লড়াই কঠিন, তবু হারেননি অনির্বাণ

4
দারিদ্রের পাঁক থেকে বারবার পদ্মেরা ভেসে উঠেছে। কঠিন লড়াই সামান্যকে অসামান্যে বদলে দিয়েছে বারংবার। এরকম আরও একটি, নৈহাটির অনির্বাণ ঘোষের লড়াইয়ের কাহিনি। 

সংসার চালানোর মতো অর্থ ছিল না। অথচ স্বপ্ন ছিল অনেক। প্রতিভাও ছিল। টেবিল টেনিস খেলার অসামান্য প্রতিভা। মা টের পেয়েছিলেন। ছেলের টেবিল টেনিস কিট কিনে দিতে বিক্রি করে দিয়েছিলেন নিজের শখের হারমোনিয়াম। পুরস্কারে পাওয়া হারমোনিয়াম বিক্রি করে স্টিগা উইনার প্যাডেল কিনে দিয়েছিলেন। অনির্বাণ সেই আবেগ মাখা যন্ত্রণার আগুনটা নিবতে দেননি। নিজেকে তৈরি করেছেন আন্তর্জাতিক স্তরের প্লেয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। নৈহাটি থেকে কাশীপুর ক্লাব নিয়মিত যাতায়াত করেছেন শুধু নিজেকে তৈরি করার জন্যে। আজ অনির্বাণকে কে না চেনে! মিডিয়ার চর্চার বিষয় এই বিরল প্রতিভা।

২০০৭ সালের মার্চ মাস। মামাই প্রথম নিয়ে যান নৈহাটির বিজয়নগর ক্লাবে। স্টেট লেভেল খেলেছে এখানকার প্রশিক্ষণ পাওয়া বহু খেলোয়াড়। শুরুটা ওখান থেকেই। খুব দ্রুত আয়ত্ত করে ফেলেন স্কিল। ওই বছরই স্টেট মিনি ক্যাডেট অনূর্ধ্ব ১২ এর ফাইনালে চলে যান। হারেন। কিন্তু সেই হারই ওকে পরের জয়গুলোর সাহস যোগায়। পর পর জিততে থাকেন। নিজের বয়সের যতগুলো চ্যাম্পিয়নশিপে যোগ দিয়েছেন কোথাও বিফল হয়ে ফেরেননি। বয়সানুযায়ী ক্যাটাগরিতে বেশ কয়েকটি রাজ্য টুর্নামেন্ট জিতে নেন। এভাবেই রাজ্যস্তরে উঠেছেন। আন্তঃরাজ্য টুর্নামেন্টে জায়গা খুঁজে পেয়েছেন। ২০১২ সালে গুজরাটে সাব জুনিয়ার ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। ২০১৩য় বার্সেলোনায় স্প্যানিশ ওপেনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৪ সালে সাউথ এশিয়ান অনূর্ধ্ব ১৫-এ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হন। পর পর ২ বছর স্টেট চ্যাম্পিয়ন অনির্বাণ বলছিলেন তার ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনি। বাবা পাড়ায় পাড়ায় ক্রিকেট খেলে সংসার চালাতেন। বছর পাঁচেক হল মোবাইল রি-চার্জের গুমটি দিয়েছেন নৈহাটি স্টেশনে। সেই দিয়েই সংসার চলত। টুর্নামেন্টের আগে চড়া সুদে টাকা ধার করতে বাধ্য হতেন বাবা। কিন্তু কোনওভাবেই ছেলের খেলার কেরিয়ার নষ্ট হতে দেননি। কেবলই সাহস জুগিয়ে গেছেন। সম্প্রতি একটু একটু করে সুরাহা হয়েছে। এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার দেওয়া ১৮০০০ টাকা স্পোর্টস স্টাইপেন পেতে শুরু করেছেন অনির্বাণ। বাবা অভিজিৎ ঘোষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। আশায় বুক বাঁধছেন আরও বড় মঞ্চে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চির ছিপছিপে অনির্বাণ সোনা আনবেন দেশের হয়ে।