বাবার হাতে হাতেখড়ি Parle Agro-র নাদিয়ার

2

আপনি নারী বা পুরুষ যেই হোন না কেন আপনার একটি স্বপ্ন থাকা খুবই জরুরি। আর সেইসঙ্গে দরকার ওই স্বপ্নটি সার্থক করার জন্যে পরিশ্রম করার মানসিকতা। তাহলেই আপনাকে আর কেউই রুখতে পারবেন না। উপরন্তু সফল আপনি হবেনই।

এমনই মনে করেন নাদিয়া চৌহান। দেশের বিশিষ্ট মহিলা উদ্যোগপতি নাদিয়া। বর্তমানে তিনি Parle Agro-এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর তথা চিফ মার্কেটিং অফিসার। ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিতে একটি মাইলফলক নাদিয়া।

নাদিয়া জানালেন, ২০১৮ সালে Parle Agro ৫০০০ কোটি টাকা ব্যবসা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত Frooti, Appy Fizz, Parle Agro এর অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি প্রোডাক্ট।

পার্লে সংস্থার যাত্রা শুরু অবশ্য ১৯২৯ সালে। মুম্বইয়ের ভিলে পার্লেতে যে কম্পানির সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তীকালে তিনটি সংস্থায় ভেঙে গিয়েছে। এই তিনটি সংস্থা হল Parle Agro, Parle Bisleri এবং Parle Products। নাদিয়া জানালেন, বাবার কাছে ছেলেবেলাতেই তাঁর ব্যবসার হাতেখড়ি। কম্পানির মিটিঙগুলিতে বাবা তাঁকে পাশে বসিয়ে রাখতেন। এ ব্যাপারে নাদিয়ার নিজেরও ছিল তুমুল আগ্রহ। দেখতে দেখতে এভাবে সংস্থা পরিচালনা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়-আশয়গুলি জানতে-বুঝতে শুরু করেন নাদিয়া। পরে যে তিনি নিজেই একজন প্রথম সারির উদ্যোগপতি হয়ে উঠবেন তা কে জানত!নাদিয়ার সংস্থা এখন রীতিমতো পাল্লা দিচ্ছে বহুজাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে। নাদিয়ার জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ায়। লেথাপড়া অবশ্য মুম্বইতে। মুম্বইয়ের এইচ আর কলেজে স্নাতক স্তরে বাণিজ্য নিয়ে পড়েছেন। তবে এর অনেক আগেই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।

মাত্র ১১ বছর বয়সে নাদিয়া একক উদ্যোগে Just Divine নামে একটি সংস্থা চালু করেন। সেটি ছিল বেকিংয়ের কম্পানি। প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে Just Divine এর প্রোডাক্ট বেচা হত।

নাদিয়া বললেন, সে কালে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট তো ছিল না। প্রোডাক্ট বেচার কৌশল হিসাবে ডোর টু ডোর সেলসের কৌশলই বেছে নিয়েছিলাম। আর তাতে যথেষ্ট সফলও পেয়েছিলাম। সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যবসার কাজ করেন নাদিয়া। বাকি সময়টা দেন সন্তানদের। নাদিয়া মনে করেন, সামঞ্জস্য বজায় রাখার কৌশলটাও আমাদের সকলের আয়ত্ত করা উচিত। তা হলেই সবদিক সামলে চলা যায়।