৫০ কোটি টাকার ইনোভেশন ফান্ড উত্তরপ্রদেশ সরকারের

0

বিনিয়োগ টানতে রাজ্যগুলির মধ্যে এখন জোর টক্কর। সস্তায় জমি, প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষ শ্রমিক, আইনশৃঙ্খলা ও লোভনীয় ছাড়। লগ্নিকারীদের আকর্ষণ করতে মূলত এগুলিই তুলে ধরা হয় রাজ্যগুলির পক্ষ থেকে। তবে আর একটি জরুরি বিষয় রয়েছে। শিল্পের উপযোগী পরিকাঠামো। দেখা গিয়েছে যে রাজ্যে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, নদীবন্দর ইত্যাদির ব্যবস্থা ভালো দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে তারাই। রাজ্যে শিল্প-পরিকাঠামো আরও মজবুত করতে সম্প্রতি একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব। এর মধ্যে অন্যতম হল ৫০ কোটি টাকার একটি ইনোভেশন ফান্ড গড়ে তোলার ঘোষণা। নেওয়া হয়েছে আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত।গত একত্রিশে অক্টোবর রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করেন অখিলেশ।নভেম্বরে সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক বসে। সেখানেই ইনোভেশন ফান্ডে গঠনের বিষয়টি উঠে আসে।


কী এই ইনোভেশন ফান্ড? কেন এই ইনোভেশন ফান্ড? মূলত রাজ্যের তরুণ উদ্যোগপতিদের পাশে দাঁড়াতেই এমন একটি তহবিল গঠন। নতুন শিল্প ভাবনা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহ দান। তার জন্যই এই State Innovation Fund. এর জন্য চলতি অর্থবর্ষে (২০১৫-১৬) ৫০ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর প্রদেশ সরকারের এক মুখপাত্র। উন্নয়নমূলক এই কর্মসূচির মধ্যে রাখা হয়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্রকেও। পাশাপাশি নতুন রূপ দেওয়া হবে State Innovation Council-কে। কাউন্ডিল ও ফান্ডের কাজকর্মে সহায়তা করার জন্য গড়ে তোলা হবে একটি ইনোভেশন সেল। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করার জন্য একটি State Bio-energy Board গড়ে তোলা হবে। জৈবশক্তি উৎপাদনের সেই কাজে কিছু ক্ষেত্রে ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বা ভ্যাটে ছাড় দেবে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে রয়েছে বায়োমাস বা বায়োগ্যাস চালিত ইঞ্জিন, জেনারেটর সেট, এর যন্ত্রপাতি, রং করার ব্রাশ ইত্যাদি।

শিল্প মানচিত্রে রাজ্যের ছবিটা উজ্জ্বল করতে নেওয়া হয়েছে সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। যা রেভিনিউ ডিপার্টমেন্ট বা রাজস্ব বিভাগ সম্পর্কিত। বর্তমানে রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ৩৯টি আইন। এর মধ্যে অনেকগুলি বহু পুরোনো। অনেকগুলি জটিল। এই আইনি জটিলতার ফলে মামলার পাহাড় জমছে। পুরোনো মামলগুলিরও নিষ্পত্তি হতে দেরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ওই সব আইনের পর্যালোচনা করে একত্রীকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ আইনের সংখ্যা কমানো হবে। কম আইন, কম জটিলতা। এই লক্ষ্যে বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনে একটি বিল আনা হবে। এর ফলে রাজস্ব বিভাগে আইনি-বৈষম্য কমবে বলে মনে করছে সরকার।

National Food Security Act বা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে তৎপর রাজ্য সরকার। ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরের রাজ্য বাজেটে এর জন্য আর্থিক সংস্থানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এই আইনের আওতায় রাজ্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ বাসিন্দা সস্তায় খাদ্যশস্য পাবেন বলে জানিয়েছেন সরকারি ওই মুখপাত্র। ওই জনসংখ্যার ৭৯.৫৬ শতাংশই গ্রামে থাকেন। আর শহুরে বাসিন্দা ৬৪.৪৩ শতাংশ। মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যে State Food Commission গড়ে তোলার প্রস্তাবটিও গৃহীত হয়েছে।

রাজ্য মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতোয়া জেলার যশবন্তনগরকে মডেল তেহসিল হিসাবে গড়ে তুলতে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ বিধিতে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। লোহিয়া আবাস যোজনায় Housing and Urban Development Corporation Limited বা হাডকো থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে সরকারি গ্যারান্টির প্রস্তাবটি ছাড়পত্র পেয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ফি ১০ হাজার থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা, পঞ্চায়েত ভোটে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারীদের এক্সগ্রাসিয়া বৃদ্ধি, পিলিভিট ও ওরাইতে পরিত্যক্ত জেলা জেলখানা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

(পিটিআই)