নিজেদের কর্মী এবং কর্মসংস্কৃতিতে আস্থা রেখে সফল InMobi

0

InMobi এর সিইও নবীন তিওয়ারি। বয়সেও নবীন। টেকস্পার্কসের মঞ্চে এসে বললেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। জানালেন, সংস্থার শুরুতে নানা ভুলভ্রান্তি কীভাবে শুধরে নিয়েছেন একে একে। ‘মানুষ চায় স্বাধীনতা। আমরা এখন আর স্কুলে পড়ি না, বড়দের সঙ্গে কাজ করতে হয়। যদি আমরা অর্থবহ কাজ করি, কর্মীদেরও শেখাতে হবে আমাদের জন্য অর্থবহ কাজ করতে’, বোঝান নবীন। জানালেন, কীভাবে কিছু বুঝে ওঠার আগেই InMobi তে শুরুর দিকে জটিল পারফরমেন্স মেনেজমেন্ট সিস্টেমে কতটা সময় এবং শ্রম নষ্ট হয়েছে।

‘সবাই আমরা মুখে বলি আমাদের লোকদের(পড়ুন কর্মী) বিশ্বাস করতে হবে। বাস্তবে কিন্তু তা হয় না। যখনই আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করব, তাদের পারফরমেন্সও পালটে যাবে’, বলেন নবীন, সঙ্গে জানিয়ে দেন, অথরাইজেশন বা অ্যাপ্রুভাল-এই শব্দগুলি তাঁরা তুলে দিয়েছেন। তিনি যে ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ, দাবি সিইওর। মাত্র এক শতাংশ কর্মী স্বাধীনতার অপব্যবহার করেন। তিনি স্বীকার করেন, এই ব্যবস্থা চালুর পর ধরেই নিয়েছিলেন সব উচ্ছন্নে যাবে। আসলে তা হয়নি। স্বাধীনতার অপব্যবহার সেভাবে হয়নি, বরং কাজের গতি মসৃণ হয়েছে।

‘আমরা দেখেছি, বেশিরভাগ কর্মী সংস্থা ছাড়েন কারণ তাঁরা বৃদ্ধি দেখতে পাননি। আমরা সেটাকে বদলে দিতে চেয়েছিলাম, তাই ইন্টারনাল হায়ারিং চালু করি। আমাদের ভাবনায় ছিল, কেন আমরা নিজেদের কর্মীদের নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছি না। একটা নতুন কিছু চেষ্টা করতে অসুবিধে কোথায়’, বলেন নবীন। স্টার্টআপটি নিজেই যেহেতু নতুন এই পদ্ধতি চালু করে, ফলে ৩৫ শতাংশ পদ সেখানকারই বাছাই করা ছেলেমেয়ে দিয়ে পূরণ হয়। ‘সংস্থা তৈরির সময় প্রতিষ্ঠাতাকে জানতে হবে সেটি ছোট্ট পরিসরে নির্দ্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য, নাকি সারা বিশ্বের জন্য? পরবর্তী ক্ষেত্রে দেখা যায়, নতুন একটা সংস্কৃতি গড়ে তোলার চাইতে, চালু সংস্কৃতি থাকাই ভাল। সংস্থার ছোট অবস্থা থেকেই এই ব্যবস্থা শুরু করা উচিত’। তাঁর সংযোজন, সংস্থার কর্মসংস্কৃতি তৈরি করতে উদ্যোক্তাকেই সময় বিনিয়োগ করতে হবে।

‘ক,খ,গ এ এবং আরও অনেক সংস্থাকে যদি ছাপিয়ে যেতে হয় তাহলে কর্মসংস্কৃতি তৈরি করতে নিজের সময় বিনিয়োগ করুন। ওয়ার্ক কালচার তৈরি করতে এইচআর টিমের জন্য ডিউটি বাইরে থেক আমদানি করবেন না’, নবীন এই বলে বক্তৃতা শেষ করেন।