বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করেই হিট কর্নাটক

0

বছরটা শুরুই হল কর্নাটকে বড়সড় সাড়া ফেলে। ৩ ফেব্রুয়ারি, ইনভেস্টমেন্ট কর্নাটকা ২০১৬-এর উদ্ভোধনী দিনেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ এবং প্রজেক্টকে পাখির চোখ করে নিয়েছে রাজ্য। তিনি দিনের গ্লোবাল ইনভেস্টর মিট থেকে নিজেদের স্লোগান “where the future is made” কে কাজে লাগিয়ে ১,০০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ টানার পরিকল্পনা রয়েছে কর্নাটকের।

  • প্রথম দিনের ঘোষিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ তুলে ধরা হল-
  • টেলিকম, পোশাক এবং রিটেল ব্যবসায় আদিত্য বিড়লা গ্রুপ আরও ২০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।
  • বেঙ্গালুরুতে এয়ারোস্পেসে প্রযুক্তি এবং ইদ্ভাবনের কেন্দ্র ধীরুভাই আম্বানি সেন্টার গড়বে
  • বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১১,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে আদানি গ্রুপ
  • আগামী তিনি চার বছরে জেএসডব্লিউ ৩৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
  • ২০১৬য় কর্নাটকে ১০০০ কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা রবার্ট বচের।
  • হাবলিতে ইনফোসিস তার চতুর্থ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গড়ার ঘোষণা করেছে।
  • উইপ্রোর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবসায় কর্নাটকে আরও ২৫০০০ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা।
  • কেন্দ্রীয় সড়ক মন্ত্রক কর্নাটকে আরও ৪০০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করবে। ২০১৬র ডিসেম্বরের আগে রাস্তা সংস্কারের জন্য এই মন্ত্রক ৬০০০০ কোটি টাকা বিনয়োগের ঘোষণা করেছে।
  • ২০১৭য় জাতীয়সড়ক উন্নয়নে আরও বাড়তি ৪০০০০ কোটি টাকা এবং বন্দরের উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।
  • রাজ্য সরকার কর্নাটকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফার্মাসিউটিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রস্তাব রেখেছে।
  • উত্তর কর্নাটকে ১০৩ মিলিয়ন টনের ইউরিয়া প্ল্যান্ট এবং বেঙ্গালুরুর সেন্ট্রাল ইন্সস্টিটিউট অব প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার করার পরিকল্পনা করছে।

‘শিল্প গড় অথবা মর’- এম বিশ্বেশ্বরায়ার এই কথার রেশ টেনে কর্নাটকের শিল্পমন্ত্রী আর ভি দেশপাণ্ডে বলেন, এটাই একমাত্র শ্লোগান, যাকে অনুসরণ করে রাজ্য কাজ করে চলেছে। বিনিয়োগকারীদের প্রতি তাঁর আহবান, ‘আবিষ্কার করুন, অভিনবত্ব আনুন আর কর্নাটকে বিনিয়োগ করুন’। কারন ‘ভবিষ্যৎ এখানেই গড়া হবে, এখনই হবে’।

ইনভেস্ট কলকাতা মিটের আগে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া জানান, রাজ্যের শিল্পনীতির লক্ষ্য ২০১৪-১৯ বার্ষিক ১২ শতাংশ বৃদ্ধি এবং ৫ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ টানা। একই সঙ্গে আগামী ৫ বছরে ১৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান করার লক্ষ্যও রয়েছে। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ‘গত ২ বছর আমারা সাড়ে চারশোর বেশি প্রজেক্ট অনুমোদন করেছি। যার ফলে ১.২১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ এসেছে এবং ২.৪৪ লক্ষ মানুষের কাজের সংস্থান হয়েছে। কিন্তু আরও অনেক কিছু করতে হবে'।

ইভেন্ট তাবড় তাবড় শিল্পপতি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল হেড, বিদেশি অতিথি এবং রাজনীতিবিদের উপস্থিতি, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির হাত দিয়ে উদ্ভোধন বুঝিয়ে দিয়েছে এই রাজ্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ব্যবসার সম্ভাবনা থেকে ফায়দা তুলতে চেষ্টার ত্রুটি রাখবে না।

রাজ্যে উৎপাদিত জুঁই ফুলের সুগন্ধ অনেকটা পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছে। এটাই একমাত্র উদ্যানপালন পণ্য যার ব্যবসায়ীক সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

কর্নাটকে বিনিয়োগের ১০টি কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে রাজ্য সরকার বুঝিয়েছে কীভাবে রাজধানী বেঙ্গালুরুতে কাজের দারুণ পরিবেশ রয়েছে। যার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে ইভেন্টে প্রতিটি বক্তার মুখে।

প্রথমে BEML এর মতো বড় বড় শিল্প সংস্থা এবং ইন্ডিয়ান ইন্সস্টিটিউট অব সায়েন্সের মতো উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র এবং বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্টার্টআপের বাড়বাড়ন্ত হয়ত ট্রেন্ডটা সেট করেই দিয়েছে। তবু মানতে হবে রাজ্যের রাজধানীর শিল্পবান্ধব পরিবেশ বৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। নারায়ণ মূর্তি এবং আজিম প্রেমজির মতো শিল্পউদ্যোক্তারা সতর্ক করেছেন, শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে পরিকাঠামোতে জোয়ার আনতে হবে।

তিনদিনের এই ইভেন্টে ঢুঁ মারলেই গোটা রাজ্যের ছবি পরিষ্কার হয়ে যায়। কৃষি থেকে বিদ্যুৎ, বায়োটেক, পর্যটন, এয়ারোস্পেস, তথ্য-প্রযুক্তি সহ ২২টি সেক্টরের উন্নয়নমূলক কাজ তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

লেখক-দীপ্তি নায়ার, অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস