মাদুর বেচেই কোটিপতি রামনগরের স্বপন গিরি

0

বাপ, দাদা–চোদ্দ পুরুষের ব্যবসা। মাদুরের বাইরে জীবনে আর কিছু ভাবেননি স্বপন গিরি। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের খোলাবেড়িয়ার এই বাসিন্দা পৈতৃক ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। পাশের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং-এর মাদুরের জন্য একসময় দারুণ খ্যাতি ছিল। কিন্তু সময়ের দাবি মানতে না পারায় সবং-এর সুদিন হারিয়েছে।প্রতিবেশীকে দেখে ব্যবসার ছকটা পাল্টা ফেলেন স্বপন। কয়েক জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি বুঝে যান শুধু বিছানা বা মাটিতে পাতার জন্য মাদুর নিয়ে পড়ে থাকলে টিকে থাকা মুশকিল। ঘুরে দাঁড়াতে হলে নিত্যনতুন ডিজাইন এবং মাদুর দিয়ে অন্যরকম সামগ্রী করতে হবে। এই মন্ত্রে স্বপন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। যা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা তাঁকে বলেছিলেন। চিরন্তন মাদুরের পাশাপাশি মাদুর কাঠি দিয়ে স্বপন তৈরি করেন ঘর সাজানোর নানারকম সামগ্রী, জানালার পর্দা, ব্যাগ, সাধারণ আসন, যোগব্যায়ামের আসন। বদলে যাওয়া রুচি ধরতে পারায় এখন স্বপনের মাদুরের আরাম ছড়িয়ে পড়েছে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, সেকেন্দ্রাবাদে। তাঁর সংস্থা ‘মাদুরম’ এই গরমের সময় শুধু মাদুর বিক্রি করেই কোটি টাকার ব্যবসা করে। স্বপনের কাজে যুক্ত হয়ে এলাকার আরও শতাধিক মানুষ উপার্জনের পথ পেয়েছেন।

রামনগর ব্লকের মধ্যে রয়েছে দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরের মতো পর্যটন কেন্দ্র। সৈকত এলাকায় এর সুযোগ পুরোমাত্রায় নিয়েছেন স্বপন। দিঘায় একটি দোকান রয়েছে তাঁর। সেখানে ভাল বিক্রি হয়। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন হস্তশিল্প মেলা ও প্রদর্শনীতে গিয়ে নতুন বাজারের হদিশ পেয়েছেন। বিদেশের পথ কীভাবে খোলা যায় তার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন রামনগরের এই উদ্যমী।

এগরা থেকেই মূলত মাদুরকাঠি আসে। তা ঝাড়াই বাছাইয়ের পর মাদুরম-এর শিল্পীরা কাজ শুরু করে দেন। এক কাঠির মাদুরের আগে চল থাকলেও এখন মজলন্দ মাদুরের চল বেশি। দু’জন ঠিকমতো কাজ করলে প্রায় এই মাদুর তৈরি করতে প্রায় দেড় মাস লেগে যায়। দামও বেশি। স্বপন গিরির কথায়, “বাজারে প্লাস্টিকের নানারকম ডিজাইন থাকলেও এখনও মাদুরকাঠির মাদুর খোঁজেন ক্রেতারা। এর চাহিদা সবথেকে বেশি।”

স্বপন গিরির ‘মাদুরম’–এ কাজ করেন প্রায় ১০০ শিল্পী। অধিকাংশই স্থানীয়। এই শিল্পীরা আগে অন্য পেশায় থাকলেও এখন মাদুর বুনেই থিতু হয়েছেন। ভিনরাজ্যের অর্ডার ধরতে প্রায়ই স্বপন গিরিকে বাইরে যেতে হয়। টিমের মতোই সব সামলে নেন মাদুরম-এর শিল্পীরা। এই বোঝাপড়ার জন্য রামনগরের সবথেকে বড় মাদুর ব্যবসায়ী হিসাবে উঠে এসেছেন। বছরে কোটি টাকার ওপর তাঁর ব্যবসার টার্নওভার। বাবার হাত থাকে যখন ব্যাটনটা নিয়েছিলেন তখন লাখের ঘরে পৌঁছানোই অনেক মনে হত। এখন গিরিবাবুর স্বপ্ন অনেক দূরে। চেন্নাইয়ের সস্তার মাদুরের দাপট থাকলেও মান ধরা রেখে ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে চলেছেন তিনি।

Related Stories