কন্যাসন্তান জন্মালে ডেলিভারি চার্জ মকুব করেন ডঃ গণেশ

0

ডঃ গণেশের রাখের বাবা শ্রমিকের কাজ করতেন। তাঁর চিকিৎসক হয়ে ওঠার কাহিনী যতটা চমকপ্রদ, তার থেকেও বেশি প্রেরণা দেয় তাঁর একজন সফল চিকিৎসক হয়ে ওঠার পরের গল্পটা। 

২০০৭ সালে পুণের হাদাপসার শহরতলিতে ২৫ বেডের 'মেডিকেয়ার জেনারেল অ্যান্ড মেটারনিটি হসপিটাল' গড়ে তুলেছেন ডঃ গণেশ রাখ। গরীবগুর্বো রোগীদের চিকিৎসার জন্যেই এই হাসপাতাল চালু হয়েছিল। আজ হাসপাতালের পরিসর যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে ডঃ গণেশের কাজের গভীরতা।

এলাকায় কণ্যাভ্রূণ হত্যা বন্ধ করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন। কন্যাসন্তান প্রসব হলে যাতে কোনওভাবেই হাসপাতালের তরফে কোনও ফি না নেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করেছেন এই চিকিৎসক। এখনও পর্যন্ত নর্মাল এবং সিজেরিয়ান দুটি ক্ষেত্রেই কয়েকশো প্রসবে কোনও টাকাই নেয়নি এই হাসপাতাল। এমনকি, হাসপাতালে কোনও কন্যাসন্তান জন্ম নিলেই তা উদযাপন করতে হাসপাতালের সকলকে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। ডঃ রাখ বলেন, "কণ্যাভ্রূণ হত্যার মাত্রা এত বেশী যে তার কারণ আমাদের সামাজিক নিয়মকানুন শুধু মহিলাদের বিরুদ্ধে কথা বলে তাই নয়, শিশুকণ্যা জন্মেরও বিপক্ষে। চিকিৎসাক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কাজ করায় আমি দেখেছি, একজন মা যখন কোনও কণ্যার জন্ম দেন তখন তাঁকে কী পরিমাণ অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হয়। "

ডঃ রাখের এই উদ্যোগের সবচেয়ে প্রেরণাদায়ক বিষয় এটাই, যে, তাঁর অজান্তেই কখন যেন এই গোটা বিষয়টি একটি সামাজিক বিপ্লবে পরিণত হয়েছে। "সংবাদমাধ্যমে আমার কাজের কথা পড়ার পর অন্তত ১৭-১৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং কয়েকশো চিকিৎসক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা শুধু জন্মের আগে লিঙ্গ নির্ধারণ বা গর্ভপাত বন্ধ করাই নয়, বিভিন্ন পরিবারকে শিশুকণ্যাদের স্বাগত জানাতে উদ্বুদ্ধ করবেন বলেও কথা দিয়েছেন," ডিএনএ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ডঃ গণেশ রাখ। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকার অন্তত ৩,০০০ চিকিৎসক কণ্যা সন্তানদের নিয়ে সামাজিক বিধিনিষেধ এবং গোঁড়ামি দূর করতে ডঃ রাখের এই অভিনব উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন।