যে লোকটা ইন্টারনেটকে নিরপেক্ষ রেখেছেন

2

প্রথম যখন আর এস শর্মার সঙ্গে দেখা হল, তখন আমি স্পষ্টভাবে মানুষটির উদ্যোগীসুলভ মানসিকতা টের পেলাম। আর এস শর্মার মতো একজন মানুষ এ দেশের স্টার্ট আপ আন্দোলনকে রসদ জোগালে উপকারই হবে। গত ৩০ বছর ধরে প্রযুক্তি নিয়ে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে আর এস শর্মা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি বা ট্রাই-এর চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। তিনি মনে করেন, ব‌র্তমান যুগে সাম্যাবস্থা আনতে প্রযুক্তি অবশ্যই এক অতি প্রয়োজনীয় মাধ্যম। ভারতের সার্বিক ব্যবস্থার রদবদলের জন্যে ডিজিট্যাল রূপান্তর এখন অত্যন্ত দরকারি ও সহায়ক।

আর এস শর্মা ১৯৭৮ সালের ব্যাচের আইএএস অফিসার। ঝাড়খণ্ড ক্যাডার থেকে অবসর নেওয়ার পরেপরে ২০১৫ সালে ট্রাইয়ের চেয়ারম্যান পদে যোগ দেন। দায়িত্ব নেওয়ার অব্যবহিত পরেই প্রতিটি কল ড্রপের জন্যে ১ টাকা ক্রেডিট করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট ওই নোটিফিকেশনটি বাতিল করে দেয়। যদিও কল ড্রপের জেরে গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে বিরক্ত। এদিকে আর এস শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, ওই সিদ্ধান্তে তিনি টেলিকম ক্ষেত্রের নতুন সংস্থাগুলির প্রতি দুর্বলতা দেখিয়েছেন। এরপরে তাঁর ট্যুইটার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়। এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে আর এস শর্মার অবস্থান স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, ফ্রি ডেটা হিসাবে যা কিছু মিলছে, নেট দুনিয়ার নিরপেক্ষতার সঙ্গে তুলনা টেনে তাকে একাসনে কখনোই বসানো যাবে না।

শর্মা তাঁর নিজের কাজ সম্পর্কে জানিয়েছেন। নিজের কর্মদ্যোগের চালিকাশক্তি সম্পর্কেও বলেছেন। ১৯৮০ সালে কর্মসূত্রে বিহারে থাকাকালীন গোড়ার দিকে সেই সময় কম্পিউটার নিয়ে কী জাতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন, বলেছেন সে সম্পর্কেও। আর এ যুগে আধার স্বচ্ছতা নিয়ে মুখ খুলেছেন।

শ্রদ্ধা শর্মা – আপনি নিজে একাধিক বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের পুরোধা। এ ক্ষেত্রে আপনার কাজের চালিকাশক্তি কী?

আর এস শর্মা – আমি আজকে যেখানে পৌঁছতে পেরেছি তার পিছনে রয়েছে মূল্যবোধের প্রতি আমার শ্রদ্ধার ফলাফল। আমি কলেজে পড়াকালীন হস্টেলে থাকতাম। হস্টেলে আমিই ছিলাম একমাত্র আবাসিক, যে কিনা হিন্দিতে কথা বলতে পারত না। আমি আমার স্থানীয় ব্রিজভাষাটাই জানতাম। আগ্রা, মথুরার দিকে এ ভাষায় কথা বলা হয়। আমি যা বলার তা আমার জানা ব্রিজভাষাতেই বলতাম।

আসলে আমি এদেশের একটি ছোট্ট গ্রামের এক কৃষক পরিবারের সন্তান। তবে যে ব্যবস্থার ভিতর আমাদের বসবাস আমার কাছে ব্যবস্থা হিসাবে সেটা ভালোই। অনেক রকম কালো আছে, অন্যায় আছে। এই ধরনের অসুবিধাগুলি থাকা সত্ত্বেও কিন্তু ব্যবস্থাটার ভিতরকার কিছু ভালো দিকও আছে। আমি মনে করতাম - আজও সে কথাই মনে করি, আমি যা কিছু করছি তা যেন সততার সঙ্গে করে থাকি। সব কাজেই যেন নিজের পক্ষে সততা বজায় থাকে।

এই বোধটুকুই ঠিক কাজটা করিয়ে নেয়। যা কিছু নিজে ঠিক হিসাবে মনে করবেন আপনি না হয় সেটাই করুন। এটা একটা দিক। আর একটা দিকও আছে। সেটাও আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের গোড়ার দিকে বিজ্ঞান পড়ার সময় থেকেই প্রযুক্তি আমায় টানত। বরাবর ভালো লাগত প্রযুক্তি। ১৯৮৫-৮৬ সাল নাগাদ প্রথম কম্পিউটারে কিনি। তখন আমি বিহারের বেগুসরাইয়ে জেলা শাসক ছিলাম।

বরাবরই আমার বিশ্বাস আছে – তাছাড়া, ওই বিশ্বাস ক্রমে আরও শক্তিশালীও হয়েছে। সেটা হল, যা কিছু আপনি মনে করছেন আপনার দ্বারা করা সম্ভব হবে না- সেই কাজটা কিন্তু প্রযুক্তির সহায়ে আপনি সহজেই করে ফেলতে পারবেন। প্রযুক্তি এই মহান ক্ষমতা ধরে। প্ৰযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে আপনি বরং আরও অনেকটা স্বচ্ছভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।

আজকের যুগে আমরা এখন এটা উপলব্ধি করতে পারছি, ডিজিট্যাল বস্তুটির মাহাত্ম্য আছে কোথায়। এটা সত্যিকারের এক গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। আপনাকে অবাক করে দেবে। সমানাধিকারেরও জায়গাও এখানে আছে। আমি আর আপনি দুজনেই এই ব্যবস্থাটাকে ব্যবহার করতে পারি। এ ব্যাপারে আপনার ও আমার দুজনেরই সমানাধিকারের জায়গা আছে। যেমন ধরুন, আইআরসিটিসি ওয়েব সাইটের নাগাল সমানভাবে পেতে পারি। এসব কারণে ডিজিট্যাল মাধ্যম একটা গণতান্ত্রিক, পরিবেশ বান্ধব সর্বোপরী আর্থিকভাবেও সাশ্রয়ী।

আমার গোটা কর্মজীবনেই আমি ডিজিট্যালের ভক্ত ছিলাম। একটা উদাহরণ দিই। ১৯৮৫ সালে বেগুসরাইয়ে জেলা শাসক হিসাবে কাজ করার সময় কয়েক জন শিক্ষককে বদলি করার কাজে কম্পিউটারের সহায়তা নিয়েছিলাম। খবরের কাগজে বিষয়টা জানাজানি হল এইভাবে, কম্পিউটারের মাধ্যমে মৃত শিক্ষকদের বদলি করা হল। এ রকম শিরোনামে ফলাও করে ছাপা হয়েছিল ওই খবরটা। আসলে ডাটাবেস জিনিসটা নির্ভুল নয় মোটেও। এ জন্যেই মৃত শিক্ষকদের বদলি করার ঘটনাটা ঘটেছিল। ডাটাবেস কেবলমাত্র দেখাবে, গত ২০ বছর ধরে ওই শিক্ষকদের কোথাও বদলি করা হয়নি। তথ্যটা কিন্তু অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

কম্পিউটারের মাধ্যমে কিন্ত নিপাত্তা আগ্নেয়াস্ত্র হদিশ পাওয়া যেতে পারে। একটি আগ্নেয়ান্ত্র নিপাত্তা হয়ে গেলে ওয়্যারলেসে রেকর্ড করে খবরটা ছড়িয়ে দেওয়া যায়। সমস্ত পুলিশ সুপাররা তাঁদের রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ করছেন যেমন করছেন। সকলের কাছেই নিপাত্তা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একই তথ্য আছে। এখন ১৬ টি সংখ্যাবিশিষ্ট ডিকসনারি ইনডেক্স চালু করে অবিলম্বে যে কোনও কেস কিনারা করা যায়। আমরা দেখাতে পারি অন্ততপক্ষে ২২টি উদাহরণ। সরাই মাধো থেকে একটি বন্দুক চুরি হয়েছিল। সেটি উদ্ধার করা হয় আরা থেকে। আমরা ইন্সপেক্টর জেনারেলকে দেখিয়েছিলাম, কীভাবে এই কাজটা করা সম্ভব হয়েছিল। পাটনা থেকে আইজি এসে জানতে চেয়েছেন, কীভাবে কাজটা করা সম্ভব হল। এটা একটা উদাহরণ দিলাম।

শ্রদ্ধা শর্মা– প্রযুক্তি কীভাবে সহায়তা করে থাকে, সে ব্যাপারে আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। আপনি প্রযুক্তির উপকারী ভূমিকাটা দেখেছেন।

আর এস শর্মা – এর সাম্প্রতিক উদাহরণ আধার। আপনি যা কিছুই আরম্ভ করুন না কেন, আপনাকে দেখতে হবে সে কাজটা কীভাবে আরও ভালোভাবে এবং আরও নতুনভাবে করা যায়। একটা জিনিসই আর একটা জিনিসের জন্ম দেয়। কাজ এইভাবেই এগোয়।

UIDAI-তে আমার চার বছরের কাজের অভিজ্ঞতা ভালো। নন্দন নীলেকানি চেয়ারম্যান ছিলেন। আর আমি ছিলাম সিইও, ডিজিএম – ডাইরেক্টর অব আধার। আমরা ৪০ কোটি আইডি নিই। আমি তখন আই টি-র সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলাম। আমাদের কপাল ভালো বলতে হবে, নতুন সরকারের সঙ্গে আমরা আলোচনা করতে পেরেছি। সরকারও ইতিমধ্যে আধারকে অন্য এক মাত্রায় তুলে দিয়েছে। এটা করা গিয়েছে প্রয়োগের ক্ষেত্রেন। আধারের দুটি গুণ আছে। একটি হল এর অভিনবত্ব। আর একটি হল যথার্থতা। সুতরাং, আমি ভাবতে আরম্ভ করি অনলাইন ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে ব্যাপারটা আরও যথাযথ করা যায়।

এ ব্যাপারে যখনই আমি মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেছি – ডিজিট্যালি যথার্থতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই আমাকে যে পাগল হিসাবে দেখছেন, তাও টের পেয়েছি।

আসলে ব্যাপারটা সকলে বুঝবেন না। এটা সকলের বোঝাবার মতো বিষয়ও নয়। এ কারণেই আমি ভেবেছি, যদি আমাদের একটা ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্ম থাকত, যদি আমরা শুরুটা অন্তত করতে পারতাম, তাহলে প্রমাণ দেওয়া যেত। আমি কাগজ-কলমের রেজিস্টার ব্যবহারের জমানা খতম করতে চেয়েছি। বিশেষ করে উপস্থিতি দাখিল করার ক্ষেত্রে। এর চেয়ে রেকর্ডিং অ্যাটেডেন্স ব্যবস্থা অনেক বেশি কার্যকর। তাছাড়া, নতুন এই ব্যবস্থাটি পরিবেশমুখী, সাশ্রয়ী, আরও যথাযথ এবং দুর্নীতির সুযোগ কম।

এটাই ডিজিট্যাল যথার্থতার পক্ষে প্রমাণ দেবে। আমি সেই সময় ঝাড়খণ্ডে কাজ করছি। আমরা তখনই অনলাইন অ্যাটেডেন্স সিস্টেম চালু করি। সেটা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মানুষ ভালোভাবে নিয়েছেন। গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যবস্থাটার উপকারিতা হাতেনাতে দেখেছেন।

শ্রদ্ধা শর্মা – এই ব্যবস্থার ভিতর কি কোনও ধরনের প্রতিরোধ আছে?

আর এস শর্মা – প্রধানমন্ত্রী নিজেই এর পক্ষে রয়েছেন। নেপথ্যে আছেন তিনি। আমি নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন। আসলে ওঁকে কেউ একজন জানিয়েছিলেন, ঝাড়খণ্ডে ডিজিট্যাল অ্যাটেনডেন্স ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হাতেকলমে আমার কাছে ব্যাপারটা জানতে চেয়েছিলেন। এরপর উনি আমাকে এখানেও সেটা চালু করতে বলেন। ওটা আমরা চালু করে দিয়েছি।

সংখ্যার হিসাবে এখন প্রতিদিন ৭ মিলিয়ন উপস্থিতি নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। ওই কাজটা ১ মিলিয়ন হচ্ছে আধারের মাধ্যমে। তবে আধারের নিজের অস্তিত্বগত কিছু সঙ্কট আছে। তাও আধার শক্তিশালী। কেননা আধারের মাধ্যমে গত এক বছরে শুধুমাত্র এপিজি ভর্তুকিতে ইতিমধ্যেই সরকারি রাজকোষের ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় গিয়েছে। এখন ৮ হাজার কোটি টাকা হল আধারের বার্ষিক মূল্য। ইতিমধ্যে যে সাশ্রয়টা আধারের জন্যে করা সম্ভব হল, সেটাই আসলে রূপান্তরের পক্ষে প্রমাণ ও ফলাফল।

বর্তমান সরকার এ বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে চলেছে। প্রয়োগের কাজও করা হচ্ছে। যেমন টেলিকম সিমের উদাহরণটা দেখুন। এখন সিম নিতে হলে আর কাগজপত্র দাখিল করার দরকার পড়ছে না। আপনি আপনার আধার নম্বর এবং বায়োমেট্রিক তথ্য জানিয়ে দিলেই কাজটা আপনিই হয়ে যাবে। আমাদের এখন ১.১ বিলিয়ন আধার নম্বর আছে। দেশের জনসংখ্যা ১.৩ বিলিয়ন। তাছাড়া, আপনি আধার দাখিল করে অনেক কাজ সারতে পারেন। যেমন, ভর্তুকি পাওয়া কিংবা ব্যাঙ্কে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার মতো কাজ আধার দাখিল করলেই হয়ে যাবে।

শ্রদ্ধা শর্মা – আপনার দৃষ্টিভঙ্গী, লক্ষ্য কী?

আর এস শর্মা – প্রাথমিক লক্ষ্য ডিজিট্যাল ইন্ডিয়া ইনিসিয়েটিভকে বাস্তবায়িত করে তোলা। ভারতীয় সমাজকে ডিজিট্যালি ক্ষমতাসম্পন্ন সমাজে রূপান্তরিত করে তোলা। জ্ঞানার্জিত আর্থিক ব্যবস্থা তৈরি করাটাও কাজ। আমি মনে করি, আন্তরিকভাবে কাজ করতে এটা করা যায়। আমরা কিছু একটা করে ফেলতে পারব। আমার বর্তমান কাজের দায়িত্বও এ ক্ষেত্রে কাজে লাগবে বলে মনে করি। আসলে ডিজিট্যাল ইন্ডিয়া এক বহুমুখী লক্ষ্যসম্পন্ন প্রকল্প। প্রথমত, দেশে ডিজিট্যাল পরিকাঠামোর বন্দোবস্ত করা, দ্বিতীয়ত ডিজিট্যাল পরিষেবাগুলি, সেইসঙ্গে সফটওয়্যার ও সর্বশেষ নাগরিকদের ডিজিট্যালি ক্ষমতাসম্ন্ন করে তোলাটাও প্রয়োজনীয়।

এ জন্যে বর্তমানের ডিজিট্যাল পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে হবে। ১৯৯০-এর শেষাশেষি নতুন শতকের শুরুতে এদেশে মোবাইল বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। অফলাইন থেকে আমরা একঅর্থে ওয়্যারলেসে গিয়েছি। আমাদের ২ কোটি কপার লাইন আছে। ফিক্সড লাইন এগুলি। এছাড়া, এখন আমাদের কাছে আছে ১ বিলিয়ন মোবাইল সংযোগ। তথ্য পাওয়ার সূত্রগুলি খুলে গিয়েছে। মোবাইল সংযোগ খুবই ভালো ব্যবস্থা। ভারতের ১০০ কোটি মানুষ মোবাইলে কথা বলে থাকেন। তবে ডেটা কানেক্টিভিটি আরও মজবুত করতে হবে। সারা দেশে এরকম একটা মজবুত ব্যবস্থা তৈরি করাই আমারও লক্ষ্য। ওয়াই-ফাই হটস্পটগুলি সাশ্রয়ী করে তুলতে হবে। ডিজিট্যাল ইন্ডিয়াকে বাস্তবে রূপদান করতে হলে এসব অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ। আমার লক্ষ্য, বর্তমানে যে দায়িত্ব পলন করছি, তার মাধ্যমেই কাজগুলি করতে পারা। আর সেই কাজটা করার সময় এখনই।