ফোকাসে ফিনটেক, আসছে বিনিয়োগও

ভারতীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে Fintech সংস্থাগুলি বেশ ইন থিং। জনপ্রিয়ও বলা যায়। ফিনটেকের ভূত ভবিষ্যত এবং বর্তমান নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হল TechSparks 2016-র মঞ্চে। 

6

YourStory-র গবেষণা অনুযায়ী গত দুবছরে Fintech স্টার্টআপে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

সত্যিটা হল, ২০১৬-র প্রথমভাগেই যতগুলি Fintech স্টার্টআপ ফান্ড পেয়েছে সেই সংখ্যা গোটা ২০১৫ জুড়ে যেকজন স্টার্টআপ ফান্ড পেয়েছে তার সমান।

চলতি আর্থিক ব্যবস্থাকেই আরও প্রভাবশালী এবং দক্ষ করে তুলতে Fintech কোম্পানিগুলি প্রযুক্তিকে বড় আকারে কাজে লাগাচ্ছে। বেঙ্গালুরুতে TechSparks-এর সপ্তম অধ্যায়ে ‘The new frontiers of fintech’-এর প্যানেল বেশ কয়েকজন ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টকে একসঙ্গে দেখল। প্যানেলে ছিলেন BankBazaar সংস্থার সিইও আদিল শেট্টি, ZestMoney-র সিইও লিজি চ্যাপম্যান, Axis Bank-এর মারকান্ডেয় উপাধ্যায়, Paisabazaar-এর সহনির্মাতা আর সিইও নভিন কুকরেজা, Digital Media and Technology-র ডিরেক্টর পঙ্কজ নায়েক, Capital Float-এর সহনির্মাতা আর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যাভেনদাস এবং শশাঙ্ক আর।

ব্যাঙ্কিং সেক্টরে ডিজিটালাইজেশন

লিজি প্রসঙ্গ ক্রমে জানালেন, “People don’t need more banks, people need banking!” প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই ব্যাঙ্কিংকে আম জনতার লিভিং রুমে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। Axis Bank-এর মারকান্দে উপাধ্যায়ের লেগাসি মেনে চলা বড় ব্যাঙ্কগুলির অভিপ্রায় নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। তাঁর মতে দুর্ভাগ্যবশত ভারতে এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ অগভীর পকেটের সাথে গাঁটছড়া বেঁধেছে। এদেশে IT বাজেট মাত্র ৩-৫ শতাংশ যাকে অতিকষ্টে গোটা দুনিয়ার গড়ের ১০-১২ শতাংশের সাথে তুলনা করা যায়। ফলে ব্যাঙ্কগুলির ডিজিটাল হয়ে ওঠার অভিপ্রায় আর ইচ্ছা থাকলেও হয়ত পরীক্ষা করে দেখার মতো bandwidth তাদের নেই। আর এখানেই fintech কোম্পানিগুলির কাছে প্রকৃত সুযোগ আছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল ব্যাঙ্কও সেটা বোঝে। উদাহরণ স্বরূপ, Axis bank স্টার্টআপদের সঙ্গে ডিল করার জন্য ‘Thought Factory’ বলে একটি পৃথক ইউনিট বানিয়েছে।

কাস্টমারের ইচ্ছাটা বোঝা দরকার

ভারতে এইসময়ে fintech তরঙ্গ কি করছে বলুন তো? আদিলের ভাষায় fintech উইকএন্ডে সোফায় বসে তাঁর ফ্যামিলির সঙ্গে আড্ডারত উপভোক্তার কাছে ব্যাঙ্কিংকে পৌঁছে দিচ্ছে। এক ক্লিকে তিনি অর্ডার করছেন খাবার কিংবা গ্রসারি। তাই তিনি চাইছেন বিনিয়োগ নিয়ে ব্যাঙ্কিং রিলেটেড কলগুলির ভিত্তিতে ব্যবসা করার অধিকার পেতে। কাস্টমার এই পরিবর্তনের জন্য তৈরি। পেপারলেস ফিন্যানসিয়াল প্রোডাক্টের চাহিদাও রয়েছে। ব্যাঙ্কিং ফ্র্যাটারনিটির উপরেই দায়ভার। fintech আর ব্যাঙ্কগুলিকেই হবে লিভিং রুমের সোফা থেকে পেপারলেস ট্র্যান্স্যাকশানকে বাস্তবায়িত করতে।

কাস্টমারকে আপন করে নিন

আদিল বলছিলেন, আজকের দিনে কাস্টমার আর কাস্টমারের ডাটা আপন করে নেওয়া fintech সংস্থাগুলির জন্য কতটা প্রাসঙ্গিক। তাঁর কথা Axis Bank -এর মারকান্দের কথাটাকেই আরও জোরদার করে তুলল। ব্যাঙ্ক fintech ফার্মগুলিকে ভালোবাসে এই কারণেই যে তারা তাদের কাস্টমারদের খুব ভালোভাবে চেনে, জানে। ব্যাঙ্কের fintech ফার্মগুলির সাথে আরও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার। অনেক সময় ব্যাঙ্ক প্রোডাক্ট সংক্রান্ত মেশিনের দেওয়া তথ্যে ভরসা করতে পারে না। নভিনের মতে ব্যাঙ্ক চায় তার কাস্টমারের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াতে। ব্যাঙ্ক নিয়ে কাস্টমারের অভিজ্ঞতা ভালো করতে। কাস্টমারের চাহিদা যাচাই করে দেখতে যেসময় খরচ হয়, এক্ষেত্রে fintech ফার্মগুলির কাছে সুযোগ আছে সেই সময় নষ্ট হওয়া বাঁচানোর।

ডাটা সায়েন্স বিষয়ক বিশৃঙ্খলা সংশোধন

লিজি অনুভব করেছেন বিকল্প ডাটা কনসেপ্ট বিশ্বাস যোগ্য করে তুলতে এখনও অনেক প্রমাণ প্রয়োজন। এই বিষয়ে fintech ফার্মগুলিতে আরও বেশি বেশি সঠিক বিনিয়োগ দরকার। বিকল্প কিন্তু বিশ্বস্ত ডাটার পয়েন্টে নির্ণায়ক সভা এখনও দ্বন্দে। প্রত্যেকের চরিত্র এবং যোগ্যতা নিয়ে অনেক জল্পনা রয়েছে। গ্রহণযোগ্য কোল্যাটারাল হিসেবে ফেসলস হলে সেই সামাজিক চাপ সামলানোর দক্ষতাও থাকা প্রয়োজন।

সম্পাদনা আর টার্গেট অডিয়েন্স

পঙ্কজ জানালেন ছোটো শহরের ছোটো আর মাঝারি মাপের ব্যবসায়ীরা তাঁদের আত্মীয়দের কাছে ৪-৫% সুদে টাকা ধার করেন। এঁরা fintech বিপ্লবে অবশ্যই উপকারিত হবেন। লোন পাবেন অর্ধেক সুদে।

শশাঙ্ক যা বললেন...

শশাঙ্কের মতে বিকল্প তথ্য ব্যবস্থা একবার মান্যতা পেলে এমন অনেক ভারতীয় আছেন যাঁদের অর্থ কম হলেও তথ্যের দিক থেকে ধনী, তাঁরা বিকল্প ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের দ্বারা লাভবান হবেন। fintech স্টার্টআপদের সঙ্গে ব্যাঙ্ক হাত মেলাচ্ছে। প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে ব্যাঙ্কিং সিস্টেম।প্যানেলের সব বক্তারাই এ বিষয়ে একমত।