ম্যালেরিয়া নির্ণয়ের অ্যাপ বানালেন কলকাতার দুই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া

3

এখন ডেঙ্গু আকছার হচ্ছে। প্রাণঘাতী এই রোগের বলী হয়েছেন শহরের অনেকেই। তরুণ তাজা প্রাণও নিয়েছে ডেঙ্গু। পাশাপাশি ম্যালেরিয়ারও খবর পাওয়া যাচ্ছে। জ্বর হলে সাবধান। রক্ত পরীক্ষা অবশ্যই করান। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে রক্তপরীক্ষার সময় লাগছে। কম করে ২৪ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে ম্যালেরিয়ার রিপোর্ট পেতে। এই সমস্যার সমাধান নিয়ে এসেছেন কলকাতার ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট(IEM)এর সল্টলেক শাখার B-Tec ফাইনাল ইয়ারের দুই পড়ুয়া।

মাত্র ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ডেই হয়ে যাবে পরীক্ষা। খরচ পড়বে ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা। রক্তে ম্যালেরিয়ার জীবাণু আছে কিনা জানতে ব্যাস ওইটুকুই। এসএমএসে পৌঁছে যাবে সহজ উত্তর।

নীলাঞ্জন দাঁ এবং দেবপ্রিয়া পালের ১ বছরের দীর্ঘ গবেষণার ফল। IEM এবং IIEST র যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এই অ্যাপ। গোটা গবেষণার নেপথ্যে রয়েছেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক মনু প্রকাশ। যার পাঠানো ফোল্ডস্কোপের ওপর পরিচালিত হয়েছে এই গবেষণা। চারজনের ডেভেলপার টিমে রয়েছেন দেবপ্রিয়া পাল, নীলাঞ্জন দাঁ ছাড়াও তাঁদের গাইড দুই অধ্যাপক নীলাঞ্জনা দত্তরায় এবং অরিন্দম বিশ্বাস। 

প্লাজমোডিয়াম পরজীবী কারও শরীরে ঢুকেছে নাকি তিনি সুরক্ষিত? কয়েক সেকেন্ডেই এই প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর দেবে অ্যাপটি। অতিরিক্ত উপকরণ বলতে একটি পোর্টেবল মাইক্রোস্কোপ। পোর্টেবল মাইক্রোস্কোপে রক্ত নিয়ে মোবাইলের ক্যামেরার সঙ্গে সংযুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যাবে চিহ্নিতকরণের কাজ। অ্যাপ চালু করলে, কয়েক সেকেন্ডে বলা যাবে রক্তে ম্যালেরিয়ার জীবাণু আছে কি না। পরীক্ষার ফলাফল এসএমএসের মাধ্যমে চলে আসবে মোবাইলেও। ব্লাড স্যাম্পলের ইমেজ ক্লাউড সার্ভারে যাওয়া মাত্রই একটা আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজিন্সের অ্যালগোরিদম কাজ করা শুরু করে। এবং সেই অ্যালগরিদমই নির্ণয় করতে শুরু করে ম্যালেরিয়ার জীবাণুর অস্তিত্ব। গাঁ-গঞ্জে এই অ্যাপের প্রয়োগ শুরু করলে, রোগ চিহ্নিতকরণ এবং চিকিৎসা সহজে হবে বলে মত গবেষকদের।

পরীক্ষা থেকে ২টি রিপোর্ট তৈরি হয়। একটি বিস্তারিত তথ্য দিয়ে ডাক্তারদের জন্য বিস্তারিত রিপোর্ট। অন্যটি ব্যবহারকারীর জন্য সরল রিপোর্ট। 

যেকোনও অ্যানড্রয়েড স্মার্ট ফোনে খুব সহজে এই পরীক্ষা সম্ভব। ৭০ টাকা লাগে একটা ফোল্ডস্কোপের জন্য। বারবার ব্যবহার করা যায়। যদি না কোনওভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এমনিতে এগুলি বেশ টেকসই হয়। ১০০০ থেকে ২০০০ বার ব্যবহার করা যায় অনায়াসে। এক একটা স্লাইড এক থেকে দেড় টাকা দাম। খুব বেশি স্লাইড ব্যবহার করলেও ৮ থেকে ১০ টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। যেটা প্যাথলজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাগে। মূলত গরিবদের কথা ভেবেই এই গবেষণা এবং আবিষ্কার,

পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা দেশে ম্যালেরিয়া নির্ণয়ের জন্য এই ব্যবস্থা দ্রুত চালু হোক। সরকারকে চিঠি দিয়েছেন ওঁরা। উত্তরও পেয়েছেন। গবেষণার প্রশংসাও করা হয়েছে সরকারিভাবে। কিন্তু তারপর আর কোনও সাড়া নেই রাজ্য সরকারের তরফে। গবেষকদের বক্তব্য এই অ্যাপ গ্রামাঞ্চলের জন্য অনেকটা সুবিধাজনক হবে। ওরা চান সরকার ওদের এই গবেষণার ফসল ঘরে তুলুক। আপামর জনসাধারণের কাজে লাগুক।

Related Stories