স্টার্টআপে মাল্টি-কালচারাল টিম সামলানোই চ্যালেঞ্জ

0


চিকিৎসকদের জন্য কোনও প্রডাক্ট তৈরি করা বেশকঠিন ব্যাপার। কারন তাঁদের প্রয়োজন বোঝা মুশকিল। তাই আমরা বুঝেছিলাম একটা ঠিকঠাক প্রডাক্ট তৈরির জন্য ডাক্তার এবং ডেভেলপারদের নিয়ে ভারসাম্যের দল তৈরি করতে হবে। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে 'ডেইলি রাউন্ড’ সত্যিই ভাগ্যবান। কারণ ‘ডেইলি রাউন্ড’ হল কিছু ভালো চিকিৎসক এবং ডেভেলপারের মিশেল। কিন্তু একটা সদ্য স্টার্টআপের পক্ষে মাল্টি কালচারাল টিম (নানা ধরনের মিশেল) তৈরি করা বেশ চ্যালেঞ্জের। যদি কোনও স্টার্টআপে ১০০ জন থাকে তাহলে, নিজের সংস্থার পরিকাঠামোর মধ্যে বহুমুখী দল পরিচালনা করা সম্ভব। একটা স্টার্টআপ প্রাথমিক অবস্থায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মাল্টি-কালচারাল টিম কীভাবে সামলাবে? কাজ করতে গিয়ে যা যা শিখেছি তার একটা তালিকা নীচে দিয়ে দিলাম। অনেকে এটা থেকে সাহায্য পেতে পারেন।

১. প্রথম দিন থেকেই সংস্থার সঠিক সংজ্ঞা জানিয়ে দেওয়া দরকার আমাদের জন্য(বেশিরভাগ স্টার্টআপের জন্য)এটা একটা প্রডাক্ট।

প্রায় প্রতিদিনই আমাদের বলতে হয়, আমরা টেক সংস্থা, হেলথকেয়ার বা মেডিক্যাল সংস্থা নই। প্রথম দিন থেকে এটা পরিষ্কার হয়ে গেলে লক্ষ্য স্থির থাকবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ায়ও সহজ হবে। বলা যতটা সহজ, করা অবশ্য ততটা সহজ নয়। যারা টেকনিক্যাল নন, তাদের একটাই প্রশ্ন, কেন প্রডাক্টকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? নিজের প্রয়োজনে বিষযটি পরিষ্কার করে দেওয়া দরকার। বুঝিয়ে দিতে হবে সবার ভালোর জন্যই এতকিছু।

২. টিমের প্রত্যেকের ডাটা থাকবে। ডাটার দ্বারাই চালিত হবেন প্রত্যেকে। সবার অ্যানালিস্টিক এক্সেস থাকবে।

সবচেয়ে জুনিয়র ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, এই মাসের হাল কী বুঝছেন? সঙ্গে সঙ্গে একটা উত্তর পাবেন। অফিসে সবাই DAU (daily active user) এবং MAU (monthly active user)জানেন। কীভাবে কাজ করে? কিছু অ্যাকটিভ ডাটা থাকে এবং কিছু পেসিভ। আমরা সবাই জানি, অ্যাকটিভ ডাটা ড্রিভেন প্রসেস হল, আমাদের কাছে যা ডাটা রয়েছে তার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিই। আর পেসিভ প্রসেস থাকে আমাদের মাথায়, ব্রেনে। ধরুন আপনি কোনও রং পছন্দ করলেন বা দিনের কোনও একটা সময়ে নোটিফিকেশন পাঠালেন অথবা লেখার জন্য কোনও একটা বিষয় বাছলেন। একটা প্রসেস তখনই কার্যকর হবে, যখন আপনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ডাটা দ্বারা পরিচালিত।

৩. সবাইকে বাজার বুঝতে হবে

মোটামুটি ৮৭ শতাংশ ডাক্তার স্মার্টফোন রাখেন টুকটাক ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য। ফলে পুরও টিমের পক্ষে মোবাইল বোঝা বেশ কঠিন। আমাদের অ্যাপসের একটা আবশ্যক তালিকা রয়েছে যেখানে ট্রিভিয়া ক্র্যাক, উইশবোন, ইনসটাগ্রাম, ফেসবুক, ফ্লিপবোর্ড, ট্রু অর ফলস, ভাইন, কুইজআপ। গোটা টিম এই অ্যাপসগুলি ব্যবহার করে। আমাদের প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ফার্মা, মেডিক্যাল ডিভাইস কোম্পানি এবং হাসপাতালগুলি কী উপায় নেয় তা বোঝার দরকার পড়ে। কীভাবে ক্লিনিক্যাল কেসগুলি আলোচনা করা হয় তা বুঝতে আমরা মাঝে মাঝে মেডিক্যাল কলেজ এবং সিএমই (কনটিনিউইং মেডিক্যাল এডুকেশন)ইভেন্টগুলিতে যাই। যদি ছোট টিম হয়(২০ জনের কম) তাহলে কোনও সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে সেই বিষয়ের সঠিক চিত্র পেতে টিমের সবাইকে তার ধারণা দেওয়া দরকার।

৪. গ্রাহক পরীক্ষা এবং ফিডব্যাক দলের বন্ধন শক্ত করে

সবাই জানি ইউসার টেস্টিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তবু হয়ে ওঠে না। তাই আমরা পলিসি করে নিয়েছি, সবাইকে এটা করতে হবে। তার ফলে একরকম চমৎকার হল! দলের প্রত্যেকে গ্রাহক পরীক্ষা করছেন। বেশিরভাগ আবার গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলছেন। তাতে মজা যেমন পাওয়া যায়, তেমনি মানসিক যোগাযোগ গড়ে ওঠে। আমরা ইউসার টেস্টিংয়ের জন্য হোয়াসটঅ্যাপ ব্যবহার করি। যদি ইউসার টেস্টিং করবেন ঠিক করেন, তাহলে এখনই করুন। হেয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সেক্ষেত্রে সহজ সমাধান।

৫. মাল্টিকালচারাল টিমের জন্য খোলা অফিস লেআউটই ভালো

খোলা অফিস বনাম খানিকটা খোলা বা একেবারে বদ্ধ পরিবেশের অফিস-এইসব নিয়ে হামেশা তর্ক লেগেই থাকে। যদি আপনার ছোট, মাল্টি-কালচারাল টিম হয় তাহলে খোলা পরিবেশের অফিসই ভালো। এর ফলে আইডিয়ার আদান প্রদান হয়। যদিও এক টেবিলে বসে আলোচনা চ্যালেঞ্জিংও বটে। আলোচনার বিষয় সবার জন্য প্রাসঙ্গিক নাও হতে পারে।

৬. একসঙ্গে দৌড় শুরু করার জন্য সুসংগঠিত হতে হবে

প্রথম দিকে শুধু ডেভেলপাররা স্ক্রাম এবং স্প্রিন্টে অংশ নিত। এখন পুরও টিম তাতে সামিল। ডাক্তারদেরও ডেমো তৈরি করতে হয়, দু সপ্তাহে কী কাজ হল তার তালিকা দিতে হয়।

৭. মতভেদকে সম্মান দিতে হবে

পেশাদারদের মধ্যে নানা মত থাকবেই। ডাক্তারা প্রথা ভেঙে তাড়াতাড়ি এগনোর মন্ত্র মানতে চান না। যখনই সেই চেষ্টা করতে গিয়েছি মুখ থুবড়ে পড়েছি। টক্সিকোলজির ওপর দুসপ্তাহে একটা ডাটাবেস তৈরি করতে চেয়েছিলাম। ডাটাবেস তো তৈরি হল, কিন্তু তাতে ভুল ছিল। ডাক্তারদের কাছে সেটা গেলে বিপদ হত। ফলে আমাদের ডাক্তাররা প্রথা না ভেঙে তাড়াতাড়ি এগোন, কিন্তু ডেভেলপাররা প্রথা ভাঙতেই আগ্রহী।

৮. যা তৈরি করছেন তার মূল্য যেন সবাই বুঝতে পারে

লক্ষ্য আর প্রভাব-দুটো আলাদা জিনিস। সংস্থার সবাই যখন লক্ষ্য বুঝতে পারছেন, দল যা করছে তার তাৎক্ষণিক প্রভাব সুস্পষ্ট নাও হতে পারে। ধরা যাক, ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লুর মতো রোগের আপডেট দেরি হয়, কারণ চিকিৎসকরা সবসময় খোলাখুলি বলতে চান না। হাজার হাজার ডাক্তার যে চিকিৎসা করছেন,তার ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। বিষয়টা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনার পর দেখা যাবে ডেভেলপাররা কীরকম দ্রুততায় সব সেরে ফেলেন।

৯. একদল আরেক দলের গুরুত্ব বুঝবে

দলের সদস্যরা নিজেদের অবদান এবং কাজের গুরুত্ব বুঝবেন, সেটাইতো স্বাভাবিক। অন্য দলের কাজের গুরুত্ব বোঝাটাও জরুরি। আমাদের ক্ষেত্রে বলতে পারি, ডাক্তাররা সবসময় জানেন এটা একটা প্রযুক্তি সংস্থা। ডেভেলপারদের কাজ এবং তাদের ভূমিকা বোঝাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ডেভালপারদেরও বুঝতে হবে, ডাক্তারদের সাহায্য ছাড়া গ্রাহকদের কাছে সঠিক মানের জিনিস পৌঁছানো সম্ভব নয়। ঠিক এই ব্যাপারটাই পরস্পরের প্রতি সম্মানের আবহ তৈরি করে।

১০. মজা করুন

সবাই মজা করতে ভালোবাসেন। যেভাবে ভালো লাগবে সেভাবে মজা করুন। কিন্তু মজাটা যেন হয়।

কীভাবে ১ লক্ষ ৮০ হাজার চিকিৎসক তাদের রোগীর চিকিৎসা করেন তার মাধ্যমে আমরা সরাসরি প্রভাবিত হই। সবাই জানেন এটা বড় দায়িত্ব। চিকিৎসা ক্ষেত্রে কোনও ব্রেকিং বা মহামারীর খবর দিয়ে আমরা চিকিৎসকদের আপডেট রাখি। কী প্রোডাক্ট তৈরি করছি তার গুরুত্ব এবং প্রভাব সবাই আমরা জানি। দিনের শেষে সেটাই এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।