উদ্বুদ্ধ করছেন Jetking-এর সিদ্ধার্থ ভারওয়ানি

0

কয়েকদিন আগেই আমাদের বার্ষিক ফ্ল্যাগশিপ কনফারেন্স TechSparks হয়ে গেল। বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ, লগ্নিকারী ও উদ্যোগপতি মহলের উপস্থিতিতে এবারও একই ছাতার তলায় আলোচনা হল নতুন আইডিয়া, চ্যালেঞ্জ, সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে। এবারের কনফারেন্সের থিম ছিল ‘Tech for a Billion’. আন্ত্রেপ্রেনারিয়াল উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা, যা কোটি-কোটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত তা আলোচনায় উঠে এল। ইয়োর স্টোরিতে বছরভর আমরা যে সব সাফল্যের কাহিনি তুলে ধরেছি তাও বাদ যায়নি।

মেরাজ শেখকে নিয়ে সম্প্রতি তেমনই একটা কাহিনি জানলাম। মেরাজের গল্পটা আমাদের দেশের অনেকের সঙ্গেই মেলে। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা ছেলে মেরাজ। যাবতীয় প্রতিকূলতা সত্ত্বেও হার্ডওয়্যার টেকনোলজি ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেন মেরাজ। এখন সাফল্যের সঙ্গেই সেই ব্যবসা চলছে। এ জন্য জেটকিংয়ের মতো সংস্থার স্কিল ডেভেলপমেন্টকেই কৃতিত্ব দেন মেরাজ।


জেটকিংয়ের লক্ষ্য ‘Better Life’. সেই সুন্দর জীবন তাদের জন্য যাদের সেভাবে আর্থিক সঙ্গতি ও যোগাযোগ নেই। সেই তাদেরকেই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়েপিটে দেয় জেটকিং। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে ট্রেনিং দিয়েছে সংস্থা। যাদের অনেকেই টায়ার-টু কিংবা টায়ার-থ্রি থেকে উঠে আসা ছেলেমেয়ে। সম্প্রতি জেটকিংয়ের ডিরেক্টর সিদ্ধার্থ ভারওয়ানির মুখোমুখি হয়েছিলাম। ভারতে স্কিল ডেভেলপমেন্টের ছবিটা ঠিক কেমন তা জানাই আমার লক্ষ্য ছিল। তিনি যা বললেন তাতে আমাদের অনেকেরই প্রচলিত ধারণা উল্টো রাস্তা ধরবে। তাঁর অভিমত নিচে তুলে ধরা হল -

স্কিল ডেভেলপমেন্টের কর্মসূচি নিয়ে কাজ করে ভারতে এমন ২০টিরও বেশি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু কেমন যেন খাপছাড়া। ফলত কাজের বহুল অনুকরণ। তরুণ ছাত্রছাত্রীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে যে শিক্ষা দেওয়া হয়, আর কর্পোরেট সংস্থাগুলি যা চায় তার মধ্যে কোনও মিলমিশ নেই। পাঠ্যসূচিতে যা থাকে তার অধিকাংশই এখন কাজে দেয় না।

বিভিন্ন সামাজিক কারণ ও খরচখরচার জন্য গ্রামীণ ভারত ও পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে উঠে আসা অনেকেই শিক্ষার নাগাল পায় না। দেশের অনেক জায়গাতেই ১৫ বছরের আগেই অনেকে ড্রপ আউট হয়ে যায়। খুব কম সংখ্যক স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিই ওইসব জায়গায় নজর দেয়। সেখানেই প্রয়োজন রয়েছে এমন প্ল্যাটফর্মের যেখানে সরকারি সংস্থা ও শিল্পসংস্থা মিলে শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে নজর দিতে পারে। অধিকাংশ সংস্থা সেই ধরনের প্রার্থীই চায় যিনি ইতিমধ্যেই বিশেষ কোনও কাজের জন্য যে দক্ষতা দরকার তা অর্জন করেছেন।

ক্লাসরুম পঠনপাঠন ও প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং, এই দুটো যেন এক হয়। তাহলেই ছাত্রছাত্রীদের ধরে রাখা যাবে। বর্তমানে ভারতে খুব কম প্রতিষ্ঠানই এমন কোর্স করিয়ে থাকে। স্কিল ডেভেলপমেন্ট শুধুমাত্র সরকার, কর্পোরেট সংস্থা ও ট্রেনিং ইনস্টিটউটের দায়িত্ব হতে পারে না। ছাত্রছাত্রীদেরও সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ভারতে কাজের বাজার কেমন সেটা তাদেরও বুঝতে হবে।

ভালো পঠনপাঠন ও উন্নতমানের প্রশিক্ষণ, সঙ্গে হলিস্টিক ডেভেলপমেন্টই ((soft + technical) ভারতকে প্রকৃত স্কিলড নেশন হতে সাহায্য করবে। প্রতিবছর ভারতে কর্মক্ষম মানুষের তালিকায় যুক্ত হয় কমপক্ষে ১২ কোটি। এদের খুব অল্পজনেরই ঠিকঠাক কারিগির প্রশিক্ষণ থাকে। ভারতে বর্তমানে স্কিলড ওয়ার্কফোর্স মাত্র ৪ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যা ৪২ শতাংশ, জার্মানিতে ৭৬ শতাংশ, জাপানে ৮০ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে ৯৬ শতাংশ। এই ছবিটারও বদল সম্ভব। যদি আমরা আরও বেশি-বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর কাছে উচ্চমানের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারি। সেইসঙ্গে পরিকাঠামোগত বদলও আনতে হবে। পরিকল্পনাকে সফল করতে আর্থিক সহায়তাও থাকতে হবে।

মেরাজ শেখের সাফল্য ও সিদ্ধার্থ ভারওয়ানির ভাবনা অনেককেই স্কিল ডেভেলপমেন্টে উদ্বুদ্ধ করতে পারে পারে বলে আমরা মনে করি। এ ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্য জানার আগ্রহ রইল।

লেখা - বিনয় ডোরা