সরকারি উদ্যোগে উল্টোডাঙায় ভেষজ হাট

0

বিজ্ঞাপনে দেখেন না, রঙ দেখে জিনিস কিনতে বলে... কিন্তু রঙটা প্রাকৃতিক কিনা কেউ জানেন কি? যা সময় পড়েছে তাতে ভেজালে ভরা বাজার। শাকসবজিতে কীটনাশক, তাজা দেখাতে রাসায়নিক তেল, আর ফল চটপট পাকাতে রাসায়নিকের প্রয়োগ, কোনওটাই স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক নয়। সবাই সব জানেন। তবু জ্ঞানপাপীর মতো লোকজন বাজার থেকে সেগুলোই ব্যাগে ভরে বাড়ি নিয়ে আসতে বাধ্য হন। নিরুপায় সেইসব শহরবাসীর জন্য কলকাতার বুকে আরও একটা হাট বসতে শুরু করল।

তবে এমন হাট আর একটাও নেই। হাওড়া বা শেওড়াফুলির মতো যেসব হাট দেখে আমরা অভ্যস্ত ঠিক সেরকম নয়। চতুর্দিকে জামা-কাপড়, খাবার-দাবার, সেসব কিছু নয়। এই হাটের সবটা জুড়েই শাক, সবজি, চাল, ডাল। সাধারণ বাজারের পণ্য থেকে এর তফাৎ হল সব সবজিই জৈব চাষের ফলন।

রবিবার সকাল হলেই ব্যস্ততা বাড়ে বিধান শিশু উদ্যানের কর্মীদের। রাজ্যের প্রথম জৈব হাট বসছে উল্টোডাঙার এই উদ্যানেই। জেলার চাষিদের কাছ থেকে ক্রেতারা সরাসরি কম দামে জৈব সবজি কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন এই হাটে। হাটের সাফল্যের পর কৃষি দফতর শহরের আরও চারটি জায়গায় ভেষজ হাট বসানোর পরিকল্পনা করেছে।

জৈব শাক-সবজি যে কলকাতার বাজারে পাওয়া যায় না তা কিন্তু নয়। তবে সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। শখ করে এক আধটু জৈব সবজি কিনলেও নিয়মিত বাজারের ব্যাগে পোরার মতো সাধ্য সবার নেই। বাজারগুলোতে যে জৈব শাক—সবজি বিক্রি হয় বা খুচরো পণ্যের বিপণিগুলিতে যে জৈব সবজিগুলো বিক্রি হয় তার দাম সাধারণ সবজির তুলনার দ্বিগুণ হয়ে থাকে। তবে এই বাজারে তেমন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। রাজ্যের কৃষি দফতরের সহায়তায়—বিধান শিশু উদ্যানের উদ্যোগে এই হাটে নিজেদের ফসল বিক্রি করতে আসছেন জেলার চাষিরা। ফলে সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং বাজার ধরার জন্যই অন্যান্য বাজার থেকে এখানকার জিনিসের দাম অনেক কম। পেঁপে, আলু, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম যেমন মিলছে এই হাটে পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকারের চাল, ডাল, সবই পাওয়া যাচ্ছে। এমন কি শুরু হয়েছে মুরগি, মাছ বিক্রিও। সবটাই জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদন। ফলে রাসায়নিক থাকার ভয় নেই।

পরীক্ষামূলকভাবে এই হাট শুরু করা হয়েছে। ধীরে ধীরে শহরের আরও চারটি জায়গায় এই হাট বসবে, যাতে সারা শহরের মানুষ জৈব ফলন পান। বেশি ক্রেতা না পেয়ে জৈবচাষের ঝুঁকি বেশিরভাগ চাষিই নিতেন না। একেই উৎপাদনের খরচ বেশি। তার উপর নানা হাত ঘুরে ক্রেতাদের কাছে আসতে আসতে দাম দ্বিগুণ হয়ে যেত। এখানে কৃষকরা সরাসরি নিজেদের ফলন বিক্রি করছেন। ফলে দামও ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে থাকছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ, জানালেন কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু।

এই হাটে আরও শাকসবজি যোগানের জন্য বিধান শিশু উদ্যানের খালি জমিতে বিভিন্ন প্রকারের চাষ করছেন উদ্যোক্তারা। ‘অনেক চাল আছে লালচে অথবা কালো। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, প্রোটিনে ভরা, ওষধি গুণসম্পন্ন এই চাল ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করার ক্ষমতাও রয়েছে এই চালে। কালো বলে অনেকেই খেতেন না। প্রচারের ফলে কালো এবং লাল চালের চাহিদা বাড়ছে। চাষিরা আগে দু বিঘা জমিতে কালো চাল ফলাতেন। এখন ১৫ বিঘায় ফলান, জানালেন হাটের উদ্যোক্তা এবং বিধান শিশু উদ্যানের সম্পাদক গৌতম তালুকদার।

মোদ্দা কথা হল উদ্যোগটা এখনও ছোট হলেও কৃষি নির্ভর উদ্যোগপতিদের জন্যে অনেক সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে এই সরকারি উদ্যোগে।