স্টার্টআপদের টোটকা দেবেন দিকপালেরা

২২ সেপ্টেম্বর ক্যালকাটা অ্যাঞ্জেলস নেটওয়ার্কের বার্ষিক সম্মেলন। কলকাতায় আসছেন Ketto-র প্রতিষ্ঠাতা অভিনেতা কুণাল কাপুর, আইডিজি ভেঞ্চার্সের টিসিএম সুন্দরম, টিবক্স সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা কুশল দুগার, ইন্ডিয়া ইন্টারনেট ফান্ডের অনিরুদ্ধ সুরি, আইডিয়াস্প্রিং ক্যাপিটালের নাগানন্দ দোরাস্বামী। কলকাতায় ইকোসিস্টেম না থাকার ব্যথা নিয়ে কলকাতা ছেড়ে যাওয়া টুকিটাকির কর্ণধার অভিষেক চ্যাটার্জিও আসছেন এদিন। শোনাবেন তাঁদের লড়াইয়ের কাহিনি, সাফল্যের রোমাঞ্চ এবং পাশাপাশি দেবেন পূর্বাঞ্চলের জন্যে স্পেশাল টোটকা। ক্যালকাটা অ্যাঞ্জেলসের এই ইভেন্টে আপনাকেও স্বাগত। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে।

2

পূর্বাঞ্চলের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে এখন অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন। অনেক রকম ভাবনা। কে বলে কলকাতায় উদ্যোগের অভাব আছে! শুধু এই ইকোসিস্টেম নিয়েই অনেক উদ্যোগ মাথা চাড়া দিচ্ছে। এগিয়ে আসতে চাইছে অনেক সংস্থা। নিজস্ব ব্যবসায়িক লক্ষ্য পূরণের তাগিদ অনুভব করতেও শুরু করে দিয়েছেন কেউ কেউ। ইকোসিস্টেম বলতে ঠিক কী বোঝায় তা নিয়েও শুরু হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় ধোঁয়াশা। শোনা যাচ্ছে কেউ কেউ ইনকিউবেশনের বন্দোবস্ত করে দিলে স্টার্টআপ সংস্থায় স্টেক চাইছেন। কেউ কেউ কো ওয়ার্কিং স্পেস দেওয়ার নাম করে ঢুকে পড়তে চাইছেন সেই সংস্থার বোর্ড অব ডিরেক্টরসে। মেন্টর করবেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাঁকছেন আকাশ ছোঁয়া টিউশন ফি। বেচারা লড়াকু স্টার্টআপ যাবে কোথায়!

একটি স্টার্টআপ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আমাকে কিছু দিন আগে ফোনে শেয়ার করছিলেন তাঁর অভিজ্ঞতা। কীভাবে কচুরিপানার মত গজিয়ে উঠছে একের পর এক সংস্থা যারা বলছেন স্টার্টআপদের পাশে থাকবেন, ইনভেস্টর জোগাড় করে দেবেন, ইনকিউবেশনের বন্দোবস্ত করে দেবেন। ফেসবুকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ক্রিয়েটিভ ওদেরকে টানছে। আয় আয়...। গ্রাম থেকে মফঃস্বল থেকে আসা স্বপ্নশীল তরুণ কিংবা স্বপ্ন দেখতে সবে শুরু করা উদ্যোগের ভাবনায় বিভোর প্রজন্ম রীতিমত প্রলুব্ধ হচ্ছে। এগোচ্ছে, হোঁচট খাচ্ছে এবং এতটাই বীতশ্রদ্ধ হচ্ছে যে ফের আর ফেরার উপায় থাকছে না। এখানে আপনি বলতেই পারেন, দোষ কার? খোঁড়ার পা খানায় পড়ে, সে তো কেবল খানার দোষ নয়, খোঁড়ারও দোষ, সে কেন দেখে পা ফেলেনি।

কলকাতায় খুব বেশি স্টার্টআপ সংস্থা নেই। সিড ফান্ডিং করার মতো লোকজন নেই। খুব বেশি ইনভেস্টর নেই। ভিসি তো হাতে গোণা দু জন কি একজন আছেন। ব্যাঙ্কগুলো ছোটো মাঝারি উদ্যোগে ঋণ দিতে সহজে রাজি হয় না। ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি, কিংবা দোকান পাটে টাকা ঢালার আগে জমি বাড়ি সোনা বন্দক রাখতে চায় ব্যাঙ্ক। ঋণ দেওয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন ব্যাঙ্কের কর্তা ব্যক্তিরা। ফলে ব্যবসা করার ইকোসিস্টেম এটা নয়। কলকাতায় নয় এবং কলকাতায় নেইয়ের তালিকা নিয়ে বসতে গেলে রাত কাবার হয়ে যাবে। যেখানে যেটুকু আছে সেটুকুকে নিয়েই উদ্যোগপতিদের টিকে থাকার লড়াইয়ের পরিবেশই হল কলকাতার ইকোসিস্টেম। শুধু কলকাতা নয়, পূর্বাঞ্চলের অন্য জায়গাতেও পরিস্থিতি সঙ্গিন।

এই নেই-রাজ্যের দেশে স্টার্টআপ সংস্থাগুলির জন্যে অন্তত অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরদের একটি নেটওয়ার্ক তো আছে কলকাতায়। যারা প্রতিশ্রুতি দেন কলকাতার স্টার্টআপরা তাদের বিনিয়োগের প্রায়োরিটি। ব্যাস এটুকুই বা ক'জন বলে। এই উপস্থিতিটুকুই এই গোটা ইকোসিস্টেমের জন্যে দারুণ জরুরি। তাই এই ইভেন্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছে কলকাতা।