দূর আর দূরে নয়, সৌজন্যে ক্যাপাবিলিটি

0

কোম্পানির অফিস খুলেছেন শহরে। উত্পাদনের জায়গা প্রত্যন্ত গ্রামে। যেখানে নিত্যদিন যাওয়া মানে, খরচের সঙ্গে সময় নষ্ট। অথচ যেতে আপনাকে হবেই। শ্রমিকদের নিত্যনতুন কাজ বুঝতে নাভিশ্বাস উঠছে আপনার। প্রশিক্ষকের সঙ্গে শ্রমিকের দূরত্ব ঘোচাবেন কীভাবে। ভেবে কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। কোম্পানির জন্য প্রশিক্ষকদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো মানে, বিপুল খরচের বোঝা। এই সব সমস্যার সমাধান দিচ্ছে ‘ক্যাপাবিলিটি লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’। যারা বলছে, ‘দূর এখন অতি কাছের’।


শুরুটা হয়েছিল ‘ভয়েস ট্যাপ টেকনোলজি’ নাম দিয়ে। এয়ারটেল, ভোডাফোন, টাটা ডোকোমোর সঙ্গে গাঁটছাড়া বেঁধেছিল ‘ভয়েস ট্যাপ’। ২০০৯ সালে মোবাইলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের পাঠ্যক্রম খুলেছিল এই কোম্পানি। মৃগাঙ্ক ত্রিপাঠির উদ্যোগে পত্তন ঘটেছিল নতুন এক পরিষেবার। তবে বেশ কিছু দিন যেতেই ছেদ পড়ে উদ্যোগে। মৃগাঙ্ক বুঝতে পারেন, মোবাইল কোম্পানিগুলির অতিরিক্ত পরিষেবা হিসাবে কাজ করে লাভ নেই। মোবাইলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের দুনিয়ায় একাই হাঁটতে হবে কোম্পানিকে। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। কিছুদিনের মধ্যে নতুন নামে নিজস্ব চরিত্র নিয়ে বাজারে নামে ‘ভয়েস ট্যাপ’ । এবার কোম্পানির নাম হয় ‘অ্যাপলায়েড মোবাইল ল্যাবস’। নতুন অবতারে আসতেই লাভের মুখ দেখে ওই সংস্থা। উদ্যোগপতির বুঝতে অসুবিধা হয় না গন্তব্য দূর হলেও পথ বাছা ভুল হয়নি।

লোকে বলে, দিশা ঠিক থাকলে দশা বদলাতে অসুবিধা হয় না। হলও ঠিক তাই। ঘটনাক্রমে একটি কোম্পানির উঁচুতলার অফিসারদের আলোচনায় বসেছিলেন মৃগাঙ্ক। পরিচিত বলে, ওই কোম্পানির সমস্যা মৃগাঙ্ককে জানান অফিসাররা। তাঁরা জানান, ভারতে তাদের ‘ইউজার বেস’-কে প্রশিক্ষিত করা বেশ কঠিন কাজ। টাকা-কড়ি খরচ করেও আশানুরুপ ফল পাবেন না তাঁরা। যা সংস্থার বড় পদাধিকারীদের মুখে এমন কথা শুনেই প্রস্তাবটা পেরে ফেলেন মৃগাঙ্ক। জানিয়ে দেন, ওই কোম্পানির কার্যসিদ্ধি করে দেবে তাঁর কোম্পানি। যাতে তাদের ৮০ শতাংশ খরচ কমবে। দেড় হাজার লোককে প্রশিক্ষিত করতে চিরাচরিত পদ্ধতির একের পাঁচ শতাংশ সময় নেবেন তাঁরা। এখানেই শেষ নয়। ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৮৫ শতাংশের শংসাপত্রেরই ব্যবস্থা করবে তাঁর কোম্পানি। প্রস্তাব পেয়ে মৃগাঙ্কের হাতেই কাজটা সঁপে দেয় ওই কোম্পানি। পরবর্তীকালে যার ফল পায় মোবাইল দুনিয়া। জন্ম নেয় ‘কোয়েশ্চেন’ ও ‘ক্যাপাবিলিটি’ ।

কী এই ‘ক্যাপাবিলিটি’? আভিধানিক ভাষায় এর অর্থ কার্যক্ষম। মোদ্দা কথা, একটা মোবাইলভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। যে অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে কোম্পানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর তাদের দূরের কর্মীদের পাঠ দিতে পারে। প্রশ্ন উঠতে পারে, আরও ডিজিটাল প্রশিক্ষণের মাধ্যম থাকতে ‘ক্যাপাবিলিটি’-ই কেন সবার অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে। তার উত্তর দিচ্ছেন উদ্যোগপতি নিজেই। মৃগাঙ্কর মতে, দেশে লিখিত পাঠ্যক্রমের কর্মীদের শেখানোর বহু অ্যাপ রয়েছে। তবে একাধারে ভিডিও, অডিও ও লিখিত পাঠের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের প্ল্যাটফর্ম রয়েছে খুব কমই। সে কারণে গ্রাহকদের মধ্যে গত এক বছরে সাত লক্ষ ব্যবসায়িক লেনদেন করেছে কোম্পানি। তাদের গ্রাহক হয়েছে, এয়ারটেল, ইনডাস টাওয়ারস, শপক্লুজ, ফ্লিপকার্টের মতো প্রথম সারির সংস্থারা। বাজার থেকে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ডলার তুলতে পেরেছে তারা। এর পিছনে শুরুয়াতি উদ্যোগপতিরা ছাড়াও বড় শিল্পপতিরাও এখন ‘ক্যাপাবিলিটি’-র ওপর আস্থা রাখছে। কোম্পানির লক্ষ্মীদশা দেখে হাসি ফুটেছে উদ্যোগপতির মুখে। তবে কাজে আলগা দিতে রাজি নন তিনি। কোম্পানিকে আরও বড় করতে এখনও রাত জাগছেন। দূরে বাড়ি হওয়ায় সহযোগীরা প্রায়ই তাড়াতাড়ি বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু তাতে ভবি ভোলার নয়। মুচকি হেসে মৃগাঙ্ক শুধু বলছেন, ‘দূর আর দূরে নয়, অতি কাছের’।

Related Stories