দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় ২২ টি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক কেরলের এক অটো মেকানিক

ছিলেন মামুলি অটো মেকানিক। দুবাই গিয়েছিলেন ভাগ্যান্বেষণে। খালি হাতে। আর এখন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় ২২ টি অ্যাপার্টমেন্ট আছে ওঁর। দুবাইয়ের হাতে গোণা ধনীদের একজন জর্জ ভি নেরিয়েপারামবিল। এখন তিনিই রীতিমত খলিফা। কী করে হল? শুনুন সেই গল্প।

3

কেরলের উদ্যোগপতি জর্জ ভি নেরিয়েপারামবিল দুবাইয়ের Burj Khalifa টাওয়ারের ২২টি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক। বলা হয়, এটি নাকি পৃথিবীর উচ্চতম বিল্ডিং। ভালো দাম পেলে আরও অ্যাপার্টমেন্ট কিনে ফেলার তালে আছেন জর্জ। নিশ্চয়ই ভাবছেন এই পাগলামির কারণ কি!

আসুন আজ আপনাদের এক জেদি মেকানিকের গল্প বলি যিনি জীবনে টলিউডের ব্লকব্লাস্টার সিনেমা চ্যালেঞ্জে দেবের সেই বিখ্যাত ডায়লগ, "চ্যালেঞ্জ নিবি না শা**"কে বাস্তবের রূপ দিয়েছেন।

ত্রিচূরের ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে জর্জ। ১৯৭৬ এ শারজাহ আসেন। তখন সামান্য অটোমোবাইল মেকানিক ছিলেন। স্বপ্নশীল মানুষ জর্জ। কোনওদিন স্বপ্ন দেখা থামাননি। একবার তাঁর এক বন্ধু জর্জকে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন Burj Khalifa টাওয়ারে ঢোকার যোগ্যতাও নেই তাঁর। সেই অপমান সয়ে নেননি মানুষটা। সেদিনের সেই তির্যক কথাগুলো আগুন করে নিয়েছেন ভিতরে ভিতরে।

আজ দুবাইয়ে ভারতীয় নামজাদা উদ্যোগপতিদের একজন নেরিয়েপারামবিল। তিনি বুঝেছিলেন এই মরু এলাকার তীব্র গরমে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবসা দারুণ জমবে। হলও তাই। রমরমিয়ে চলছে ব্যবসা। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন GEO Group of Companies। শুধু তাই নয়, ভারতে Cochin International Airport Ltd-এর ১২ শতাংশের শেয়ারের মালিক তিনি। কেরালা সরকারের পরেই শেয়ারের মালিকানায় তাঁর স্থান দ্বিতীয়।

২০১০ এ তিনি পেপারে Burj Khalifa টাওয়ারের একটি অ্যাপার্টমেন্ট রেন্টে দেওয়ার অ্যাড দেখেন। সেইদিনই ওই ফ্ল্যাট রেন্ট নিয়ে তিনি থাকতে শুরু করেন। গত ছয় বছরে একে একে ২২টি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন। আপাতত পাঁচটি ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছেন তিনি। বাকিগুলোর জন্য ভালো ভাড়াটের অপেক্ষায় আছেন। ৮২৮ মিটার উঁচু বিল্ডিংটায় ৯০০টি অ্যাপার্টমেন্ট আছে। জানিয়েছেন ভালো ডিল হলে আরও কিনবেন। জর্জের অভিধানে অসম্ভব শব্দটি নেই। তবে আমরা কিন্তু চেন্নাই এক্সপ্রেসের মিনা আম্মার মতো তাঁকে প্রশ্ন করব না, "কাঁহা সে খরিদি এ্যায়সি বকওয়াস ডিকশনারি?"

Related Stories