মোহনদাস পাই-দ্য সাহা ফান্ডের লগ্নি পেল KAARYAH

0

কারইয়া লাইফস্টাইল (KAARYAH Lifestyle)। অনলাইনে মহিলাদের জন্য বিদেশি ব্র্যান্ডেড পোশাকের সম্ভার। সংস্থার নাম ও ব্র্যান্ডের নাম একই, কারইয়া। সেই কারইয়া pre-Series A ফান্ডিং পেল টি ভি মোহনদাস পাই এবং দ্য সাহা ফান্ড থেকে। ইয়োর স্টোরির পাঠকদের নিশ্চয় মনে আছে যে মাত্র ছ'মাস আগেই এই কারইয়াতেই বিনিয়োগ করেছিলেন টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এমেরিটাস রতন টাটা।

মহিলাদের জন্য ফর্মাল ও পার্টি পোশাক রিটেল করে থাকে কারইয়া। এখন এই নতুন পুঁজি কাজে লাগানো হবে কর্মীসংখ্যা বাড়ানো, প্রযুক্তির ব্যবহার ও মার্কেটিংয়ের কাজে। কারইয়ার প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও নিধি আগরওয়াল মনে করেন, রতন টাটা এবং মোহনদাস পাইয়ের মতো ব্যক্তিত্বের এই সহযোগিতা তাদের উদ্যোগিক প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি। এবং তাদের মধ্যে যে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে তাকেও মান্যতা দেওয়া হয়েছে। তবে মোহনদাস পাইরা কত টাকা লগ্নি করেছেন তা বলতে রাজি হননি নিধি আগরওয়াল।


কারইয়া গড়ে ওঠে ২০১৪ সালে। সংস্থার দাবি, নিজস্ব ওয়েবসাইট ও আউটলেটের মাধ্যমে প্রতিমাসে সাড়ে তিন হাজারের বেশি অর্ডার মেলে। এর মধ্যে রয়েছে Myntra, Jabong, Flipkart, PayTM, Snapdeal ও LimeRoad-র মতো জনপ্রিয় ই-কমার্স সংস্থাও। মহিলাদের পারফেক্ট ফিট পশ্চিমী পোশাক তুলে দেওয়াই তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করে সংস্থা। এমন পোশাক যাতে প্রতিদিন অফিস যাওয়া যায় কিংবা নন-ক্যাজুয়াল পার্টি ওয়্যার। দু'ক্ষেত্রেই মেলে স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও স্বাচ্ছন্দ্য। এ জন্য অবশ্য গবেষণায় জোর দিয়েছে সংস্থা। ভারতীয় মহিলাদের শারীরিক গঠনের কথা মাথায় রেখে সাইজিং যাতে ঠিক থাকে তার পিছনে মাথা খাটায় একটা দল।

শুরুর দিকে অবশ্য লগ্নিকারীদের থেকে সাড়া পাননি নিধি। যদি সংখ্যায় বলতে হয়, ১১৩ জন ইনভেস্টর তাকে 'না' বলে দেন। কিন্তু একজন সাড়া দেন। তিনি রতন টাটা। এবার মোহনদাস পাই ও দ্য সাহা ফান্ড। কারইয়াতে লগ্নির কথা বলতে গিয়ে মোহনদাস বলেছেন, নিধি ও তার দল ফিট ডাউন কনসেপ্টকে ছুঁয়ে ফেলেছে। যেখানে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে এই সাফল্যকে আমরা সমাধান বলেই মনে করি।


দিল্লির সংস্থা কারইয়াতে লগ্নি কেন? The Saha Fund প্রতিষ্ঠাতা অঙ্কিতা বশিষ্ট বলেছেন,"ফ্যাশন-টেকনোলজির (Fash-Tech) প্রথম সারিতেই রয়েছে কারইয়া। বিজনেস মডেলটা অন্য ধরনের, কার্যকরী মূলধনের সঠিক ব্যবহার হয়। এই ব্যবসা শুধু বাড়বেই না, টিকেও থাকবে।"দ্য সাহা ফান্ড প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভালো যে এই সংস্থা শুধুমাত্র মহিলা-কেন্দ্রিক ব্যবসা এবং মহিলা পরিচালিত ব্যবসা, এই দুই ক্ষেত্রে পুঁজি দিয়ে থাকে।

ইয়োর স্টোরির সংযোজন

কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে মহিলারা ক্রমেই উপরের সারিতে উঠছেন, তাঁদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। ফলে ফর্ম্যাল বিদেশি পোশাকের চাহিদাও বাড়ছে। কারইয়ার মতে, ভারতে মহিলাদের পশ্চিমী পোশাকের বাজার ১৫০ কোটি ডলারের মতো। এখনও পর্যন্ত সেই বাজারে আধিপত্য রয়েছে Van Heusen, Allen Solly, Arrow-র মতো ব্র্যান্ডের। যদিও তাদের পোশাক অত্যন্ত দামি এবং ভারতীয় সাইজের সঙ্গে ফিট করে না। দাম ও ফিটিংয়ের এই দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিলে কারইয়ার সামনে কিন্তু একটা বিরাট বাজার পড়ে রয়েছে।

লেখা - জয় বর্ধন