলা-রুই-মৌরলা-লোটে নিয়ে কাঁই কিচির করার নাম ছিল বাজার করা। ফিরে এসে রিক্সা থেকে নেমে রিক্সা ভাড়া নিয়ে চলত আরেক প্রস্থ রামায়ণ মহাভারত। দাদা মশাইকে দেখেছি বাজার থেকে পেল্লায় সাইজের মাছ কানকোয় দড়ি বেঁধে নিয়ে আসতেন। ধপাস করে ফেলে দিতেন উঠোনে। আঁশ বটি নিয়ে পাঁচুর মা রেডি। ঠাকুর চাকরদের এড়িয়ে দিদিমাকে বলতেন দই দিয়ে কালিয়া করতে। সময় বদলেছে। মনে পরে এই তো কয়েকটা দিন আগের কথা জানলা দিয়ে দেখা যেত। পাশের বাড়িতে রোজ সকালের রুটিন ছিল এরকম।

কাদা প্যাঁচ প্যাঁচ বাজারে লাস্যে ভরা রিপোর্টার সবজির দাম নিয়ে লাইভেই ক্যাঁচর ম্যাচর করছেন, কত্তা হা পিত্যেশ করে গিলছে, বিভিন্ন চ্যানেলে বিভিন্ন কায়দায় একই জিনিস। রিমোট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ট্যালি চলছে। গিন্নির পারদ চড়ছে। তারপর গিন্নির গুঁতো খেয়ে, চটপট চা শেষ করে কত্তা চললেন বাজারে। টিভি চ্যানেলের সুন্দরী রিপোর্টার, আহ্লাদী অ্যাঙ্কার যে দাম শিখিয়ে দিয়েছেন তার থেকে বেশকম হলেই তিরিক্ষি মেজাজ, আপন মনে গজ গজ করতে করতে ফেরা। বাড়ি এলে গিন্নির মেজাজও সমান তিরিক্ষি...

-এত বেলায় মোচা! এঁচোর!!! পয়সা কি গাছে ফলে? এত শাক কেউ আনে? এ কী মাছ এনেছ! কে খাবে! চিংড়ির খোসা তো ছাড়ানোই হয়নি? এ মা! পিঠের ময়লা সরায়নি? এভাবে চলে বলো তো! গিন্নির হৈচৈ-এ বাড়ির ছাদে কাক তিষ্ঠোনো দায়।

আর এখন বাজারও টের পেয়েছে কত্তার গ্রিপ থেকে এটিএম কার্ডের মতোই বাজারের ব্যাগও চলে গেছে গিন্নির এজলাসে। ফলে মফঃস্বলে থাকা মধ্যবিত্ত বাঙালির দরজায় আসে বাজার। ঠেলা গাড়ির বাজার। ভ্যান রিক্সার সবজিওলা। সাইকেলে মাছ। আদাম কুদাম... ট্যালি করার উপায় নেই। মনোপলি মার্কেট। ওদের আবার পাড়া, বাড়ি এসব ধরা থাকে। কারও কারও খাতা সিস্টেমও চলে। ওদের কাস্টমার বাঁধা।

এরই মধ্যে শহুরে মানুষের মন হুহু করে বদলাচ্ছে। ক্রেতার মনে অন্যরকম রঙ লেগেছে। ই-কমার্সের রঙ। পায়ের ওপর পা তুলে ঘরে বসে শপিংয়ের মজাই আলাদা। ফ্লিপকার্ট, স্ন্যাপডিল, আমাজনের যুগে কে যাবে বাজার? কার হাতে কত সময় আছে!

আলসেমি নয়। টাইম ম্যানেজমেন্ট। বাবুদের বাজার করার আদব কায়দাই এখন অন্যরকম। ফোনে ফোনে বাজার হয়, জানেন! ফোনে ফোনেই... মাছ বুক করা থাকে, মাংসের দোকানে লাইনে না দাঁড়িয়েই আলাদা করে মাংস সরানো থাকে, ফোনে ফোনে ম্যানেজ করা থাকে টাইম। এখন স্মার্ট শপিংয়ের যুগ।

জামাই ষষ্ঠীর আগে বরং আপনাদের আরও একটি টিপস দিই... এবার বরং স্মার্টলি বাজার করুন। মাউসে ক্লিক করে। জামা, কাপড়, জুতো, জুয়েলারি, টিভি, মোবাইল নয় এক ক্লিকে কিনুন টাটকা সবজি, তাজা মাছ। delybazar.com এ পাবেন। বাজারের থেকে কমদামে দারুণ কোয়ালিটির বাজার। যখন চান তখনই পাবেন। আগের দিন ধরিয়ে দিন লিস্ট। সকাল সকাল ওরাই লিস্ট মাফিক আনাজ, মাছ মাংস কাটিয়ে কুটিয়ে বাইকে করে এসে পৌঁছে দিয়ে যাবে রান্নাঘরের দরজায়।

মাত্র একবছর হল চালু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওরা দারুণ জনপ্রিয়। যারা একবার এই মজা পেয়েছেন তারা বারবার অর্ডার দেন। কেন? সেটা জানতেই কথা বলছিলাম অভিনব রায়চৌধুরির সঙ্গে। ও চিফ অপারেটিং অফিসার। সংস্থার এক প্রতিষ্ঠাতা। এক বলার কারণ আছে। ও পাঁচজনের একজন। অভিনব বলছিলেন এটা পঞ্চপাণ্ডবের টিম। সবাই ইঞ্জিনিয়ার। কেউ যাদবপুরে পড়েছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কেউ অন্যত্র কম্পিউটার সায়েন্স, কেউ ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার, কেউ বি ফার্ম। সবাই ওঁরা কলকাতার ছেলে। সবাই বাঙালি। সবাই দুর্দান্ত প্রফেশনাল। আর সবাই ব্যবসায় প্রথম প্রজন্ম।

অভিনব বলছিলেন ওরা যখন এক সঙ্গে কিছু করার প্ল্যান করছিলেন তখন যে শুনেছে সে ই বলেছে বাঙালির পার্টনারশিপে বিজনেস হয় না। টিটকিরি শুনেছেন, 'বাঙালির আবার যৌথ উদ্যোগ!' কেউ বলেছে 'এ মা... তোমরা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে বাজার সরকার হবে?'

কিন্তু ওরা কান দেননি। অভিনবের সঙ্গে একমত অভিরূপ বসাকও, অভিরূপ সংস্থার সিইও। বলছিলেন ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গি আর দুর্দান্ত একটা টিম। ওরা সবাই লতায় পাতায় বন্ধু ছিল। ওঁরা এখন অভিন্ন হৃদয়। বলছিলেন গতবছর জুনে লড়াই শুরু হয়েছিল। একটা ছোট্ট ঘরে। সামান্য কিছু টাকাই ছিল মূলধন। ওয়েবসাইটের বেটা ভার্সন তৈরির কাজ করছিলেন ওঁরা। ওঁরা মানে অভিনব, অভিরূপ, কুমারেশ। প্রযুক্তির দিকগুলোর দায়িত্বে শুভাশিস শাসমল এবং বিজয় কর। পনেরই অগাস্ট ছিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। মনে আছে প্রথম দিন এসেছিল একটি মাত্র অর্ডার। কিন্তু ওরা এগিয়েছেন আত্মবিশ্বাসে ভর করে। হতাশ হওয়ার কোনও অবকাশ ছিল না। পাঁচজন মিলেই দৌড়চ্ছিলেন সাফল্যের দিকেই। পেলেনও প্রাথমিক সাফল্য। মাত্র দুমাসের মধ্যে দেবদূতের দেখা পেয়ে গেলেন। ঘরে এলো এককোটি টাকা। তা দিয়েই গুছিয়ে নিতে পারলেন ব্যবসা। এখন কলকাতা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডেলিবাজারের কুড়ি পঁচিশটা বাইক। দিনে শ'দেড়েক অর্ডার থাকে। ছুটির দিনে আরও বেশি। বারাসত-সোদপুর থেকে নরেন্দ্রপুর-বেহালা-ঠাকুরপুকুর সকাল থেকেই ছুটছে ডেলিভারি বয়। কখনও ফ্রোজেন চিকেন দেন না ওঁরা। পরিষ্কার করে বাজার থেকে কাটিয়ে নিয়ে আসেন ওদের ল্যাবে। সেখানে পরীক্ষা হয় গুণগত মান। তারপরই ওরা আপনার অর্ডার পাঠান। এই আন্তরিক যত্নই ডেলিবাজারের ইউএসপি। কুমারেশ ভট্টাচার্য অভিনবের ছোটবেলার বন্ধু। ব্যবসাটার আইডিয়া এসেছিল ওর মাথাতেই সবার প্রথম। নামটাও রেখেছেন কুমারেশই। বলছিলেন অভিনব।

কলকাতার পর এবার ডানা মেলতে চাইছে ডেলিবাজার। দিল্লি, বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, পুনের মতো শহরে এবার ডানা মেলতে ছটফট করছে এই সংস্থা। ভিসি ফান্ডিং খুঁজছেন। দেড় থেকে দু কোটি মার্কিন ডলার পেলেই ডানা মেলবেন। তৈরি করবেন আরও ভালো পরিকাঠামো। কলকাতার এই স্টার্টআপ তখন সমানে সমানে টক্কর দিতে পারবে গ্রোফার্সের মতো বহুজাতিক ইকমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে।

তবে তার অপেক্ষা করতে হবে না আপনাকে। আপনি শুরু করে দিন অর্ডার দেওয়া। আর ঘরে বসে পেয়ে যান বাজারের সেরা সব জিনিস প্রায় পাইকারি রেটে।