ভারতের যা দরকার : শিক্ষক-ট্যাবলেট-প্রযুক্তির ত্রিফলা

0

শিক্ষার দৌড় দশম শ্রেণি পর্যন্ত। তারাই শিক্ষকের ভূমিকায়! তাও আবার সংখ্যায় লক্ষাধিক। কোথায়? ভারতের অন্যতম উন্নত রাজ্য বলে পরিচিত মহারাষ্ট্রে। এমনই তথ্য উঠে এসেছে Unified District Information System for Education-এর দেওয়া তথ্যে। ভারতে শিক্ষার হাল কেমন, এই একটি উদাহরণই বোধহয় যথেষ্ট। একবার ভাবুন দেশের পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলিতে অবস্থা তাহলে কী হতে পারে।

বিশ্ব মানচিত্রে সুপার-পাওয়ার হতে চায় ভারত। কিন্তু কাদের ভরসায়? দেশে দক্ষ শিক্ষকের অভাব। নরেন্দ্র মোদী সরকার যে Digital India programme কর্মসূচি নিয়েছে তা সরকারি স্কুলগুলিতে ট্যাবলেট ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতেই বেশি ব্যস্ত।।কিন্তু মূল চালিকা শক্তি, অর্থাৎ শিক্ষক, যদি অবহেলিত হয় এই কর্মসূচিও সফল হতে পারবে না। এই কর্মসূচি এখনও পর্যন্ত কোনও দিশা দেখাতে পারেনি। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সেরা শিক্ষকের যোগাযোগ ঘটাতে পারেনি। দক্ষ শিক্ষক কীভাবে তৈরি করা যায় সেই পরিবেশও দিতে পারেনি।

আগামী দিন হতে চলেছে ডিজিটাল এডুকেশনেরই। এ নিয়ে বোধহয় আর বিতর্কের জায়গা নেই। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে ট্যাবলেট-প্রযুক্তি শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না। বড়জোর শিক্ষকের হাতিয়ার হতে পারে। এখন আমাদের যেটা দরকার তা হল ডিজিটাল টেকনোলজিতে দক্ষ শিক্ষক। যারা দেশজুড়ে একইমানের শিক্ষাদান করতে পারবেন। অর্থাৎ আমাদের প্রয়োজন -ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, কোয়ালিটি কনটেন্ট এবং সর্বোপরি দক্ষ শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের সংযোগ। ভারতে শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় তেমন কোনও ছাপ ফেলতে পারেনি অনলাইন লার্নিং। আসলে এইসব অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলি মূলত ডিজিটাইজড টেক্সটবুক আর কিছু কোর্স মেটিরিয়ালস। আমাদের যেটা দরকার সেটা হল all-inclusive প্ল্যাটফর্ম, একই ছাতার তলায় সবকিছু।


প্রযুক্তি-নির্ভর প্ল্যাটফর্ম Mobiliya Edvelop কিন্তু এমনই একটি ভ্যালু বেসড ডিজিটাল এডুকেশনের ব্যবস্থা করে দিশা দেখিয়েছে। অনলাইন কিছু কোর্স কনটেন্টের মধ্যেই শিক্ষার ব্যাপারটা সীমাবদ্ধ রাখেনি মোবিলিয়া। সম্প্রতি চিন সরকারকে এমনই একটি পাইলট প্রোগ্যামে সহায়তা দিয়েছে এই সংস্থা। পশ্চিম চিনের পিছিয়ে পড়া এলাকার স্কুলগুলির সঙ্গে শহরের শিক্ষাকেন্দ্রগুলিকে জুড়ে দিতে পেরেছে। যাতে গ্রামাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরাও ভালো শিক্ষার সুযোগ পেতে পারে। গ্রামের ওইসব স্কুলগুলিতে শিক্ষার উপযুক্ত পরিকাঠামো, দক্ষ শিক্ষক নেই। সেই ঘাটতি পূরণ করতে Mobiliya Edvelop platform কাজে লাগান হয়েছে। শহরের নামি স্কুলের শিক্ষকরা একইসঙ্গে দু'টি ক্লাস নিচ্ছেন-একটি সিটি স্কুল আর অন্যটি গ্রামের কোনও স্কুল। ব্যাপারটা আর কিছুই না। শিক্ষক রয়েছেন শহরেই, সেখানেই তিনি পড়াচ্ছেন, পরীক্ষা নিচ্ছেন, হোমটাস্ক দিচ্ছেন। কিন্তু গ্রামের পড়ুয়াও তা দেখতে ও শুনতে পাচ্ছে, এমনকী প্রশ্নও করতে পারছে। সিটি স্কুলে শিক্ষক যা পড়াচ্ছেন তা অডিও-ভিডিও সহযোগে প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় একই সময়ে (রিয়েল টাইম) ট্রান্সমিশন হচ্ছে গ্রামের সেই স্কুলে। প্রোজেকটর ও স্পিকারের মাধ্যমে গ্রামের স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা তা দেখতে ও শুনতে পাচ্ছে। ওয়ারলেস মাইক্রোফোনের সাহায্যে শহরে থাকা শিক্ষককে তারা প্রশ্নও করতে পারছে। এটাই সেই সহজ কিন্তু শক্তিশালী ডিজিটাল প্রযুক্তি যা দূরত্বের ব্যবধান মিটিয়ে দিচ্ছে। উচ্চ মানের শিক্ষা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে ছড়িয়ে পড়ছে।

দক্ষ শিক্ষকের সমস্যা যে শুধুমাত্র গ্রামীণ ভারতেরই সমস্যা তা কিন্তু নয়। শহরের স্কুল ও কলেজেও একই সমস্যা রয়েছে। সেজন্যই ব্যাঙের ছাতার মতো কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে, প্রাইভেট টিউশনের এত রমরমা। এর মোকাবিলার জন্যই আমাদের দরকার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। যার মাধ্যমে স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা সব শিক্ষার্থীকে মাইক্রো-টিউশন দিতে পারবেন। প্রত্যেক পড়ুয়ার থেকে সেরাটা বের করে আনতে তাদের উপযোগী পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করতে পারবেন। এর ফলে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী যেমন উপকৃত হবে, ঠিক তেমনই একজন শিক্ষক ধারাবাহিক ভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

সবচেয়ে সহজ সমাধান এটাই। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংযোগ, ট্যাবলেট ও প্রযুক্তি। সরকারকে নিতে হবে এই ত্রিমুখী পদক্ষেপ। তবেই উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। এখন কথা হল সরকার কি তা করবে?

লেখক - কৃশ কুপাথিল, সিইও, মোবিলিয়া