দক্ষকর্মীর অভাবই কপালে ভাঁজ ফেলেছে স্টার্টআপদের

0

আমাদের দেশে সামগ্রিকভাবে শুরুয়াতি উদ্যোগের তেজি বৃদ্ধি, তথা বিকাশের সামনে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষ কর্মীর অভাব। উদ্যোগপতিরা যাঁদেরকে কর্মী হিসাবে নিয়োগ করছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে ওই নির্দিষ্ট কাজের জন্য যে ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন, নিযুক্ত কর্মীদের মধ্যে তা অনুপস্থিত। বর্তমান একটি সমীক্ষা থেকে এমনটাই জানা যাচ্ছে। “সফল হতে গেলে একদম শুরুতেই দক্ষ কর্মচারীদের নিয়োগ করতে হবে। সংস্থার অগ্রগতির মূলে এঁদের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ন”, জানালেন এক্সিকিউটিভ সার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিং ফার্ম ‘অ্যাথেনা’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভবিষ্য শর্মা।

সৌজন্যে - শাটারস্টক
সৌজন্যে - শাটারস্টক

উনি আরো জানালেন যে এই মুহুর্তে এদেশে শুরুয়াতি উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটা তেজি ভাব দেখা যাচ্ছে। এবং বর্তমানে কর্মদক্ষ মানুষরা এইসমস্ত উদ্যোগগুলির সাথে যুক্ত হতে ভীষণভাবেই আগ্রহী। কিন্তু শুরুয়াতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ৬১ শতাংশের মতে, সঠিক কর্মী পাওয়া গেলেও শুরুয়াতি ব্যবসার সংস্কৃতির সাথে এই নতুন কর্মীবাহিনীকে খাপ খাওয়ানোটাই সবচেয়ে বড় মুশকিলের বিষয়। এছাড়াও রয়েছে কর্মনৈপুণ্যের সাথে প্রয়োজনীয় কর্মদক্ষতার মেলবন্ধনের সমস্যা। শুরুয়াতি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৪৪.৪ শতাংশই এই সমস্যার সম্মুখীন হন। অন্যদিকে স্থায়ী কর্মচারীর অভাব এবং লগ্নি সংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে হয় যথাক্রমে ৩৮.৯ শতাংশ ও ২৭.৮ শতাংশকে।

সমীক্ষা থেকে আরো জানা যাচ্ছে যে, প্রথমেই থাকে উপযুক্ত কর্মচারীদের নিয়োগ করার খরচ এবং ৬৬.৭ শতাংশ অবধি মূলধন খরচ হয়ে যায় এই খাতে। “কর্মচারীরাই যেকোনো সংস্থার সম্পদ। ডিরেক্টর, লিডার, ম্যানেজার, স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্কার থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মচারী অবধি – অর্থাৎ একটি সংস্থা চালাবার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, এঁরাই সেইসমস্ত কাজ করেন। ফলে কোনো কাজের জন্য যথাযথ দক্ষতার ব্যক্তিকে নিয়োগ করাটা স্বাভাবিকভাবেই ব্যায়বহুল”, বললেন শর্মা। কর্মচারী নিয়োগের কাজ শেষ হবার পর সংস্থাকে নজর দিতে হয় কাজের পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর দিকে। সমীক্ষা অনুসারে, এই দুই খাতে খরচ হয় যথাক্রমে মূলধনের ১৬.৭ শতাংশ এবং ১৪.৭ শতাংশ।

শুরুয়াতি উদ্যোগগুলিকে আরো একটি যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা হল মাঝারি ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, অর্থাৎ ‘ম্যানেজার’ পদে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত দক্ষতার মানুষ খুঁজে বের করা। “নিচু স্তরে ম্যানেজার নিয়োগের ক্ষেত্রে ততোটা অসুবিধা হয়না। কিন্তু মাঝারি ও উচ্চ স্তরের ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যাক্তিকে নিয়োগ করাটা যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেইরকম ব্যাক্তির অনুসন্ধানও তেমনই সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। কর্মনিপুণ মিড লেভেল ও সিনিয়র লেভেল এমপ্লয়ি নিয়োগ করার জন্য শুরুয়াতি সংস্থাগুলি রীতিমত মুখিয়ে থাকে, কারণ অধিকাংশ দক্ষ এমপ্লয়ি স্বাভাবিকভাবেই নামী ব্র্যান্ড, অধিক বেতন ও চাকরির নিশ্চয়তার কথা ভেবে বহুজাতিক সংস্থাগুলির প্রতি আকৃষ্ট হয়,” বললেন শর্মা।

তবে এই সমীক্ষা অনুসারে, শুরুয়াতি সংস্থায় যোগ দেবার জন্য কেউ পূর্বতন চাকরি ছাড়ছে, এরকম অভিজ্ঞতা রয়েছে ৫৫ শতাংশ সংস্থার। পাশাপাশি এটাও দেখা গেছে যে ৩৮.৯ শতাংশ ও ২৭.৮ শতাংশ সংস্থার মতে, সবথেকে প্রয়োজনীয় এবং একইসাথে রীতিমত সময়সাপেক্ষ বিষয় হল যথাক্রমে মাঝারি স্তরে ও উচ্চতর স্তরে কর্মী নিয়োগ। সমীক্ষায় আরো প্রকাশ যে, এইগুলির পাশাপাশি বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা ও যথাযথ পরিকল্পনার অভাবের মত বিষয়গুলিও বেশ ভাবাচ্ছে শুরুয়াতি উদ্যোগগুলিকে।