"ছাই থেকে সার" বানিয়ে তাক লাগালো সিউড়ির স্কুল পড়ুয়ারা

0

যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন

রত্ন পাওয়া যাক বা নাই যাক, ওই ছাই দিয়েই নাকি সোনা ফলবে। চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে সিউড়ি-১ ব্লকের কড়িধ্যা যদুরায় মেমোরিয়াল অ্যান্ড পাবলিক ইন্সস্টিটিউশনের একদল পড়ুয়া। কী সেই চ্যলেঞ্জ চলুন শোনা যাক।

বাতাসে ছাই উড়ছে। খাবারে বিষ মিশছে। এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন পরিবেশবিদরা। চন্দ্রভাগা নদীতে ছাইজল মিশে গিয়েছে। সেই জল ব্যবহার করে চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই নিয়েও পরিবেশবিদদের কম গঞ্জনা শুনতে হয়নি কারখানা কর্তৃপক্ষকে। উড়ন্ত এই ছাই থেকে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে বারবার। 

এবার সেই ছাই-ই সোনা ফলাতে চলেছে। আর সেটা সম্ভব করছে কড়িধ্যা যদুরায়ের পড়ুয়ারা। কীভাবে ? ছাই থেকে জৈব সার তৈরি করে। কিন্তু বিষাক্ত এই ছাইকে জৈবসারে পরিনত করে চাষের কাজে লাগানোর কথা এতদিন কেউ ভাবেনি। একদল খুদে পড়ুয়া সেটাই সম্ভব করে দেখিয়েছে। জৈবসার তৈরির প্রক্রিয়াও বলে দিচ্ছে তারা। প্রথমে বর্জ্য ছাইয়ের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে সবজির উচ্ছিষ্ট। এই অবস্থায় দিন পনেরো রাখা হয়। তারপর তাতে ছেড়ে দেওয়া হয় কেঁচো। এভাবে এক মাস থাকার পর তৈরি হচ্ছ কেঁচো সার। স্কুল চত্বরে বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই দিয়ে কয়েকটি গর্ত বোজানো হয়েছে। ওই ছাইয়ের ওপর মাত্র এক ফুট মাটি ছড়িয়ে দেওযা হয়েছে। সেই মাটিতে শাকসবজির চাষ করেছে পড়ুয়ারা।

ফলন বাড়ানোর জন্য সারের পরিবর্তে গাছের গোড়ায় দেওয়া হচ্ছে ছাই থেকে তৈরি কেঁচোসার। তবে প্রশ্ন একটাই-বিষাক্ত ছাই থেকে তৈরি জৈব সার গাছের গোড়ায় দিলে বেগুন, আলু, পেঁয়াজে বিষক্রিয়া হবে না তো ? প্রশ্নের উত্তরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কল্যাণ ভট্টচার্য বলেন, ‘অনেকের মধ্যেই এই প্রশ্ন ছিল। প্রশ্ন ছিল আমাদের মনেও। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে পরীক্ষা করিয়েছি। ফল বলছে তেমন কোনও আশঙ্কাই নেই। আমার মনে হয়, কেঁচোসার তৈরির প্রক্রিয়া আরও বেশি করে প্রচার পেলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ের সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে’। শুধু তাই নয়, সার এবং কীটনাশক কিনে গাছে দিতে যে খরচ পড়ে তা অনেকের সাধ্যে কুলোয় না। চাষের খরচও অনেকটা বেড়ে যায়। এই অবস্থায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইকে কাজে লাগিয়ে কেঁচোসার তৈরি করে গাছে দিলে চাষের খরচ অনেকটা কমবে বলে মনে করেন কল্যানবাবু।

বিজ্ঞানী সলিল গুপ্ত গিয়েছিলেন স্কুলের পড়ুয়াদের এই কর্মযজ্ঞ দেখতে। ‘এই উদ্যোগ অভিনব। ওঁরা পরীক্ষাও করিয়েছেন। ছাই থেকে তৈরি জৈবসারে ফসলের মান, গুন অক্ষুন্ন থাকলে এই সার ব্যবহার করাই ভালো’, বললেন তিনি। শুধু সার তৈরি করেই হাত গুটিয়ে বসে থাকার পাত্র নয় কড়িধ্যা যদুয়ার স্কুলের পড়ুয়া এবং শিক্ষকরা। এই সার তৈরির জন্য চাষিদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিতেও তৈরি তাঁরা।