ভয় পেও না বাংলাদেশ, ভয় তোমায় মানায় না

1
তুমি ভয় পেও না ঢাকা। কারণ ওরা তোমাকে ভয় দেখাতে পারবে না। বরকতদের রক্তে রাঙা সবুজে সবুজ বাংলাদেশ কখনও কারও চোখ রাঙানি সহ্য করেনি। মুখের ওপর জবাব দিয়েছে। ওরা তোমার মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তুমি গর্জে উঠেছিলে বাংলায়। তোমার বুকের থেকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল তোমার শান্ত সন্তানদের। তুমি তাঁদের ক্রুদ্ধ বাঘিনীর মত সমঝে দিয়েছিলে। তোমার শতচ্ছিন্ন ইতিহাসে অনেক রক্তের দাগ। অনেক বিচ্ছেদের ব্যথা। শীতলক্ষ্যার জলে সেসব ধুয়ে তুমি ক্ষত-রহিত হয়ে উঠেছ বাংলাদেশ। তুমি ভয় পেও না। ভুলে যেও না তোমার বীর সন্তানদের কথা। ভুলে যেও না ওরা মানবিকতার শত্রুদের কীভাবে কোণঠাসা করে দিতে পেরেছিল।

যেদিন তোমার ঘর থেকে রবীন্দ্রনাথের ছবি ছিনিয়ে নিয়েছিল ওরা, সেদিন তুমি গেয়ে উঠেছিলে মারের সাগর পাড়ি দেওয়ার গান। সেদিন তোমার মেরুদণ্ডে যে বৃহত্তর মানবিকতা বিদ্যুতের মত খেলে গিয়েছিল সে তোমাকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। অত্যাচারীর চোখে চোখ রাখতে শিখিয়েছে। কালো শুক্রবারের রক্তাক্ত কাহিনি তোমাকে তাই ভয় দেখাতে পারবে না। তুমি ভয় পেও না। এর জবাব দাও।

গোটা দুনিয়াকে বুঝিয়ে দাও বাংলাদেশের সরস মাটিতে সন্ত্রাসের চাষ হয় না। সোনার বাংলায় এসব অন্ধকারের জায়গা নেই। সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়ানো যে তোমার ধাতে সয় না সেকথা ওদের বুঝিয়ে দাও। ওদের চোখ রাঙানিকে তোয়াক্কা করা মানে মানবিকতার দুর্দিন ডেকে আনা। উগ্র ধর্মান্ধদের বুঝিয়ে দাও ইসলামের শান্তিতে কোনও ব্যাঘাত সহ্য করবে না তুমি। ব্যাঘ্র বাহিনী সেই নন্দিনীর মতো তোমার খড়্গ আঁধার মহিষকে কেটে দুটো টুকরো করে দেবে।

তুমি ভয় পেও না। এর জবাব দাও। ভাষা শহিদদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মোমবাতি জ্বেলে প্রতিবাদ করলেই ওদের ভাবোদয় হওয়ার নয়। বাংলাদেশকে শিক্ষার সেই স্তরে উন্নীত হতে হবে যেখানে এই অমানবিক অন্ধকারের মগজ ধোলাই ডিঅ্যাক্টিভেটেড হয়ে যাবে। বাংলাদেশের সমস্ত স্তর থেকে এই রক্তপিপাসুদের খুঁজে বের করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মধ্যেই চোখে পড়ে নক্কারজনক সমস্ত পোস্ট। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের আর্তনাদ। এসবে গা সওয়া হয়ে গেলে জেনো বাংলাদেশ তুমি পিছিয়ে যাচ্ছ। তুমি হেরে যাচ্ছ। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা সবার আগে তোমাকে ভাবতে হবে। উগ্র ধর্মান্ধ সেই সব অত্যাচারী মানুষগুলোকে চিহ্নিত করতেই হবে। যারা বিশ্বের মানচিত্রে তোমাকে কলঙ্কিত করতে চায়, তোমার মাতৃত্বকে অপমান করে।

ধর্ম! সে ইসলাম হোক বা হিন্দুত্ব বা ক্রিস্চানিটি বা বৌদ্ধ, কেউ মানুষকে খুন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার কথা বলে না। সকলেই চেয়েছে মানুষের শান্তি, মানুষের সমৃদ্ধি এবং মানবিকতার জয়জয়কার। হযরত মোহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও নির্বিচারে খুন করার ফতোয়া দেননি। ইসলাম বিশ্বের সব থেকে নবীন ধর্ম। ঔদার্যের বাণী নিয়ে গোটা দুনিয়া জয় করতে চেয়েছিল। আর আজ যারা ইসলামের নাম করে গোটা দুনিয়ায় সন্ত্রাসের ব্যবসা করছে তাদের ধিক। কারণ তাদের অপকর্মে ইসলাম কলুষিত হচ্ছে।