চা-শ্রমিকদের হকিকত

0

অসমে ৮০০ টি চা বাগান। দেশের মোট চা উৎপাদনের ৫২% এই রাজ্যে উৎপন্ন হয়,যা হিসেবমতো পৃথিবীর মোট চা উৎপাদনের ছ'ভাগের এক ভাগ। ভাবতে লজ্জা করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে আজও ইংরেজ আমলের শোষনের শ্রমিক নীতি মেনে চলা হয়। মিথ্যা ট্রেড ইউনিয়নের অত্যাচার ও মালিকের লোভের শিকার হন শ্রমিকরা। স্বাধীন দেশ ও গণতন্ত্র তাঁদের পদদলিত,অবহেলিত জীবন উপহার দিয়েছে। এটা শুধু শ্রমিক আইনের পরিপন্থী তাই নয়, ভারতীয় সংবিধান স্বীকৃত মানবাধিকার নীতিও এক্ষেত্রে অস্বীকৃত।

অসমে মাতৃ মৃত্যুর হার সর্বাধিক। এখানকার শ্রমিকরা ভীষণ অপুষ্টিতে ভোগেন। অস্বাস্থ্যকর শৌচব্যবস্থা। প্রাথমিক শিক্ষার অভাব। এই রাজ্যে বহু শিশু শ্রমিক দেখা যায়। চরম দারিদ্র্য প্রতি বছর অনেক চা বাগানের শ্রমিকের প্রাণ ছিনিয়ে নেয়। শ্রমিক মৃত্যুর সংখ্যা আঁতকে ওঠার মতো। চা বাগানের কর্মীদের খুবই কম পারিশ্রমিক। তাঁরা সামাজিকভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত। অপুষ্টি ও অ্যানিমিয়া মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিদিন।

উত্তরবঙ্গের চা বাগানের পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম। সুপ্রিম কোর্টের এক advisory committee ( Right to Food campaign )শ্রমিকদের কর্ম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তাঁদের রিপোর্ট বলছে গত এক বছরে বুন্দাপানি ও তার আশেপাশের আরও চারটি বন্ধ চা বাগানের ৬৯ জন কর্মী মারা গেছেন। দার্জিলিং ও ডুয়ার্সের চা বাগানের প্রায় ১৬,০০০ মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার।

চায়ের জন্ম চীনে। চীনেই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয়। এরপর ভারতের স্থান। দেশে উৎপাদিত চায়ের ৭০% ভারতীয়ই চা খান। পৃথিবীতে আমরাই সবচেয়ে বেশি চা খাই। এসব অনেকেরই জানা। তবে যে খবরটা দেশবাসী রাখেন না, সেটা হল ভারতীয়দের সবচেয়ে প্রিয় পানীয় উৎপাদনকারী শ্রমিকরা কী করুণ জীবনযাপন করেন! কত স্বল্প তাঁদের বেতন। গড়ে পঞ্চাশ টাকাও দিনে তাঁদের রোজগার নেই।

এরই মধ্যে এক চিলতে আশার আলো দেখা গেছে। কেন্দ্র সরকার West Bengal labour department কে চা বাগানের শ্রমিকদের প্রকৃত পরিস্থিতির ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় শিল্পবাণিজ্য মন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ সম্প্রতি জানিয়েছেন শ্রমিকদের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি চিন্তিত। বন্ধ চা বাগান খোলার বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তিনি আলোচনায় বসবেন। কেন্দ্র সরকার বন্ধ চা বাগানের দায়িত্ব নেবেন কিনা,এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,এভাবে সমস্যার সমাধান হবে না। এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের জানান, পানীয় জল,শিক্ষা,স্বাস্থ্য,খাদ্য,চিকিৎসা,বিদ্যুৎ,সঠিক বেতন ও Provident Fund ইত্যাদি সমস্যার সমাধানের জন্য রিপোর্ট তৈরি হওয়া খুব জরুরী। PTI এর তথ্য অনুযায়ী বৈঠকে টি বোর্ডের চেয়ারম্যান,Labour department এর অফিসাররা, স্থানীয় MP আলুওয়ালিয়া, স্থানীয় MLA গৌতম দেব এবং অনেক trade union সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমস্যা অনেক গভীর ও ব্যাপক। তবুও জন জাগরণ প্রয়োজন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে উদ্যোগী হলে,চা শ্রমিকদের কষ্ট নিশ্চয়ই লাঘব হবে।