স্টার্টআপের দুটি পা, প্রোডাক্ট আর পিপল

লিখছেন সুদীপ মুখার্জি, EUOR Health এর CEO

0

নিজের চেষ্টায় গড়া সংস্থাই বলুন আর স্টার্টআপই বলুন। একটা ভুল সিদ্ধান্তই আপনার টাইটানিক ডুবিয়ে দিতে পারে। সিদ্ধান্ত ভুল হলেই তলিয়ে যাবেন গভীর খাদে। চালক আপনি, সংস্থা আপনার। তাই দায়িত্বও আপনারই। কোনও গাইড বুকের পুঁথিগত শিক্ষা এক্ষেত্রে আপনাকে কোনও সাহায্য করবে না। আমি EUOR চালাতে গিয়ে অনেক ঠকেছি। অনেক জিতেছি। নিজের ব্যবসাকে কিভাবে বড় করা যায় তার জন্য লড়াই করতে করতে অনেক কিছু লক্ষ্য করেছি, আর শিখেছি। আজ এবং নিয়মিত সে সব কথাই আপনাদের বলব।
ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি দুটো বিষয়। People আর Product। যে মানুষগুলোকে নিয়ে দিনরাত আপনার ওঠাবসা তারাই হল আপনার পিপল। আপনার ব্যবসায় উৎপন্ন সামগ্রীকেই বলি প্রোডাক্ট। আগামী সপ্তাহগুলোতে আমার কিছু অভিজ্ঞতা আর পর্যবেক্ষণের খুঁটিনাটি YourStory Bangla-এর মাধ্যমে ভাগ করে নেব আপনাদের সঙ্গে। চলার পথে সমসাময়িক স্টার্টআপ এবং অান্ত্রেপ্রেনিওর বন্ধুদের সামিল করে নিতে চাই। আমার বিশ্বাস আমাদের পথ তাতে আরও সুগম হবে, লড়াই সহজ হবে। বাংলায় তৈরি করা সম্ভব হবে একটি স্টার্টআপ অনুকূল ব্যবসায়ী পরিবেশ।

প্রোডাক্ট সংক্রান্ত কিছু কথা
প্রোডাক্ট মানে শুধুমাত্র উৎপন্ন সামগ্রী নয়। আমার চিন্তা করার, অনুমান করার, কল্পনাকে বাস্তবের রূপ দেবার ক্ষমতার নাম প্রোডাক্ট। তবে আজকের বাজারে আগেই আপনার প্রোডাক্টের বিপণনমূল্য বুঝে নিতে হবে। যেমন ধরুন আগেকার টেলিফোনের বাজার কি এখন আছে? পঞ্চাশোর্দ্ধ ব্যক্তিও স্মার্টফোনে ওলা উবের ডাকতে পারেন, সেলফি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট করতে হয়ত তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ব্যবসায়ী হিসেবে কী করব এমন অবস্থায়? Mortimer Benjamin Zuckerman এর বিখ্যাত সেই উক্তিটা মনে পরে গেল-"ইঁদুর কল বানাবার আগে দেখে নিও পর্যাপ্ত ইঁদুর আছে কিনা।" এক্ষেত্রে উক্তিটি যথোপযুক্ত। সবার আগে আপনার প্রোডাক্টকে মার্কেট ফিট বানান। তারপর সেই প্রোডাক্টকে ঘষে মেজে বিক্রয়যোগ্য করে তুলুন।
এরপর আসব লোক চয়নের প্রক্রিয়ায়। মনে রাখবেন স্টার্টআপ দশটা-পাঁচটার সরকারি চাকরি নয়। সংস্থা গঠনের সময় আপনার পাশে রক সলিড হয়ে দাঁড়ানো বন্ধুদের পেলে মনে করবেন আপনি ভাগ্যবান। যেমন আমি। সত্যি বলতে কি আমার সংস্থার কয়েকজনকে নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত।

পিপলই প্রোডাক্টের মূল আধার
আইডিয়া যাঁরই হোক, ক্লিক করানোর দায়িত্ব সংস্থার প্রতিটি ব্যক্তির। KRA মেপে, পুরোনো কায়দায় খাতায় হাজিরা সই করে কাজ করবার দিন শেষ। EUOR -এ আমরা বিশ্বাস করি অনুকূল পরিবেশ দিতে পারলে প্রত্যেকেই তাঁর সেরাটা দিতে চাইবেন। HR কাঠামোর মধ্যেও একইরকম আবহাওয়া থাকা প্রয়োজন। আমার পিপল সংক্রান্ত প্রথম টিপস এটাই।

সংক্ষেপে বলতে গেলে সংস্থা গড়ার সময় তিনটে বিষয় মাথায় রাখুন:

১) স্টার্টআপে সিদ্ধান্ত নেবেন একজন
আপনার দল চালানোর পদ্ধতি অনেক হতে পারে, আপনি একজন গণতন্ত্র প্রেমী হতেই পারেন, গোপন কমিটি বসান কিংবা সবার মতামত নিন, অন্তিম সিদ্ধান্ত নেবেন আপনি।
২) নমনীয়তা
আজকের যুগে দল চালাতে গেলে একজন নেতাকে অনেকগুলো ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। তাঁকে ওপর থেকে স্বৈরাচারী মনে হলেও আসলে তাঁকে দায়িত্ব নিয়ে দল চালাতে হয়। ফলে কিছুটা গণতান্ত্রিকও হতে হবে আপনাকে। দক্ষ হতে হবে। কখনও সখনও আবেগকে বর্জন করতে হয়, তাবলে যান্ত্রিক হয়ে যাবেন না, হোন মানবিক। আর দলের একজন হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করুন।
৩) মিশন
দলের সকলকে ভালোভাবে সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। কাজে দক্ষতা আর নৈপুণ্য আসবে সেখান থেকেই।