সঙ্গে রাখুন স্টার্টআপের HandBook

0
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্টার্টআপ পরিভাষাতেও অদল বদল হচ্ছে। অপিনিহিতি অভিশ্রুতি এসব বাংলা ব্যকরণের বিষয়। কিন্তু স্টার্টআপ ব্যকরণেও অর্থের রূপান্তর চোখে পড়ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সংজ্ঞাও। ফলে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি। সেই বিভ্রান্তি কাটাতেই বিষয়গুলির যথার্থ সংজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা করব আমরা। গত কয়েক বছরের সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর বিষয় ছিল ‘সিড রাউন্ড বনাম A রাউন্ড’! কোন পুঁজির কী কাজ তার উপর ভিত্তি করে আজ এই রাউন্ডগুলির একটা পরিষ্কার ধারণা দিতে চাই।

২০১৪-য় যে ভাবে বুঝতাম আমরা

• প্রি-ফান্ডিং- ফান্ড পাওয়ার আগে নিজের প্রোডাক্টের প্রোটোটাইপ বা প্রতিরূপ তৈরি করলেই চলত
• সিড রাউন্ড-প্রোডাক্ট লঞ্চের জন্য যে ফান্ডের প্রয়োজন পড়ে মূলত তাকেই বলা হত সিড রাউন্ড
• A রাউন্ড-প্রোডাক্টকে আকর্ষণীয় করতে যে বিনিয়োগের প্রয়োজন তাকে এ রাউন্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হত।
• B রাউন্ড- এই স্তরের বিনিয়োগ প্রোডাক্ট বাড়ানোর কাজে লাগত।

২০১৫-এর সংজ্ঞায়

• প্রি-ফান্ডিং বলতে বোঝায়, এই স্তরে নিজের আইডিয়া জানানো শুধু নয় বরং নিজেই নিজের গ্যাটের কড়ি খসিয়ে প্রোটোটাইপ তৈরি করা এবং MVP বা মিনিমাম ভায়াবল প্রোডাক্ট লঞ্চ করে ফেলা।
• সিড রাউন্ড- এই ধাপ আসে তার পর। প্রোডাক্টটিকে আকর্ষণীয় করতে যখন বিনিয়োগের প্রয়োজন পরে তখন। তার আগে নয়।
• A রাউন্ড-প্রোডাক্ট বাড়াতে যে বিনিয়োগের প্রয়োজন তাকে আজকাল Round A বলা হয়
• B রাউন্ড- ফাউন্ডার লিকুইডিটির জন্যে যে ফান্ডিং তাকেই আজকাল B রাউন্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোজা বাংলায় বলতে গেলে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতার অংশিদারীত্ব বিক্রি করার কাজেই এই ফান্ডিং প্রয়োজন পড়ে। অথবা ভালো হেডকোয়ার্টার তৈরি করা কিংবা প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষকে দশগোল দিতে এই ফান্ড ব্যবহার করা হয়।

২০০৪-এ বিষয়গুলো ঠিক এরকম ছিলনা। তখন

• প্রি-ফান্ডিং- বলতে বোঝাতো নিজের বিজনেস আইডিয়া তৈরি করা এবং বিজনেস প্ল্যান লিখে ফেলা।
• সিড রাউন্ড- এই স্তরে যে ফান্ডিং পাওয়া যেত তাতে প্রোডাক্টের প্রতিলিপি তৈরি হত
• A রাউন্ড-প্রোডাক্ট লঞ্চের জন্য যখন ফান্ড দরকার হত সেই সময়কার ফান্ড
• B রাউন্ড-এই স্তরের ফান্ডিং প্রোডাক্টটিকে আকর্ষণীয় করতে প্রয়োজনীয় ছিল
• C রাউন্ড-প্রোডাক্ট বাড়াতে যে বিনিয়োগ করা হত তাকেই C রাউন্ড ফান্ডিং বলা হত।

ফাউন্ডারদের জন্যে বলে রাখি

• প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে যদি আপনি মনে করেন শুধু ভালো আইডিয়া আর দুর্দান্ত বিজনেস প্ল্যান লেখার ক্ষমতা থাকলেই কেল্লা ফতে, তাহলে বলে রাখি আপনি ভুল ভাবছেন। জাস্ট ফুরিয়ে যাবেন। টাকা বানানোর ক্ষমতা যদি না থাকে কেউ আপনার কথা ভাববে না। যদি আপনি মার্ক পিনকাস বা ইভান উইলিয়াম হন তাহলে অবশ্যই নিজের আইডিয়া দিয়ে টাকা তুলতে পারবেন। তবে কি জানেন জিনিয়াসকে কোনও নিয়ম বাঁধতে পারে না। আমরা নরম্যাল উদ্যোগপতিদের নিয়ে কথা বলছি।
• আপনি যদি ফাউন্ডার হন এবং দারুন প্রোটোটাইপ ডিজাইন করতে পারেন তাহলে হয়ত অনেক মিটিংয়ে ডাক পাবেন, কিন্তু ফান্ড পাবেন না।
• যদি ফাউন্ডার হিসেবে আপনি স্মার্ট লুক এমভিপি ডিজাইন করতে পারেন তাহলে একটা ভাল কাজ হতে পারে। আপনি ফান্ড হয়ত পেয়েও যেতে পারেন। এভাবেই প্রতিযোগিতার বাজারে স্কেলটা নড়ে গেছে।

সংক্ষেপে বলি? ছিমছাম প্রোডাক্ট বানান যাতে কাজটা হয়। এবার শক্তপোক্ত জায়গা থেকে ফান্ডিং জোগাড়ের চেষ্টায় নেমে পরুন। গুরুত্বপূর্ণ লোকেদের সঙ্গে শুধু বিজনেস প্ল্যান বা আইডিয়া নিয়ে মিটিং করতে যাবেন না, তখনই যাবেন যদি আপনার প্রোটোটাইপ অ্যাপেলের অ্যাপ অব দ্য উইক পাওয়ার মতো যোগ্য হয়। তা না হলে আপনি মোটেও প্রতিযোগী নন। ফিরে যেতে হবে এবং নিজের দক্ষতায় শান দিতে হবে। বুঝলেন!

হ্যালো মিস্টার দেবদূত, আপনাকে বলছি

1. বিজনেস প্ল্যানের ওপর পুঁজি লাগানো নৈব নৈব চ। এই রাস্তা কোথাও গিয়ে শেষ হয় না। বারবার প্রোজেক্টে বিনিয়োগের কথা বলা হয়, কারণ তারা ভিসি ফান্ড থেকে তখনও বহুদূরে থাকে।
2. যদি মনে করেন ৫০০ থেকে ১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন অন্তত ১২ মাস ভেসে থাকবেন তাহলে সবথেকে ভালো প্রোটোটাইপে বিনিয়োগ করা। যদি টাকার অঙ্কটা ৫ লক্ষ ডলার হয় তাহলে বার্ন রেট ২৫ থেকে ৩০ হাজার ডলারের বেশি হবে না। ১৮ মাসের মতো অনায়াসে চালিয়ে যেতে পারবেন। ৬ মাস গড়তে সময় লাগবে আর বাকি ১২ মাস দেবেন বাজারে পরীক্ষা চালাতে।
3. তবে মিনিমাম ভায়াবল প্রোডাক্ট চাইতে ভুলবেন না।

তাহলে ইনকিউবেটরদের কী করণীয়?

ভালো প্রশ্ন কিমকর্তব্যম! আর যাই হোক কিংকর্তব্যবিমূঢ় না হওয়াই ভালো। কিছু ইনকিউবেটর প্রোটোটাইপ তৈরি করতে স্টার্টআপদের দিনের পর দিন সময় দেন। কিন্তু এরকমটা হওয়া উচিত নয়।
১২ সপ্তাহ পরও যখন কোনও স্টার্টআপ এসে আপনাকে বলে, ‘দেখুন একটা ডেভেলপার পেলে এটাই দুর্দান্ত একটা প্রোটোটাইপ হতে পারে, তখন শুনতে খারাপই লাগা উচিত। কারণ আপনার কান এসব ধানাই পানাই শুনতে চায় না। সে আরও একটু স্মার্ট বাক্য শুনবার যোগ্যতা রাখে। যেমন আমরা এই বদলগুলি করেছি এবং গতসপ্তাহে পরীক্ষা করে দেখেছি, দারুণ লাগছে। এই হল তার ফল।

সব শেষে বলি

গোটা দুনিয়াটা দৌড়চ্ছে। আপনি যদি বসে থাকেন আপনার স্কেলটা নড়ে যাবেই। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন। বিনিয়োগ টানতে কিংবা বিনিয়োগ করতে লক্ষ্য স্থির করাটা খুব জরুরি। সবসময় নিজেকে একটা সোজা প্রশ্ন করুন। ‘এই ফান্ডিং থেকে কী পেলাম? আর পরের ফান্ডিং পেতে হলে কী দেখাতে হবে’? That's it.