২ টাকায় ডাক্তারি করেন গান্ধীবাদী ডক্টর কোলে

0

মহারাষ্ট্রের মেলঘাট। হাড়জিরজিরে মানুষের বাস। ১৯৮৯ সালে শিশুমৃত্যুর হার ছিল প্রতি হাজারে দুশ। ১৯৮৯ সাল থেকে একটু একটু করে ছবিটা পাল্টানোর চেষ্টা করছেন একজন ডাক্তার। ডক্টর রবীন্দ্র কোলে। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী স্মিতা দীর্ঘ পঁচিশ বছর স্থানীয় উপজাতির সেবায় লেগে আছেন। 

চিকিৎসার উন্নতি এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়িয়ে তোলার কাজে আজ অনেকটাই সফল এই দম্পতি। শিশুমৃত্যুর হার কমেছে এখন হাজারে ষাট। এখানকার উপজাতি উন্নয়নই কোলে দম্পতির জীবনের লক্ষ্য।

মহাত্মা গান্ধী হলেন ডক্টর কোলের জীবনের আদর্শ। শেষের তিনটি দশক কোলে মাত্র ২ টাকা ফিজের বিনিময়ে রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সুপরামর্শ দিচ্ছেন। স্মিতা তাঁর যোগ্য সঙ্গিনী। তিনি আইনে স্নাতক। পাশাপাশি একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞও বটে। স্মিতা সব সময় স্বামীর এই জীবনযাপন মেনে নিয়ে তাঁকে সাহায্য করে পাশে থেকেছেন।এই এলাকায় এখনও মানুষ অপুষ্টিতে ভোগেন। এর জন্যে সরকারী ব্যবস্থাকে দুষছেন ডক্টর কোলে। Integrated Child Development Services এর আওতায় প্রতিটি শিশুর প্রতিদিন ১৩ গ্রাম করে ভোজ্য তেল পাওয়ার কথা। সরকারী বন্টনে তারা মাত্র ১ গ্রাম করে পায়। মেলঘাটের শিশুরা স্কুলে শুধু চালের খিচুরী খায়। কালে ভদ্রে তাতে যে ডাল থাকে তা না থাকার সামিল।

কোলে দম্পতি তাঁদের কর্মক্ষেত্র বাড়াচ্ছেন। খামারের কাজ, শক্তি উৎপাদন বা মজদুর ভাতা বৃদ্ধি এই ধরণের বিষয় নিয়ে সারাদিন লেগে আছেন। তাঁরা মহিলাদের স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং শিক্ষাবিস্তারের দিকেও সতর্ক নজর দিচ্ছেন। তাঁকে দেওয়া সম্মান পুরস্কার গ্রহণ করলেও কোনও সরকারী সাহায্য নিতে রাজি নন।