পর্যটকদের জন্যে UtsavApp বানিয়ে চমকে দিল কলকাতার দুই তরুণ

0

আজ কোথায় পোনম, কোথায় বিহু... কোথায় ছট...দুর্গাপুজো... দসেরা... উরুস... ক্রিসমাস... কখন কেন্দুলির মেলা... কখন শোনপুর... কবে কুম্ভ... গঙ্গাসাগরই বা শুরু হল নাকি! বছরভর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে হাজার হাজার উৎসব। কখনও তা ধর্মীয় কখনও সামাজিক। কোনও উৎসব ছোট একটি এলাকায় আবদ্ধ তো কোনোটা ব্যাপ্ত অনেকটা এলাকার মানুষকে নিয়ে। এই ছোট বড় উৎসবগুলির কোন সুসংবদ্ধ তালিকা, বিস্তারিত তথ্য চট জলদি পাওয়া বেশ মুশকিল। 

রাজ্যগুলির পর্যটন দফতরের পক্ষ থেকে নিজ নিজ রাজ্যের উৎসবের তালিকা তৈরির চেষ্টা হয়েছে অনেক। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। প্রতিটি উৎসব বা মেলার সব খুঁটিনাটি পাওয়া যায় না। এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে কলকাতার দুই তরুণ সুমিত দাস আর অভীক সাহা। বানিয়ে ফেলেছেন অভিনব অ্যাপ। নাম উৎসব অ্যাপ। ভারতের সর্ব প্রথম সামাজিক উৎসবের খুটিনাটি পাবেন এই অ্যাপে। স্থানীয় উৎসব ও হস্তশিল্পজাত পণ্যকে তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য এই অ্যাপের।

সুমিত বললেন, “কোন স্থানীয় উৎসব বা মেলার যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় পাওয়া কঠিন, মানে ধরুন মেলার বিস্তারিত বিবরণ, কী ভাবে পৌঁছবেন, কী কী দোকান পাবেন এইসব এক জায়গায় পাওয়া যায় না, এই অ্যাপের মাধ্যমে আমরা ঠিক এই কাজটাই করতে চাইছি”।

এই অ্যাপের মাধ্যমে স্থানীয় মেলার আয়োজক ও হস্তশিল্পীরা সহজেই নিজেদের পণ্য প্রদর্শিত করতে পারবেন এবং ক্রেতা আর অতিথীদের মেলায় বা নিজের দোকানে আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন। ছবি শেয়ার করা, মন্তব্য করা এবং সরাসরি উৎসবের আয়োজকদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে এই অ্যাপে ফলে পর্যটক খুব সহজেই জেনে নিতে পারবেন যাবতীয় খুঁটিনাটি।

এই অ্যাপের মাধ্যমে আরও একটি সমস্যারও সমাধান হবে বলে মনে করছেন অ্যাপের উদ্ভাবকরা। ই-কমার্স ব্যবসায় প্রচার ও মাল পরিবহণের অত্যধিক খরচের জন্য হস্তশিল্পীরা অনেক সময়ই অংশগ্রহণ করে উঠতে পারেন না এই বাজারে। এই অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য জেনে ক্রেতা সেই মেলা বা উৎসবে উপস্থিত হয়ে সরাসরি শিল্পীর থেকে জিনিস কিনতে পারবেন।

কলকাতার দূর্গাপুজোকেই অ্যাপটি লঞ্চ করার জন্য বেছে নিয়েছিলেন সুমিতরা। কলকাতার যাবতীয় পুজো প্যান্ডালের খোঁজ দিয়েছিল এই অ্যাপে। কলকাতার পুজোর গাইড হিসেবে অ্যাপটির হয়ে প্রচার করেছিল কলকাতা পুলিস।

কলকাতাকে উত্তর, দক্ষিণ, মধ্য, পূর্ব, বেহালা, বন্দর এলাকা, দক্ষিণ পূর্ব ও যাদবপুর এই আটটি এলাকায় ভাগ করেছিল উৎসব অ্যাপ। কোন একটি এলাকা বেছে নিয়ে সেখানকার কোন পুজোতে ক্লিক করলেই গুগল ম্যাপে পাওয়া যাচ্ছিল সেই পুজোর সঠিক অবস্থিতি।

এছাড়াও ছিল এসওএস ক্লিক, বিপদে পড়লে নিজের অবস্থান আত্মীয় বন্ধুদের জানানো যায় এই বোতাম টিপেই। পুজোর সময়ে ২০ হাজার ডাউনলোড হয়েছে উৎসব অ্যাপ। এরপর কলকাতার অন্যতম বড় উৎসব বইমেলাতে ম্যানেজড কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায় উৎসব অ্যাপ।

আপাতত নিজেদের কাজ শুরুর জন্য বিনিয়োগ সংগ্রহের চেষ্টা করছে অ্যাপটি। প্রথম লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গের সব গুরুত্বপূর্ণ মেলা ও উৎসবকে নিজেদের অ্যাপে নিয়ে আসা। এরমধ্যে থাকবে বিভিন্ন গ্যালারি, পুজোতে ঠাকুর দেখা, ভোট ইত্যাদি সবই রাখবে তারা। এছাড়াও এর মাধ্যমে স্টলের মালিকদের যুক্ত করবে তারা, সেখানে তাদরে হস্তশিল্পজাত দ্রব্যের প্রদর্শন, ছাড়, আগে থেকে বুক করার সুবিধা ইত্যাদি রাখা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে ভারতের আরও পাঁচটি শহরে এই অ্যাপ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।