The Grid কলকাতায় একই খাঁচায় খানা-পিনা 

1

কলকাতায় ভালো ক্যাফে পাবেন। মোগলাই খানা, চাইনিজ নুডলস, বাঙালি সুক্তো মুগের ডাল, কাগজি লেবু মাছের ঝোল। আর মাল্টি কুইজিনের তো হাজার একটা রেস্তোরাঁ। কিন্তু সাবালক শহরে মাইক্রোব্রিউরির হাতে গোণা দুটো কি একটি। কান্ট্রি রোডসের সঙ্গে ইওর স্টোরি বাংলায় আগেই আলাপ হয়েছে। এবার চিনিয়ে দেব দ্য গ্রিড।

নামের সঙ্গে মিলিয়ে ইন্টিরিয়র নাকি ইন্টিরিয়রের সঙ্গে মিলিয়ে নাম, এই তর্ক চলতেই পারে। কারণ ভেতরে ঢুকলেই মনে হবে গ্রাফ পেপারের কোনও থিমে আপনি ঢুকে পড়েছেন। দশ হাজার স্কোয়ার ফিটের গ্রিডে নানা সাইজের খাঁচা আপনার সামনে নেচে বেড়াচ্ছে। নিভু নিভু আলোয় ঝাঁ চকচকে ইন্টিরিয়রে স্মার্ট ডেকোরেশন। খাঁচা খাঁচা আর খাঁচা। গুনগুন করে উঠতেই পারেন 'খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়...।' ডান দিকে চোখ পড়তেই ফিরে যেতে পারেন ছোটবেলার স্মৃতি ভরা লুডোর ছকে। মজার সবে শুরু। বার কাউন্টারের উল্টো দিকে লম্বা টানা টেবিল আর উঁচু চেয়ার। তারপরই দ্যা কেজ, যেখান থেকে ব্রিউরি থেকে ডাইনিং এরিয়া সবটাই দেখা যায়। কেজের পাশেই স্মোকিংজোন। সেখানে নানা ধরনের হুক্কার সমাহার। গার্ডেন স্টাইল বেঞ্চ চেয়ার ক্লাইম্বার দিয়ে সাজানো বিয়ার গার্ডেন। বিয়ার উপভোগের জন্য এর থেকে ভালো জায়গা কলকাতায় ভাবাই যায় না। তবে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং হল অ্যাসাইলাম। এই অংশের সবকিছু সাদা। নেট চেয়ার, দেওয়ালে সাদা কুশন দিয়ে অদ্ভুত ভালোলাগার পরিবেশ। বয়স্কদের এনজয় করার আলাদা জায়গা, গ্রিড এক্স।

তরুণ উদ্যোগপতি গৌরব কারনানির এই কারসাজি। নিজে বিয়ারের পোকা। নানা ফ্লেভারের বিয়ার তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতে ভালোবাসেন। একটা সময় যখন নিজের ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছিলেন তখন শহরে তেমন ভালো বিয়ার পাওয়া যেত না। হঠাৎই এলো আইডিয়াটা। গ্লিসারিনে ভরা সোনালি তরল নয়, ঠিক ঠাক বিয়ার। তাহলেই কেল্লা ফতে। ঠিক যেমন ভাবা তেমন কাজ। সাজিয়ে ফেললেন বার কাম ক্যাফে কাম রেস্তোরাঁ দ্যা গ্রিড।

উদরপূর্তির বন্দোবস্তও পাকা। জুহু জিমখানা নুডলস। সবজিতে ভরা ফ্রায়েড নডুলস। সবুজ চাটনি দিয়ে পরিবেশন করা হয়। প্লেট প্রতি ১৪০ টাকায় পয়সা উসুল। স্বাদেও হিট, পকেটেও ফিট। মাটন কিমা গার্লিক নানা রোল, নামে বোঝা যায় কী থাকতে পারে তাতে। পরোটায় মোড়া কিমা স্বাদেও অপূর্ব, মিস করবেন না কিন্তু। কলকাতার বিরিয়ানির মতোই দেখতে চিকেন ইরানি বিরিয়ানি চেখে দেখতে পারেন। গুপ্তাজি চকোলেট টোস্ট, বলা যায় ডেজার্ট। গ্রিলড ব্রেডের সঙ্গে চকোলেট, বাদাম আর ক্যারামেল সস। যারা চকোলেট ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই টোস্ট গ্রিড এক্সক্লুসিভ বলা যায়।

গৌরব মনে করেন গ্রিড হল ‘অ্যা কমপ্লিট এন্টারটেইনমেন্ট’। তবে বরাবর তিনি চেয়েছেন, যারা বিয়ার পছন্দ করেন গ্রিডে এসে যেন তৃপ্তি পান। মাইক্রোব্রিউরি আরও ঢেলে সাজিয়েছেন। ‘চার ধরনের স্বাদের বিয়ার পাওয়া যাবে এখানে। ক্যালডেরা, পাইডমোন্ট, ওসবোর্ন এবং হগব্যাক। যখন গ্রিড শুরু করেন তখনই বার লাইসেন্স ছিল। মাইক্রোব্রিউরি হওয়ার পর মনে হচ্ছে এবার আমার গ্রিড স্বয়ংসম্পূর্ণ’, ক্যালডেরায় চুমুক দিতে দিতে বললেন গৌরব। গ্রিডের এই বিয়ার ম্যাজিকের মূল কারবারি ব্যাঙ্গালুরুর ব্রিউমাস্টার কৌশিক বিশ্বনাথ। গত পাঁচবছর ধরে এটাই কৌশিকের ব্যবসা। ‘ব্রিউয়িং আদতে স্থানীয় উপকরণ দিয়ে নানা স্বাদের অল্প অল্প বিয়ার তৈরি করা। শুধু তাই নয়, নিয়মিত স্বাদও বদল করতে হয়। আমি গন্ধরাজ ব্যবহার করেছি এখনও পর্যন্ত। পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। স্থানীয় চেনা জিনিসপত্র আর কী বিয়ারে নিয়ে আসতে পারি দেখছি’, তবে সেটা সিক্রেটই থাক,মজা করে বলছিলেন কৌশিক।