ক্যান্সাররোধী ‘ওষধি’ ধান চাষে পথ দেখান আশিস

0

পাতে ধবধবে সাদা সরুচালের ভাত ছাড়া অনেকের রোচে না। সেই পাতেই যখন কালো ভাত পড়বে তখন একটু ধাক্কা তো লাগবেই। রং দেখে সরিয়ে দিলে কিন্তু ভুল করবেন। কারণ এই চালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে। সুগন্ধও। খুব কম পাওয়া যায়। সম্প্রতি মহিষাদলে এক গবেষণা পাগল কৃষক এই চাষ করে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

ধান নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে ভালোই লাগে আশিস হাজরার। ৭ বিঘে জমি। সারা বছর চাষ। অন্য কিছু নয়। শুধু ধান। নানা ধরনের ধান চাষই জীবিকা এবং নেশা মহিষাদলের এই চাষির। ১৬ ডেসিমেল জমিতে চাষ করেন কালো ধান। পূর্ব মেদিনীপুরের মাটিতেও ফলিয়ে দিলেন ওষধি ব্ল্যাক রাইস।

কিছু দিন আগে বর্ধমানে কৃষিতীর্থ মেলা থেকে নিয়ে এসেছিলেন এই কালো ধানের বীজ। ২ কেজি বীজ রুইয়ে দিতেই বিপ্লব ঘটে গেল মহিষাদলে। আশিস বলেন, ‘সারা বছর নানা ধরনের উচ্চফলনশীল ধান চাষ করে চলেছি। ব্ল্যাক রাইস বা কালো চাল চাষের ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। কিন্তু বীজ ধান পাওয়া যাচ্ছিল না’। ধান নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্যই স্থানীয় কৃষি দফতরেও বেশ পরিচিত মুখ আশিস। নানা মেলায় মহিষাদলের প্রতিনিধি হয়ে যান। তেমনি শস্যগোলা বর্ধমানেও এক মেলায় মহিষাদল ব্লকের প্রতিনিধি করে পাঠানো হয় তাঁকে। সেখানেই দেখতে পান ব্ল্যাক রাইসে বীজধান। ‘এই চাল একদিকে রোগ প্রতিরোধ করে অন্যদিকে মিষ্টি সুগন্ধও আছে। অনেকদিন ধরে তাই বীজ খুঁজছিলাম। অবশেষে পেলাম’, আনন্দে বলেন আশিস।

খানদানি ইতিহাস রয়েছে কালো চালের প্রেক্ষাপটে। মহিষাদল ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা ডা মৃণালকান্তি বেরা জানান, মূলত চিনের বিভিন্ন এলাকায় এই ধানের চাষ করা হয়। আমাদের দেশে আবার কালো চাল এবং নীল চাল পাতে নিতে চান না কেউ। অথচ চিনে নাকি কালো চালে অধিকার ছিল না সাধারণ মানুষের। একমাত্র রাজ পরিবারের সদস্যরাই খেতে পারতেন ওই ভাত। তাই ব্ল্যাক রাইস নিষিদ্ধ চাল নামেও পরিচিত।

কালো চালকে ওষধি বলা হয় কারণ, চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, ব্ল্যাকরাইস চাষ হলে এলাকায় ক্যান্সার প্রতিরোধক তৈরি হয়। কালো চালে অতিরিক্ত পরিমান অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট থাকে। যা ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। ক্যান্সারের পাশাপাশি ব্লাড সুগার, কিডনি ও পাকস্থলীর উপকার হয়। নানা ধরনের ধানের চাষ করতে গিয়ে এর অনেকটাই জেনে গিয়েছেন আশিস হাজরা। তাই ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এই চালের সন্ধানে ছিলেন বহুদিন ধরে। অথচ স্থানীয়, এমনকী দূরদূরান্তের বাজারেও খোঁজ করে কালো ধানের বীজ পাচ্ছিলেন না। বর্ধমানের মেলায় তাই বীজ পেয়ে আর দেরি করেননি। ২ কোজি কিনে এনে চাষ শুরু করেন। ভালোই হয়েছে ফলন। পরীক্ষামূলকভাবে ভাবে অল্প যা চাষ হয়েছে সেই ধান আর বাইরে বিক্রি করেননি। রেখে দিয়েছেন বাড়িতে খাবেন বলে। সামনের মরশুমে যাতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা যায় তার জন্য তৈরি হচ্ছেন। ‘এই ধান থেকেই ব্ল্যাক রাইসের বীজধান হবে। আরও বেশি জমিতে চাষ করে ফলন বাড়াবো। কেউ এই ধান চাষ করতে চাইলে বীজধান আমার কাছ থেকে পেয়ে যাবেন’,জানান আশিসবাবু। তাঁর মতে, ধান ফলিয়ে যদি এলাকা ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায় তাহলে মন্দ কী। এই চালের গুন মানুষের মনে গেঁথে দেওয়া গেলে ভালো মানের সুগন্ধী চালের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে কালো চালের চাহিদা।