প্রযুক্তিবিদ্যায় মেয়েদের রোল মডেল শ্রীলঙ্কার শাহানি মার্কাস

0
শাহানি মার্কাস
শাহানি মার্কাস

শাহানি মার্কাস, জন্ম শ্রীলঙ্কার ডাক্তার পরিবারে। তবে ডাক্তারি নয়, ইঞ্জিনিয়ারিং আর কম্প্যুটারের জগতই বেশি টানত ছোট্ট শাহানিকে। মেধা, জিদ আর অধ্যাবসায়কে সঙ্গী করে একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছেন শাহানি। ভার্চুসার (শ্রীলঙ্কা) ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রধান, আইসিটি এজেন্সির প্রধান প্রযুক্তি আধিকারিক, কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ কম্প্যুটিং-এর বোর্ড অফ ম্যানেজমেন্টের সদস্য, রাষ্ট্রপুঞ্জের উন্নয়ন প্রকল্পের ইগভর্নেন্সের সিনিয়র উপদেষ্টা, রয়্যাল গভর্নমেন্ট অফ ভুটানের উপদেষ্টা এবং তিনটি কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা- এই সব ক’টি কৃতিত্বই একে একে ঝুলিতে পুরেছেন এই প্রযুক্তিবিদ্।

তবে পথটা মোটেই সহজ ছিলনা। শিক্ষাজীবন বা কর্পোরেট সেক্টর, বারবারই শিকার হতে হয়েছে লিঙ্গ বৈষম্যের। প্রতিবারই দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে এগিয়ে গেছেন, পৌঁছেছেন কাঙ্খিত লক্ষ্যে, মহিলা প্রযুক্তিবিদ্ হিসেবে হয়ে উঠেছেন শ্রীলঙ্কার হাজার হাজার মেয়ের রোল মডেল। শাহানির সঙ্গে কথপোকথন থেকে উঠে এল তাঁর জীবনের উত্থান, সাফল্য, ব্যর্থতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী।

ছেলেবেলা

ছোটবেলা থেকেই শাহানি ছিলেন মনযোগী পাঠক। টাইম ম্যাগাজিন, রিডার্স ডাইজেস্ট বা নিউজউইক, হাতের কাছে যাই পেতেন এ মলাট থেকে ও মলাট পড়ে ফেলার অভ্যাস ছিল শাহানির। শ্রীলঙ্কায় তখনও ইন্টারনেট পৌঁছয়নি, টেলিভিশন সবে এসেছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা পড়ে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ইউএস সম্পর্কে ততদিনে একটা চিত্র তৈরি করে ফেলেছেন শাহানি এবং ঠিক করে ফেলেছেন ভবিষ্যতে সেখানেই থাকবেন ও কম্প্যুটার নিয়ে পড়াশোনা করবেন। কিন্তু মা বাবা চাইতেন মেয়ে ডাক্তার হোক, তাছাড়া মেয়ে হয়ে শ্রীলঙ্কার বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও সহজ ছিলনা।


স্কুলজীবনে শাহানি
স্কুলজীবনে শাহানি

ক্লাস টেনের পর অঙ্ক ও প্রাণীবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেন শাহানি যাতে ডাক্তারি ও ভৌতবিদ্যা দুটি নিয়েই পড়াশোনার পথ খোলা থাকে। কিন্তু ইচ্ছে ছিল ভৌতবিদ্যা নিয়েই উচ্চশিক্ষার। সেই সময় কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ও রাশিতত্ত্ব বিভাগে কম্প্যুটার নিয়ে পড়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু সরকারি নিয়ম পরিবর্তনের ফলে কোর্সটিতে ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় পড়েন শাহানির মা বাবা। এরপর খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট বিজনেস ম্যানেজমেন্টে (এনআইবিএম) কম্প্যুটার সিস্টেম ডিজাইনে ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়, সেখানেই ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শাহানি।

সেই সময় ব্যক্তিগত কম্প্যুটার হিসেবে ইউকে-তে সিনক্লেয়ার স্পেকট্রাম লঞ্চ হয়। শাহানির বাড়িতেও ছিল সেই কম্প্যুটার। শাহানির ভাই যখন কম্প্যুটার গেম খেলতে ব্যস্ত শাহানি সোর্স কোড ব্রেক করতেই ছিলেন বেশি আগ্রহী, কিছু পত্রপত্রিকা পড়ে শিখে নিয়েছিলেন কৌশল। এনআইবিএম-এ নিজের ব্যাচে প্রথম হন শাহানি, মেলে ইউএস-এতে উচ্চশিক্ষার জন্য ইনস্টিটিউট প্রধানের সুপারিশ। ইউএস-এর ভাল কলেজগুলির নাম জানাই ছিল। লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের জন্য লেখা ও ডেটা এন্ট্রির কাজের সূত্রে বিভিন্ন জার্নাল ঘাঁটার সময় শাহানি দেখে নিতেন কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পেপার দেওয়া হয়েছে।

প্রতিকুলতা ও সাফল্য

শাহানির উচ্চশিক্ষার জন্য ইউএস যাওয়ার সিদ্ধান্তে সমর্থন ছিলনা পরিবারের। বরং তাঁরা, চাইছিলেন আইন নিয়ে পড়ুক মেয়ে। মায়ের উপরোধে আইনশিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসেছিলেন ও পাসও করে গিয়েছিলেন শাহানি। অবশেষে এনআইবিএম-এর ডিনের পরামর্শে মেয়েকে ইউএস যেতে দিতে রাজি হন তাঁরা।

কিন্তু ইউএস-এতে স্নাতকস্তরে পড়ার আবেদন দাখিলের কিছুদিনের মধ্যেই মারা যান শাহানির বাবা। আইনি জটিলতায় আটকে যায় সম্পত্তি হস্তান্তর। পড়াশোনার অর্থের যোগান মুশকিল হয়ে পড়ে। সেই সময়ই ইউএস-এর এক চিকিৎসক তাঁদের বাড়িতে আসেন শোকজ্ঞাপন করতে। শাহানির সমস্যার কথা জানতে পারেন তিনি, বলেন তাঁর ছাত্রাবস্থায় শাহানির বাবা অনেক সাহায্য করেছেন, পরিবারের এই বিপদের সময় তিনি সেই ঋণ শোধ করতে চান। শাহানির ভাগ্য ফেরে, তাঁর পড়াশোনা চালানোর জন্য অর্থের যোগান দেন সেই চিকিৎসক। পুর্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন শাহানি। সেখানে গিয়ে শাহানি বোঝেন কত কম সংখ্যক মেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসেন।

কম্প্যুটার সাইন্স ও গণিত নিয়ে স্নাতক স্তরের শিক্ষা শেষ করেন শাহানি ও পরে গণিত নিয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেন। পুর্দুতে পড়ার সময়ই আলাপ হয় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত এক শ্রীলঙ্কানের সঙ্গে, সেখানেই প্রেম ও পরে বিবাহ। শাহানি যখন নিজের পিএইচডি শেষ করেন তখন তিনি দুই সন্তানের মা।

শাহানির গবেষণার বিষয় ছিল পার্শিয়াল ডিফারেনশিয়াল ইক্যুয়েশন সমাধানে সমান্তরাল সফট্ওয়্যারের পুনর্ব্যবহার। এছাড়া অ্যাডমিন মডিউলে হাইব্রিড সুপারকম্প্যুটার সায়েন্টিফিক সফটওয়্যার নির্মাণে সাধারণ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সি, জাভা এবং পার্লের ব্যবহার নিয়েও কাজ করছিলেন তিনি।

আত্মবিশ্বাস হারানো ও ঘুরে দাঁড়ানো

১৯৯৭ সালে নিউইর্য়কের আইবিএম রিসার্চ সেন্টারে যোগ দেন শাহানি। সেই সময় নিউইয়র্কের স্টার্টআপগুলি অর্থনৈতিক শিল্পের তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিল। ১৯৯৯ সালে পিএইচডি শেষ করার পর শাহানি এইরকম একটি স্টার্টআপে প্রধান ইঞ্জিনিয়র হিসেবে নিযুক্ত হন।

“ইউএস-এ শিক্ষা বা কাজের ক্ষেত্রে এত কম সংখ্যক মহিলা (শ্রীলঙ্কার তুলনায়) ছিলেন যে আমি আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছিলাম। আমি যে সত্যিই ভাল কাজ করছি সেই স্বীকৃতি কোথাও পাচ্ছিলাম না,” বললেন শাহানি।

কোনো মহিলা রোল মডেল পাচ্ছিলেন না শাহানি। তাঁর স্বামী শ্রীলঙ্কায় ফিরে আসতে চান ছেলে মেয়েদের শ্রীলঙ্কার সংস্কৃতিতে বড় করবেন বলে, কিন্তু শাহানির ফেরার ইচ্ছে ছিল না। ভার্চুসার সিইও-এর সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ফেরার বিষয় কথা বলেন শাহানি, তাঁকে শ্রীলঙ্কার বিভাগের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন ভার্চুসা সিইও। শ্রীলঙ্কার টিমে চিফ আর্কিটেক্ট হিসেবে যোগ দেন শাহানি, এবং প্রাথমিকভাবে বস্টনে কিছুদিনের জন্য কাজ করার অনুমতি পান।

ভার্চুসাতে ২০০৩ সালে
ভার্চুসাতে ২০০৩ সালে

এন্টারপ্রাইস থেকে ইগভর্নেন্স

ভার্চুসাতে কাজ করার সময় শাহানি যে টিমের সদস্য ছিলেন তা শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রকে ২০০ থেকে ১০০০ সদস্যের টিমে পৌঁছে দিয়েছিল। শাহানি প্রযুক্তি টিমের দায়িত্বে ছিলেন, একসঙ্গে চলা ২০টি প্রজেক্টে কাজ করছিল সেই টিম। শাহানির দায়িত্ব ছিল টিমের কর্মপদ্ধতির রূপরেখা তৈরি, কর্মদক্ষতা পরিমাপের পদ্ধতি তৈরি, আর সফ্টওয়্যার ডিজাইন ও আর্কিটেকচারের পরীক্ষা।

পাঁচ বছর কাজ করার পর ছেলেমেয়েদের সময় দিতে চাকরি ছেড়ে দেন শাহানি, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারেন বাড়িতে বসে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

ইগভর্নেন্স লাগু করার জন্য শ্রীলঙ্কায় যে সর্বোচ্চ কমিটি তৈরি হয়েছিল তার চেয়ারম্যান ছিলেন শাহানির মেন্টর অধ্যাপক সামারানায়েকে। শাহানিকে শ্রীলঙ্কার আইসিটি এজেন্সিতে সিটিও হিসেবে যোগ দিতে বলেন তিনি. এর আগে শাহানি যা কাজ করেছেন ইগভর্নেন্সের কাজ ছিল তা থেকে অনেকটাই আলাদা তবুও এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করতে পারেননি শাহানি।


আইসিটিতে ২০০৭ সালে
আইসিটিতে ২০০৭ সালে

আইসিটি এজেন্সিতে কাজ করার সময় লঙ্কা গেট প্রজেক্টে কাজ করেন শাহানি। এই প্রজেক্টের লক্ষ্য ছিল সব সিস্টেমগুলিকে শ্রীলঙ্কার মূল সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা। প্রজেক্টের টাকা দিয়েছিল ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক। প্রজেক্টটি কীভাবে পরিষেবাভিত্তিক আর্কিটেকচার হয়ে উঠতে পারে তা পরিকল্পনা করেছিলেন শাহানি। শাহানি একজন ওপেন এন্ড সোর্সের সমর্থক তাই তিনি ওপেন এন্ড সোর্সের উপাদানগুলি যোগ করায় জোর দিচ্ছিলেন। ওপেন সোর্সের মূল চ্যালেঞ্জ হল এর ফলে যোগানের পদ্ধতির বদল হয়। “সেইসময় আমাদের প্রজেক্টে ওয়াটার ফল পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছিল, কিন্তু আমাদের আর্কিটেকচার দিয়ে আমরা অ্যাজাইল পদ্ধতিতে কাজ করতে পারতাম। এই আলোচনা ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের ওয়াশিংটন ডিসি-র অফিসে পৌঁছেছিল। এরই মধ্যে আমরা একটি পেপার প্রকাশ করি কীভাবে ইগভর্নেন্সে ওপেন সোর্সভিত্তিক অ্যাজাইল প্রোকিওরমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার সম্ভব। এতে খরচ অনেক কমে যায়,” বললেন শাহানি।

ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের সমর্থনে ও অভ্যন্তরীণ সহয়তায় শাহানি ওপেন সোর্সভিত্তিক অ্যাজাইল প্রোকিওরমেন্ট পদ্ধতি সাফল্যের সঙ্গে রূপায়িত করেন। তাঁর কাজ করা প্রথম বছরের শেষে অধ্যাপক সামারনায়েকে মারা যান এবং তাঁর মৃত্যুর পর সংগঠনের রাজনৈতিক পরিবেশে শাহানির পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দু’বছর কাজের পর আইটিসি এজেন্সি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শাহানি।

স্টার্টআপ তৈরিতে আগ্রহ

শ্রীলঙ্কার সবথেকে ভালো ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ইউনিভার্সিটি অফ মোরাতুয়া-এ কম্প্যুটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগ দেন শাহানি। সেখানে তিনি স্নাতকোত্তর স্তরে কমিউনিকেশন, সফট্ওয়ার আর্কিটেকচার ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতেন।

ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ক্যাপস্টোন রিসার্চ প্রজেক্টে শাহিনি এমন একটি টিম তৈরি করতে চাইছিলেন যাঁরা তাঁর পরিকল্পনা নিয়ে পরবর্তীকালে কোম্পানি শুরু করতে পারবে। এমনকি তার জন্য ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের দু’বছরের জন্য ইন্ডাস্ট্রির হারে বেতন দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন শাহানি।

এই সময় কিছুদিনের বিরতি চাইছিলেন শাহানি এবং পরিবারকে কিছুটা সময় দেওয়ারও প্রয়োজন অনুভব করছিলেন। ২০১১ তে কলেজের সম্পূর্ণ সময়ের শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়ে গেস্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু এই সময়ই ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যান এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আবার কাজে ফেরেন ।

“আইটি ইন্ডাস্ট্রি হয় আমাকে ভেবেছে শিক্ষা জগতের লোক, নয়তো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষিত। তাই আমি নিজেই সফটওয়ার সলিউশন স্টার্টআপ শুরু করি, অক্সেনট্রা। এন্টারপ্রাইসের বার্ন রেট কমানোর কাজ করে আমাদের স্টার্টআপ, জানালেন শাহানি।

দুইদেশের নাগরিকত্ব থাকায় শাহানি সহজেই শ্রীলঙ্কার বাইরে যেতে পারতেন। ইউএস-এতে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকতেন। ২০১৪ এর জানুয়ারিতে সেখানেও তাঁর স্টার্টআপের কাজ শুরু হয়। মার্চ ২০১৪ তে মোরাতুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা চারজন ছাত্র ক্যাপস্টোন প্রজেক্ট সিথ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাগনস্টিক ভাবে অনুভূতি বিশ্লেষণ করার ওপর ছিল এই প্রজেক্ট।

“ওরা আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি একটা কোম্পানি শুরু করব কী না, আমি বললাম, নিশ্চয়ই,” বললেন শাহানি।

চারজনের মধ্যে দু’জন ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দেয়, বাকি দু’জন Emojot Inc এ যোগ দেয়। মঞ্জুলা দিস্সানায়াকে, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি স্কলার সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে যোগ দেন। তাঁর এর আগে স্টার্টআপের অভিজ্ঞতা ছিল।

শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় স্টক ব্রোকিং কোম্পানির সঙ্গে সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে Capaxus কোম্পানিটিও শুরু করেন শাহানি।


ইমোজোট, আবেগ ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন

ইমোজোট মূলত ডিজিটাল গণমাধ্যম ও টিভির জন্য তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। কোম্পানির দাবি, দর্শকের আবেগ বুঝে তা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা রাখে ইমোজোট, এই ডেটার সাহায্যে বিজ্ঞাপনের আকারে নিজেদের বার্তা সহজেই পৌছে দিতে পারা সম্ভব দর্শকের কাছে। এবং এই পুরোটাই হয় রিয়্যাল টাইমে। শাহানি মনে করেন মানুষের আবেগ পারিপার্শ্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়, আর ইমোজোট দর্শকের অনুভূতিকে বুঝতে সাহায্য করে। আট মাস আগে পেটেন্ট জমা দিয়েছে ইমোজোট। শাহানির দাবি এই ক্ষেত্রে অন্য যেসব কোম্পানি কাজ করছে তার মধ্যে ইমোজোটই সর্বশ্রেষ্ঠ, মাইক্রোসফ্ট-এর বিঙ্গ পালস্ তাদের প্রতিযোগী, কিন্তু ক্ষমতার দিক দিয়ে এগিয়ে ইমোজোট। ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কার সবথেকে বড় টিভি চ্যানেলের সঙ্গে পাইলট রান করছে ইমোজোট।

ইমোজোট ওপেন সোর্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে। রিয়াল টাইমে বিশ্লেষণ করে বড় ডেটার সমস্যার সমাধানের জন্য কমপ্লেক্স এনগেজমেন্ট ইঞ্জিন ব্যবহার করে ইমোজোট। তারা দর্শকের জনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে তার সঙ্গে সংযুক্ত আবেগকে নির্ধারণ করে। প্ল্যাটফর্মটি আমাজন ক্লাউডে হোস্টেড। ক্লায়েন্ট তাঁর ড্যাশবোর্ডে রিয়ালটাইম বিশ্লেষণ দেখতে পায়।

ইমোজোট টিম ছড়িয়ে রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে, শাহানি থাকেন ইউএস-এ, শ্রীলঙ্কায় থাকেন শাহানির দুই ছাত্র, মঞ্জুল রয়েছেন অস্ট্রেলিয়া এবং গ্রাফিক ডিজাইনার থাকেন নিউজিল্যান্ডে। ডিসেম্বর, ২০১৪ তে প্রথমবার পুরো টিমের দেখা হয়। শাহানি বলেন, “আবেগ জলের ফোঁটার মত, বেশিক্ষণ থাকেনা”। বিক্রি, মার্কেটিং এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী চলার জন্য বর্তমানে বিনিয়োগ সংগ্রহের চেষ্টা করছে ইমোজোট।

ভুল এবং শিক্ষা

শাহানি মনে করেন নিজের কর্মক্ষমতা ও দক্ষতার সম্পর্কে আরও অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিৎ ছিল তাঁর। এখন ছাত্রীদের মেন্টর ও রোল মডেল হিসেবে অনেক বেশি সময় কাটান তিনি। তথ্যপ্রযুক্তির শক্তির ওপর অগাধ আস্থা রয়েছে শাহানির, তিনি মনে করেন জনগণের প্রতি দিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ইগভর্নেন্স।

প্রযুক্তি শিল্পে কাজ করা, মহিলাদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক বলে মনে করেন শাহানি। কারণ এতে নিজের পেশার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গেও অনেকটা সময় কাটানো যায়, ডাক্তার বা আইনজীবীদের যেহেতু কর্মক্ষেত্রে থেকেই পুরো কাজ করতে হয় তাই তাঁদের সেই সুবিধা নেই।

টিম ও তার বহুমুখীতার ওপরই স্টার্টআপের সাফল্য নির্ভর করে বলে মনে করেন শাহানি। তিনি বললেন, “মেন্টরের সঙ্গে কথা বলা ও কর্মজীবনের শুরুতেই নিজের রোলমডেল খুঁজে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তাঁদের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সাহায্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়”।