দ্বিতীয় সুযোগ খুঁজছেন দ্বিতীয় লিঙ্গের জন্য

অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অপহৃত হয়েছেন। গুণ্ডাদের ডেরা থেকে পালিয়ে এসেছেন। তবু ভয় পাননি। পিছপা হন নি। সাহসী এই যুবকের নাম কুন্দন। শুনবো তার কাহিনি।

0

এখন বয়স ২৫ বছর। পেশায় প্রযুক্তিবিদ। জন্মেছিলেন  চম্পরণের রক্সলে। কুন্দন শ্রীবাস্তব। 

২০০৪ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অপহৃত হয়েছেন। গুণ্ডাদের ডেরায় ৭ দিন কাটিয়েছেন। তারপর ফিল্মি কায়দায় অপহরণকারীদের চোখে ধুলোদিয়ে পালিয়েছেন। পায়ে গুলি লেগেছে ভয় পাননি। পিছপা হন নি। ফিরে এসে ফের আন্দোলন করেছেন।

এই ঘটনা তাঁর মনবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তার জীবনে ঘটা এই ঘটনার পরের বছরই পড়াশোনা শেষ হয়। ছোট ভাই ক্যান্সারে মারা যায়। খুব কঠিন সময় ছিল সেটা। দিনের পর দিন তাঁর মাথার ভিতর সমাজের অন্যায় অবিচার নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছিল। সমাজকে শিক্ষিত করার তাগিদ অনুভব করছিলেন। দুঃস্থ গরিব সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েদের পড়াশুনোর ব্যাবস্থা করেন। চাকরি পান দিল্লিতে।

সেখানে থাকাকালিন প্রায় প্রতি দিনই মহিলাদের প্রতি হওয়া অত্যাচারের খবর শুনতেন পড়তেন। ভিতরে তিক্ততা অনুভব করতেন। কিছু একটা করার তাগিদ তাঁকে তাড়িয়ে মারত। মহিলাদের ক্ষমতাশীল করে তুলতে শুরু করলেন তাঁর সমাজসেবী সংস্থা "বি ইন্ হিউম্য়ানিটি ফাউন্ডেশন্"। সংস্থা চালানোর জন্য় কোনও চাঁদা নেওয়া হয় না পরির্বতে যাঁরা এই সংস্থা চালান তারা নিজেদের আয় থেকে কিছু ভাগ এই সংস্থার উন্নতির জন্য খরচ করেন।


কুন্দন শ্রীভাস্তব এই সংস্থার মাধ্য়মে শুধুমাত্র মহিলাদের প্রতি হওয়া অত্য়াচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই শেখান না এমনকি অত্য়াচারিত মহিলাদের নতুন করে বাঁচতেও শেখান। এবং তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফির‌িয়ে আনার চেষ্টা করেন। নিপীড়িত নারীর ভিতরে শক্তি ও সাহস বাড়িয়ে তোলার কাজ করে তাঁর সংস্থা।  

এছাড়া আরও একটা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন কুন্দন। নাম দিয়েছেন "স্ক্রিমস্ অফ্ দি সোল"। যার বাংলা মানে হতে পারে অন্তরের চিৎকার। 

সামাজিক অপরাধ গুলিকে চিহ্নিত করে তা নির্মূল করার কাজ করবে তাঁর এই প্রকল্প। সমাজের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিদ্বজনেদের বক্তা হিসেবে এনে সচেতনতা দেবে তাঁর ফাউন্ডেশন।

অনেক পুরষ্কার পেয়েছেন কুন্দন। দেশের কনিষ্ঠতম সমাজসেবী পেয়েছেন "ইউনিভারসাল" অ্য়াওয়ার্ড এবং "পিথাধিস" অ্য়াওয়ার্ড। তাতে তৃপ্ত নন কুন্দন। বলছেন এখনও অনেকটা পথ বাকি।