ঘরে তৈরি খাবারের স্বাদ jabweate এ

1

কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয় অনেককেই, অন্য রাজ্য থেকেও অনেকে আসেন আমাদের শহরে। আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, চেনা পাড়া, চেনা পরিবেশ ছেড়ে এসে অন্য সব কিছুর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা মিস্ করেন ঘরের তৈরি নিজের দেশের খাবার। হাত পুড়িয়ে রান্না করতে না চাইলে তাঁদের ভরসা স্থানীয় খাবার, বা কোনো রেস্তোঁরা। কিন্তু রেস্তোঁরার খাবারে থাকে না ঘরের ছোঁয়া।

পরবাসী এইসব মানুষদের ঘরে রান্না খাবারের স্বাদ দিতেই jabweate.com। “অফিসের কাজে আমাকে মুম্বই যেতে হয়েছিল, সেখানকার নানা নামী দামী রেস্তোঁরায় ভাল ভাল খাবার খাই, তবে কয়েকদিন পর থেকেই ওই খাবার আর ভাললাগছিল না আমার, ঘরে রান্না খাবার মিস্ করছিলাম খুব। তখনই আমারা মনে হয় আমার মতো অনেককেই কেরিয়ার গড়তে যেতে হয় অন্য শহরে, সেখানে অন্য নানা সুবিধা মিললেও পাওয়া যায় না ঘরে তৈরি খাবার, ভাবনাটা শুরু ওখান থেকেই”, বললেন jabweate এর প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ ধানুকা।

পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাত, দক্ষিণ ভারতের নানা রাজ্য ইত্যাদি সব জায়গার খাবারই পাওয়া যায় jabweateএ। মেলে বাঙালি খাবারও। আর এ সবই ঘরে তৈরি। মেনু দেখে অর্ডার করলেই ঘরে পৌঁছে যাবে খাবার। পুরোটাই নিরামিষ।


ঘরে তৈরি খাবারের জন্য একটি অভিনব উপায় বেছে নিয়েছেন সৌরভ। নিজেরা রান্না করার পাশাপাশি, বিভিন্ন গৃহবধূদের রান্না করা খাবার ক্রেতাদের পৌঁছে দেন তাঁরা। কোনো গৃহবধূ তাঁর পছন্দের রান্না করে আয় করতে চাইলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন jabweate এর সঙ্গে, সেই খাবারকে নিজেদের মেনুর অংশ করে নেবে jabweate এবং অর্ডার এলে জানিয়ে দেওয়া হবে তাঁকে, ও কোম্পানি সরবরাহকারী কর্মীরা তাঁর বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে পৌঁছে দেবেন ক্রেতার কাছে। এতে একদিকে যেমন আয়ের সংস্থান হয় রন্ধনকারীর অন্যদিকে ক্রেতা পান একেবারে গৃহীনির হেঁশেলে তৈরি গরম সুস্বাদু খাবারের স্বাদ।

“উন্নতমানের, সুস্বাদু খাবার সরবরাহ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য, কোনো খাবারই আগে থেকে তৈরি করে রাখা হয় না, অর্ডার এলে তবেই শুরু করা হয় রান্না, এতে খাবারের অপচয়ও হয় না আর ক্রেতা পান সদ্য রান্না হওয়া খাবার”, বললেন সৌরভ।


সৌরভ ধানুকা
সৌরভ ধানুকা

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের খাবারের পাশাপাশি মেক্সিকান, ইতালিয়ান, চাইনিজ্ ইত্যাদি খাবার ও ডেজার্টও সরবরাহ করে jabweate। বিভিন্ন উত্সব-অনুষ্ঠানেও খাবার সরবরাহ করে তারা। স্বাস্থ্যকর উপায় রান্না করার দিকে দেওয়া হয় কড়া নজর।

নিজের ব্যর্থতাকেই সবথেকে বড় অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন সৌরভ। আইআইএম, কলকাতা থেকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ করা তাঁকে অনেকটাই আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে নিজের মতো করে কিছু করার জন্য। বললেন, “আমি প্রায়শই পড়তাম অল্প বয়সী সব ছেলে মেয়েরা কী ভাবে সব অভিনব উদ্যোগ শুরু করছে এবং সাফল্য পাচ্ছে। এইসব গল্প খুবই অনুপ্রাণিত করতে আমাকে। তাছাড়া ভারতের ১ বিলিয়ন জনগণ আমার অনুপ্রেরণা”।

নিজের কাজের সম্পর্কে প্যাশনেট হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সৌরভ। বললেন, “যদি প্ল্যান এ কাজ না করে তাহলে অক্ষরমালায় আরও ২৫ টা অক্ষর রয়েছে”, নিজেকে ক্রমশ উন্নত করা ও নতুন নতুন ভাবনার মাধ্যমে পরিবর্তিত করাই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করেন তিনি। জানালেন jabweate কে কখনোই শুধুমাত্র মোবাইল অ্যাপভিত্তিক পরিষেবাতে পরিণত করবেন না কারণ সবধরণের মানুষকেই পরিষেবা দিতে চান তিনি। বললেন, “অনেকেই ফোন করে অর্ডার দিতেই বেশি সচ্ছন্দ ও সেটাকেই ভরসাযোগ্য মনে করেন”।

দ্রুত উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করাই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন সৌরভ। স্বাভাবিকভাবেই খাবারের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে রাজি থাকেন না কেউ, “jabweate এ এক থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যে খাবার সরবরাহ করার চেষ্টা করি আমরা, যেহেতু অর্ডার পাওয়ার পরই আমরা রান্না শুরু করি তাই এইটুকু সময় লাগেই”। সঠিক সরবরাহ কর্মী নির্বাচন করাটাও একটা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন সৌরভ। “ভাল রাস্তা চেনে এবং স্মার্ট ফোন ব্যবহার করার মতো শিক্ষিত এইরকম কর্মী খুঁজে বের করতে হয়েছে আমাকে। অনেক সময়ই এরকম হয়েছে যে আমি নিজে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়ে এসেছি, রান্নাঘর পরিস্কার করেছি”। কর্মীদের নিজের মতো করে কাজ করার সুযোগ দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।

গত সেপ্টেম্বরে jabweate শুরু করেছেন সৌরভ। এখন অবধি সরবরাহ করেছেন ২৫০ টিরও বেশি অর্ডার। রোজই আরও নতুন নতুন পদ নিজেদের মেনুতে যোগ করছেন তাঁরা। কেক ও ডেজার্ট ইতিমধ্যেই সরবরাহ করা হচ্ছে, খুব তাড়াতাড়িই মিষ্টিও বিক্রি করা শুরু করবেন বলে জানালেন সৌরভ। এছাড়াও বাড়ি ও অফিসে সরবরাহ করার জন্য আরও নতুন পদ যোগ করা হবে।

আপাতত সল্টলেক থেকেই ব্যবসা চালাচ্ছেন সৌরভ, আগামী বছরে শহরের আরও চারটি জায়গায় রান্নাঘর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, “এখন সাউথসিটি কেউ অর্ডার দিলে, সল্টলেক থেকে খাবার পাঠাতে হয়, ক্রেতার পক্ষে এতক্ষণ অপেক্ষা করাটা সমস্যাজনক তাই শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে খাবার সরবরাহ করতে চাই আমরা” বললেন সৌরভ।

এই চারটি জায়গায় রান্নাঘর তৈরি ও ব্যবসার প্রসারের জন্য ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ সংগ্রহের চেষ্টা করছে jabweate।