হাইটেক হাট্‌কে হোম ডেলিভারি foodsood.com

0

এ বাড়ি থেকে বাটি ভর্তি হয়ে খাবার যাচ্ছে পাশের বাড়িতে, আবার সেই বাড়িতে ভাল রান্না হলে তা পৌঁছে যাচ্ছে এ বাড়ি। কয়েকবছর আগে অবধি আমাদের শহরে এ ছিল খুবই পরিচিত চিত্র। কিন্তু হালফিলের ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনে অভ্যস্ত কলকাতা প্রতিবেশীর হেঁসেলের খবর রাখেনা। পাড়া সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে বেশ কয়েক বছর হল।

পুরোনো সেই অভ্যাসকেই ব্যবসার মোড়কে নিয়ে এসেছে ফুডসুড.কম। প্রতিবেশীর হেঁসেলের খবর আপনার কাছে পৌঁছে দেবে ফুডসুড, পছন্দ হলে অর্ডার করে ফেলতে পারবেন আপনার পছন্দের পদটি।

এতে একদিকে যেমন ক্রেতা পাবেন ঘরে রান্না করা পছন্দসই খাবারের স্বাদ, অন্যদিকে এর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন গৃহীনি।

এবছর নভেম্বরে যাদবপুর এলাকায় কাজ শুরু করেছে ফুডসুড.কম। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা প্রাঞ্জল মল্লিক, খড়গপুর আইআইটি থেকে এমটেক শেষ করেছেন। তবে চাকরি নয় নিজের কিছু করতে চেয়েছেন প্রাঞ্জল।

“ছাত্রজীবনের একটা বড় সময় কেটেছে হস্টেলে, তখনই বুঝি বাড়িতে তৈরি খাবারে কী মাহাত্ম্য, রোজ হস্টেলের সেই একই খাবার খেতে খেতে বিরক্ত লাগত। নাহলে ভরসা রেস্তোঁরা বা রাস্তার পাশের ধাবা, কিন্তু তাতে খরচ অনেক”, বলছিলেন প্রাঞ্জল। তাই পড়াশোনা শেষ করে যখন নিজের কিছু করবেন বলে ভাবেন, প্রথমেই মনে আসে মানুষকে ঘরে তৈরি খাবারের স্বাদ দেওয়ার কথা। কম পুঁজিতে সেটা কী ভাবে করবেন ভাবনা চিন্তা চলছিল. তখনই মাথায় আসে এই অভিনব পরিকল্পনা।

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার রান্না ঘরের খবর জানিয়ে দিতে হবে ফুডসুড কে, সঙ্গে পাঠাতে হবে খাবারের ছবি ও দাম। তারা তাদের ওয়েবসাইটে সেটি তুলে দেবে, আগ্রহী ব্যক্তি তা অর্ডার করতে পারবেন, তখন ফুডসুডের প্রতিনিধি আপনার বাড়ি থেকে সেই খাবার নিয়ে পৌঁছে দেবে ক্রেতার বাড়ি। পুরোটাই হবে রিয়্যাল টাইমে। রান্না করার পরই আপনি সেই তথ্য আপলোড করতে পারবেন সাইটে এবং অর্ডার আসা মাত্রই তা সরবরাহ করতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে দাম পেয়ে যাবেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই অ্যানরয়েড অ্যাপও আনছে ফুডসুড।

তবে প্রাথমিকভাবে নিজেদের রান্নাঘরেরও ব্যবস্থা রেখেছে ফুডসুড, সেখানে পাওয়া যায় বাঙালি থালি ও বাঙালির নানা বিশেষ পদ।

“দুপুর ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা রেখেছি আমরা, রয়েছে জলখাবারও। এছাড়াও প্রি-প্যাকের ব্যবস্থা রেখেছি আমরা, যেখানে এক সঙ্গে টাকা দিয়ে একাধিক থালি অর্ডার করে রাখা যায়, ও তারপর প্রয়োজন মতো থালির সংখ্যা হোয়াটস্অ্যাপের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেই তা পৌঁছে দেওয়া হবে আপনার বাড়িতে”, বললেন প্রাঞ্জল।

মূলতঃ ঘর ছাড়া ছাত্রছাত্রী ও তরুণ চাকুরিজীবীরাই ফুডসুডের টার্গেট অডিয়েন্স, মেনু থেকে দাম সব কিছুই রাখা হয়েছে তাঁদের কথা মাথায় রেখে। হস্টেল, বাড়ি, অফিস বা মেস সব জায়গাতেই খাবার সরবরাহ করে তারা। বর্তমানে প্রতিদিনই ২০ থেকে ২৫ জন তাদের মাধ্যমে খাবার বিক্রির ব্যাপারে উত্সাহ দেখাচ্ছে বলে জানালেন প্রাঞ্জল, ১০০ জন মতো ক্রেতাও পেয়েছেন যাঁরা নিয়মিত তাঁদের থেকে খাবার নেন।

গত বেশ কয়েক বছর ধরে পাড়ায় পাড়ায় যে হোম ডেলিভারি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তাকেই আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাইছে ফুডসুড।

শুরুটা যাদবপুর অঞ্চলে করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা বড় অংশের ছাত্রছাত্রীকে নিজেদের ক্রেতা হিসেবে পেয়েছে ফুডসুড। পুঁজি সীমিত হওয়ায় আপাতত শুধু দক্ষিণ কলকাতাতেই কাজ করছে এই কোম্পানি। আগামী এক বছরের মধ্যে সারা কলকাতাতে নিজেদের পরিষেবা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রাঞ্জলের। পরবর্তী তিন বছরে অন্যান্য মেট্রো শহরেও কাজ শুরু করবে তারা।